বুধবার রাতে প্রয়াত এএসআই সন্দীপ, যিনি পূর্ণ কুমারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছিলেন, সেই লাঠেরের স্ত্রী সন্তোষ অভিযোগ দায়ের করেন রোহতক সদর থানায়।

বুধবারই হরিয়ানার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সিং সাইনি সন্দীপের দেশের বাড়ি লাধোটে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়ে আসেন।
শেষ আপডেট: 16 October 2025 10:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিয়ানায় দুই পুলিশ কর্মীর আত্মহত্যার তদন্তে ফের নয়া মোচড়। আইপিএস অফিসার ওয়াই পূর্ণ কুমার এবং এএসআই সন্দীপকুমার লাঠেরের আত্মহত্যার ঘটনায় রোহতক পুলিশ পূর্ণ কুমারের আইএএস স্ত্রী আমনিত কৌর ওরফে আমনিত পি কুমার, তাঁর ভাই অর্থাৎ পূর্ণ কুমারের শ্যালক তথা পাঞ্জাবের ভাটিন্ডা গ্রামীণের আম আদমি পার্টির বিধায়ক অমিত রতন, পূর্ণ কুমারের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী, হেড কনস্টেবল সুশীল কুমার এবং আরও একজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের এফআইআর করেছে। বুধবার রাতে প্রয়াত এএসআই সন্দীপ, যিনি পূর্ণ কুমারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছিলেন, সেই লাঠেরের স্ত্রী সন্তোষ অভিযোগ দায়ের করেন রোহতক সদর থানায়। তারই ভিত্তিতে এঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে।
বুধবারই হরিয়ানার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সিং সাইনি সন্দীপের দেশের বাড়ি লাধোটে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়ে আসেন। তারপরেই সন্দীপের পরিবার ও আশপাশের গ্রামের জাঠ সম্প্রদায় তাঁর মৃতদেহ পুলিশের হাতে ময়না তদন্তের জন্য তুলে দেন। আজ সকালে সন্দীপের ময়না তদন্ত হয়েছে। রোহতকে যেখানে সন্দীপ আত্মহত্যা করেছিলেন, সেখান থেকেই তাঁর দেহ তুলে নিয়ে চলে যান পরিবারের লোকজন। একটি বেসরকারি ফ্রিজারে দেহ সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। পরিবার ও গ্রামবাসীদের দাবি ছিল, পূর্ণ কুমারের স্ত্রীকে গারদে না পোরা পর্যন্ত দেহ ছাড়বেন না, শেষকৃত্যও করতে দেবেন না তাঁরা। অন্যদিকে, আত্মহত্যার ৮ দিন পর বুধবারই শেষমেশ আইপিএস পূর্ণ কুমারের অন্ত্যেষ্টি সম্পন্ন হয়েছে চণ্ডীগড়ে।
উল্লেখ্য, হরিয়ানায় কয়েকদিনের ব্যবধানে এক আইপিএস পুলিশ কর্তা ও একজন অফিসার পদমর্যাদার কর্মীর সার্ভিস রিভলভারের গুলিতে রহস্য-আত্মহত্যার ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে দেশকে। বিজেপি শাসিত রাজ্যের পুলিশ বিভাগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, অপশাসন ও জাতভিত্তিক শোষণের ছবি প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। প্রথমে আইপিএস ওয়াই পূর্ণ কুমারের সুইসাইড নোট এই কিলবিল করা পোকার কৌটোর ঢাকনা খুলে দেয়। কিন্তু, তারপর এএসআই সন্দীপকুমার লাঠেরের সুইসাইডের চিঠি ও ভিডিও পুলিশ বিভাগের কোনায় কোনায় দুর্নীতি ও পুলিশে দুর্বৃত্তায়নের ছবিটি তুলে ধরেছে। দ্বিতীয় আত্মহত্যার ঘটনায় সন্দীপ লাঠের সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, আগের আত্মহত্যাকারী পূর্ণ কুমার কুখ্যাত গ্যাংস্টার রাও ইন্দ্রজিতের নাম একটি খুনের মামলা থেকে মুছে দিতে তার সঙ্গে ৫০ কোটি টাকার চুক্তি করেছিলেন।
তোলাবাজি, ঘুষচক্র, দুর্নীতিতে মুড়ে থাকা হরিয়ানা পুলিশ বিভাগ এইসব দাবি, প্রতিদাবির চোটে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। প্রথম আত্মহত্যায় জাত বৈষম্য ধরা পড়লেও দ্বিতীয় ঘটনাটি রহস্যের অন্ধকার আরও গাঢ় করেছে। কারণ, প্রয়াত পূর্ণ কুমারের বিরুদ্ধে রোহতক ঘুষ কাণ্ডের তদন্তকারী অফিসার ছিলেন সাইবার সেলের এএসআই সন্দীপ লাঠের। যিনি জাতে জাঠ সম্প্রদায়। তাঁর জন্মভিটে এলাকায় তাঁদের পরিবারের বিপুল প্রতিপত্তি আছে জাঠ সম্প্রদায়ের মধ্যে।
লাঠের তাঁর শেষ বয়ানে লিখেছেন, দুর্ধর্ষ গ্যাংস্টার রাও ইন্দ্রজিতের কথা। তাঁর অভিযোগ, খুনের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাইয়ে দিতে পূর্ণ কুমারের সঙ্গে তার ৫০ কোটি টাকার রফা হয়েছিল। হরিয়ানায় ইন্দ্রজিতের নামে বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এবং আমেরিকায় আত্মগোপন করে রয়েছে। দুটি বিরাট ঘটনায় ফের তার নাম রাজ্যে চর্চায় এসেছে। জেমস মিউজিক লেবেলের মালিক সে এবং হিমাংশু ভাও গ্যাংয়ের হয়েও কাজ করত। ইউটিউবার এলভিস যাদবের বাড়িতে গুলিচালনা ও হরিয়ানার ব়্যাপার-গায়ক রাহুল যাদব ওরফে ফজিলপুরিয়ার উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ইন্দ্রজিৎ।