এখন পুলিশের হাতে সবচেয়ে বড় প্রমাণ সেই সুইসাইড নোট, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে দুর্নীতির চাপ এবং মানসিক যন্ত্রণার কথা। জ্যোতিষার মর্মান্তিক পরিণতির পিছনে সরকারি দফতরের ‘সিস্টেম’-এরও বড় দায় রয়েছে কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

মৃত ইঞ্জিনিয়র
শেষ আপডেট: 24 July 2025 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘর থেকে উদ্ধার হল অসমের বনগাইগাঁওর এক সরকারি মহিলা ইঞ্জিনিয়রের ঝুলন্ত দেহ। মৃতার নাম জ্যোতিষা দাস। বয়স ৩০। অসম সরকারের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের (Public Works Department - PwD) সহকারী ইঞ্জিনিয়র হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দুপুরে ভাড়া বাড়ি থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। বাড়ির দরজা বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দেহ উদ্ধার করে। তাঁর ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সেই নোটে তিনি দুই ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
জানা যাচ্ছে, তাঁকে অসম্পূর্ণ কাজের ‘ভুয়ো বিল’ পাশ করানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বেশ কয়েকদিন ধরে। সুইসাইড নোটে জ্যোতিষা লিখেছেন, 'আমি আমার কাজের কারণে প্রবল মানসিক চাপে রয়েছি। অফিসে আমার পাশে কাউকে পাচ্ছি না। আমি ক্লান্ত, কোথাও যাওয়ার পথ নেই। আমার বাবা-মাও আমার জন্য চিন্তায় রয়েছেন।'
এই চিঠি সামনে আসার পরই পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারা অনুযায়ী মামলা রুজু করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার করা হয়েছে দুই অভিযুক্তকে, দীনেশ মেধি শর্মা, যিনি সদ্য পদোন্নতি পেয়ে সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়রের দায়িত্বে এসেছেন এবং আগে বনগাইগাঁওর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়র ছিলেন। সঙ্গে আমিনুল ইসলাম, যিনি ওই একই জেলায় এসডিও পদে কর্মরত রয়েছেন।
এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য প্রশাসনে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। তাঁর কথায়,
'আমরা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছি। ওই বিলের ভিত্তিতে যে নির্মাণকাজের দাবি করা হয়েছে, তা বাস্তবে কতটা সম্পূর্ণ হয়েছে, তা ফের যাচাই করা হবে। পুরো কাজের আর্থিক খতিয়ানও নতুন করে হিসাব করা হবে।'
এখন পুলিশের হাতে সবচেয়ে বড় প্রমাণ সেই সুইসাইড নোট, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে দুর্নীতির চাপ এবং মানসিক যন্ত্রণার কথা। জ্যোতিষার মর্মান্তিক পরিণতির পিছনে সরকারি দফতরের ‘সিস্টেম’-এরও বড় দায় রয়েছে কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। রাজ্যের মহিলা সংগঠন ও বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
তদন্তে উঠে আসা সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতে আরও একাধিক আধিকারিকের নাম জড়াতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।