পাটনার একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা। ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 27 August 2025 19:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের পাটনায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। একটি সরকারি স্কুলের শৌচাগারের ভিতরে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার, পাটনার চিতকোরা এলাকার কন্যা মধ্য বিদ্যালয় অমলটোলায়।
কী ঘটেছে?
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মেয়েটি শৌচাগারের ভেতরে যাওয়ার পরই সেখান থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। শিক্ষক-শিক্ষিকারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ছাত্রীটি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছিল। তার শরীরের বেশিরভাগ অংশ গুরুতরভাবে পুড়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে পাটনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (PMCH) নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই, ছাত্রীর পরিবার স্কুলে ছুটে আসে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ তোলে। উত্তেজিত পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা স্কুলের স্টাফ রুমে ভাঙচুর চালায় এবং পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতির চেষ্টা করে। তাদের অভিযোগ, স্কুলের গাফিলতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
গর্দানিবাগ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। পাটনা সেন্ট্রাল এসপি দীক্ষা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "মেয়েটিকে চিকিৎসার জন্য পিএমসিএইচ-এ ভর্তি করা হয়েছে। আমরা স্কুলের কর্মী এবং পরিবারের সদস্যদের বয়ান রেকর্ড করছি। বর্তমানে মেয়েটি কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।"
এই ঘটনাটি শহরের স্কুলগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখছে। একই সঙ্গে, তারা মেয়েটির সহপাঠীদের সঙ্গেও কথা বলছে, যাতে ঘটনার আগে তার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া যায়।
একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। যেমন, স্কুলের শৌচাগারের ভিতরে সে কীভাবে দাহ্য পদার্থ পেল? এটি কি আত্মহত্যার চেষ্টা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য আছে, পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখছে।