কারা সংসদে সক্রিয়? কারা পুরো বছর একটিও প্রশ্ন করলেন না? কেই-ই বা একটা কথাও বললেন না কোনও বিতর্কে? বিশ্লেষণ বলছে, ছবিটা বড্ড মেলানো-মেশানো।

ছবি: সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 2 August 2025 19:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক বছর পূর্ণ করল ১৮তম লোকসভা (Lok Sabha)। আর সেই সঙ্গেই প্রকাশ্যে এল বিজেপি সাংসদদের (BJP MP) পারফরম্যান্স রিপোর্ট কার্ড (Report Card)। কারা সংসদে সক্রিয়? কারা পুরো বছর একটিও প্রশ্ন করলেন না? কেই-ই বা একটা কথাও বললেন না কোনও বিতর্কে? বিশ্লেষণ বলছে, ছবিটা বড্ড মেলানো-মেশানো।
প্রশ্নহীন মৌন সাংসদ
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ (পাটনা সাহিব), রাধামোহন সিংহ (পূর্ব চম্পারণ), মহেশ শর্মা (গৌতম বুদ্ধ নগর), সাক্ষী মহারাজ (উন্নাও), উদয়নরাজে ভোঁসলে (সাতারা), অভিজিৎ গাঙ্গোপাধ্যায় (তমলুক) এবং রাজপালসিং যাদব (পঞ্চমহল)— এঁরা সাতজন গত এক বছরে লোকসভায় একটি প্রশ্নও তোলেননি।
একটিও বক্তব্য নয়
প্রশ্ন না তোলা সত্ত্বেও কেউ কেউ অন্তত বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু ৯ জন সাংসদ রয়েছেন, যাঁরা একবারের জন্যও আলোচনায় অংশ নেননি। তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নারায়ণ রানে, সৌমেন্দু অধিকারী (কাঁথি), জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো (পুরুলিয়া), শিবমঙ্গল সিং তোমার (মোরেনা), কালীচরণ সিং (চতরা), মহেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি (দেওয়াস), চিন্তামণি মহারাজ (সুরগুজা), সাক্ষী মহারাজ ও উদয়নরাজে ভোঁসলে।
টুঁ শব্দটি না করার সাফাই
পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো দাবি করেছেন, সুযোগ পেলেও নানা কারণে কথা বলা সম্ভব হয়নি। আবার মোরেনার সাংসদ শিবমঙ্গল তোমার জানান, তিনি “সাধারণ কর্মী”, সংসদে বড় নেতারাই কথা বলেন।
১০০ শতাংশ উপস্থিতি যাঁদের
সক্রিয়তার ক্ষেত্রে নজর কেড়েছেন যাঁরা, তাঁদের অন্যতম নিশিকান্ত দুবে (গোড্ডা), জগদম্বিকা পাল (বস্তি), দিলীপ সাইকিয়া (আসাম), রামবীর সিং বিধুরি (দিল্লি), শঙ্কর লালওয়ানি (ইন্দোর), জানার্দন মিশ্র (রেওয়া), মন্নালাল রাওয়াত (উদয়পুর), বিদ্যুতবরন মাহাতো (জামশেদপুর) প্রমুখ। এক বছরের চারটি অধিবেশনেই তাঁদের উপস্থিতি শতভাগ।
হেমা-কঙ্গনা ও অনুপস্থিতির তালিকা
অভিনেত্রী-সাংসদ হেমা মালিনী লোকসভায় উপস্থিতি মাত্র ৪০ শতাংশ। কঙ্গনা রানাওয়াতের উপস্থিতি ৭৯ শতাংশ। তবে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে কঙ্গনার সংখ্যা ৭৩টি, যা হেমার চেয়ে অনেক বেশি (১৬টি)। বিতর্কে অংশগ্রহণের সংখ্যাও কঙ্গনার (৯টি) হেমার (৪টি) দ্বিগুণেরও বেশি।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন যাঁদের
ফুলপুরের প্রথমবারের সাংসদ প্রবীণ প্যাটেল প্রশ্ন তুলেছেন ১৬০টি। প্রবীণ সাংসদ ভরতরুহরি মাহতাব ১৫২টি, স্মিতা ওয়াঘ ১৫০টি প্রশ্ন করেছেন। বিদ্যুতবরন মাহাতো (১৪৮), পি পি চৌধুরী (১৪২), রবি কিশন (১৩৮), নিশিকান্ত দুবে (১২৩), এঁরা সকলে প্রশ্ন তুলেছেন শতাধিক।
বিতর্কে তুখোড় যাঁরা
জগদম্বিকা পাল একাই ৭৫টি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। তাঁর পরে রয়েছেন নিশিকান্ত দুবে (৪২টি), দিলীপ সাইকিয়া (৩৯টি), ভরতরুহরি মাহতাব (৩১টি), পি পি ও সুধীর গুপ্ত (৩০টি), স্মিতা ওয়াঘ ও মালবিকা দেবী (২৮টি)।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের দহরম-মহরম
শিবরাজ সিং চৌহান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ায় উপস্থিতির হিসাব তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বাসবরাজ বোম্মাই (৮৩% উপস্থিতি) প্রশ্ন তুলেছেন ৭৫টি। তাছাড়া দুটি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। জগদীশ শেট্টার (৮৫%) তুলেছেন ৮৫টি প্রশ্ন। ত্রিপুরার বিপ্লব দেব (৯৩% উপস্থিতি) তুলেছেন ৭২টি প্রশ্ন, অংশ নিয়েছেন ৬টি বিতর্কে। ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত (৯৬%) প্রশ্ন তুলেছেন ৫৯টি।
সেলেব সাংসদদের মধ্যে কে কতটা সফল?
অরুণ গোবিল (৯২% উপস্থিতি), তুলেছেন ৮১টি প্রশ্ন, অংশ নিয়েছেন ১৩টি বিতর্কে। এই পরিসংখ্যান কঙ্গনা বা হেমার তুলনায় যথেষ্ট মজবুত।