
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 9 April 2024 11:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিঙাড়ার ভিতর মিলল কন্ডোম, গুটখা এবং কাঁকর। মহারাষ্ট্রের পুনের একটি প্রখ্যাত গাড়ি কারখানায় সরবরাহ করা সিঙাড়ার ভিতর আলুর মাখা পুরের সঙ্গে বেরল এইসব জিনিস। এই কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুনের পিম্পরি-চিন্চওয়াড় এলাকায় একটি নামীদামি গাড়ি কারখানার এই ঘটনায় পুলিশ রহিম শেখ, আজহার শেখ, মাজহার শেখ, ফিরোজ শেখ এবং ভিকি শেখকে নাস্তার সিঙারার ভিতরে কন্ডোম, গুটখা এবং কাঁকর ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করে।
একটি খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থাকে টিফিন বা নাস্তা তৈরির বরাত দেওয়া ছিল। ওই সংস্থা আবার আরেকটি ছোট সংস্থাকে ঠিকা দিয়েছিল খাবার তৈরির। সেই ঠিকা সংস্থাতেই দুই অভিযুক্ত কাজ করে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বাকি তিনজনকে আগেই খাবারে ভেজাল মেশানোর অভিযোগে চুক্তি বাতিল করেছিল গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানি।
সেই আক্রোশে ওই তিনজন নতুন খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থার নামযশ ক্ষুণ্ণ করতে এই চক্রান্ত ফেঁদেছিল। তারা বরাত পাওয়া ছোট সংস্থার কর্মচারীদের ঘুষ দিয়ে হাত করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, পাঁচজনের মধ্যে আগের চুক্তিকারী তিনজন নতুন বরাত পাওয়া সংস্থাকে বরবাদ করার চক্রান্ত করে। তারা অন্য দুজনকে পয়সা দিয়ে হাত করে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশের সন্দেহ।
গাড়ি কারখানার ক্যান্টিনে খাবার সরবরাহের দায়িত্ব ছিল ক্যাটালিস্ট সার্ভিস সলিউশন প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি সংস্থার। তারা আবার সিঙাড়া তৈরির জন্য মনোহর এন্টারপ্রাইজ নামে অপর একটি ক্ষুদ্র সংস্থাকে বরাত দেয়। পুলিশ মনোহরের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় জানতে পারে যে, ফিরোজ শেখ এবং ভিকি শেখ সিঙাড়ায় আলুর পুর ভরার কাজ করে। এবং তারাই কন্ডোম, গুটখা এবং কাঁকর পুরে দিয়েছিল।
অভিযুক্তদের জেরা করে পুলিশ তখন জানতে পারে, গাড়ি কারখানায় আগে খাবার সরবরাহকারী সংস্থা এসআরএ এন্টারপ্রাইজের দুই দালালকে পাঠিয়ে এই দুজনকে ফিট করেছিল আক্রোশ মেটাতে। তাদের যোগসাজশেই পয়সার বিনিময়ে এই কাজ করা হয়েছে। যাতে বর্তমান কোম্পানির প্রভূত ক্ষতি ও বাজারে নাম খারাপ হয়ে যায়।
পুলিশ জানতে পারে, আগের কোম্পানির তিন মালিকই এই চক্রান্তের মাথা। সিঙাড়ার মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যান্ডেজের টুকরো মেলায় তাদের আগেরবারের চুক্তি বাতিল করা হয়েছিল। ধৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।