একসময় বাবরি মসজিদ যেখানে ছিল সেখানেই আজ রামের মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে। এই ইস্যু নিয়ে বিতর্ক কয়েকশো বছর ধরে বহাল ছিল। পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে দীর্ঘ শুনানির পর অবশেষে মামলার গতি হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 November 2025 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২০ সালের অগস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) অযোধ্যার (Ayodhya) রাম মন্দিরের (Ram Temple) ভূমি পুজো (Bhoomi Puja) করেছিলেন। পরে ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি গর্ভগৃহে রামলল্লার প্রাণ প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়। আর ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর মন্দিরের নির্মাণ কাজ শেষে বিশেষ গেরুয়া ধ্বজা উত্তোলিত হয়েছে। যে কাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অযোধ্যাজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। ধ্বজা উত্তোলনের (Flag Hoist) দৃশ্যকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী বলেন - ‘নতুন জাগরণের প্রতীক’। মোদীর আরও সংযোজন, আজ শুধু অযোধ্যা (Ayodhya) নয় - গোটা ভারত, গোটা বিশ্ব রামময়। রামভক্তের হৃদয়ে আজ অপরিসীম তৃপ্তি, অসীম কৃতজ্ঞতা আর অলৌকিক আনন্দের স্রোত।
একসময় বাবরি মসজিদ (Babri Mosque) যেখানে ছিল সেখানেই আজ রামের মন্দির (Ram Temple) গড়ে তোলা হয়েছে। এই ইস্যু নিয়ে বিতর্ক কয়েকশো বছর ধরে বহাল ছিল। পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) হস্তক্ষেপে দীর্ঘ শুনানির পর অবশেষে মামলার গতি হয়। তাই অবশ্যভাবে বাবরি মসজিদ থেকে রাম মন্দির - এই যাত্রাপথে রয়েছে অনেক তথ্য।
মসজিদ থেকে মন্দিরের যাত্রা
অযোধ্যা বিতর্কের সূত্রপাত ১৫২৮ সালে মুঘল সম্রাট বাবরের (Babar) সেনাপতি মির বাকির উদ্যোগে বাবরি মসজিদ (Babri Mosque) নির্মিত হয়। বহু বছর এই স্থাপনা নিয়ে বিরোধিতার কোনও উল্লেখ না থাকলেও, উনবিংশ শতকের শেষভাগে আইনি টানাপোড়েনের সূচনা হয়। ১৮৮৫ সালে মহন্ত রঘুবীর দাস মসজিদের বাইরে ছাউনি নির্মাণের অনুমতি চাইলে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।
১৯৪৯ সালে কেন্দ্রীয় গম্বুজের নীচে রামলালার মূর্তি (Ramlala) বসানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। হিন্দু ও মুসলিম - উভয় সম্প্রদায়ই মালিকানা দাবি করে মামলা দায়ের করে। প্রশাসন জায়গাটিকে বিতর্কিত ঘোষণা করে এবং মসজিদের দরজা বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তী কয়েক দশকে একের পর এক মামলা জমা পড়তে থাকে - গোপাল সিমলা বিষারদ (১৯৫০), নির্মোহী আখড়া (১৯৫৯), সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াক্ফ বোর্ড (১৯৬১)। ১৯৮৬ সালে স্থানীয় আদালতের নির্দেশে হিন্দুদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হলে বিরোধ আরও তীব্র হয়। একই সময়ে লখনউতে (Lucknow) বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি গঠিত হয়।
১৯৮৯ সালে রামলালার পক্ষে এলাহাবাদ হাইকোর্টে (Allahabad High Court) টাইটেল স্যুট দাখিল হয়। এরপর আসে রাজনৈতিক উত্তাল সময়। ১৯৯০ সালে এলকে আদবানির রথযাত্রা এবং ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২-এ বাবরি মসজিদের ধ্বংস। এই ঘটনার পর কেন্দ্র সরকার বিতর্কিত এলাকার মালিকানা নিয়ে আইন প্রণয়ন করে।
বছরের পর বছর শুনানির পর ২০১০-এ হাইকোর্ট এলাকা তিন ভাগে ভাগ করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় স্থগিত করে। একাধিক পর্ব পেরিয়ে, ২০১৯ সালের ঐতিহাসিক রায়ে সর্বোচ্চ আদালত পুরো বিতর্কিত জমি রামলালার নামে দেয় এবং মুসলিমদের জন্য পাঁচ একর আলাদা জমি বরাদ্দ করতে বলে।
২০২০ সালে ভূমিপূজনের মাধ্যমে রামমন্দির নির্মাণ শুরু হয়। ২০২৪-এ হয় প্রাথমিক প্রাণ প্রতিষ্ঠা। অবশেষে ২৫ নভেম্বর ২০২৫-এ মন্দির নির্মাণ সম্পন্নের প্রতীক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তোলন করেন ধর্ম ধ্বজা।