জম্মু–কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রধান জানান, ওই ব্যক্তির উদ্দেশ্য কী ছিল বা এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা কি না, এই বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

ছবি - সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 12 March 2026 14:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমে ভেবেছিলেন বিয়েবাড়িতে বাজি ফাটানো হচ্ছে, কিন্তু পরে বুঝতে পারেন তাঁকে লক্ষ্য করেই গুলি ছোড়া হয়েছিল (Farooq Abdullah assassination attempt) - ঘটনার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় জানালেন জম্মু–কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রধান ফারুক আবদুল্লা (Farooq Abdullah)।
তিনি আরও জানান, হামলার (Jammu wedding firing incident Farooq Abdullah) উদ্দেশ্য কী ছিল বা এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা (NC chief security breach) কি না, এই বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
ঘটনার পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফারুক আবদুল্লা বলেন, “আমি যখন অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরোচ্ছিলাম, তখন একটা বাজি ফাটার মতো শব্দ শুনতে পাই। সঙ্গে সঙ্গেই আমাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জানতে পারি, একজন পিস্তল তাক করে আমার দিকে দু’টি গুলি চালিয়েছে। ওই ব্যক্তিকে আমি চিনি না, তার সম্পর্কে আমার কোনও তথ্যও নেই,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “তার উদ্দেশ্য কী ছিল আমি জানি না। এটাকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি বলা এখনই বড় মন্তব্য হয়ে যাবে। ওই বিয়েতে অনেক বিশিষ্ট মানুষ উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু সেখানে পুলিশ ছিল না।”
গতকাল জম্মুর এক বিয়ের অনুষ্ঠানে খুব কাছ থেকে ফারুক আবদুল্লাকে তাক করে গুলি চালানোর চেষ্টা হয়, অল্পের জন্য রক্ষা পান ৮৮ বছর বয়সি এই প্রবীণ নেতা।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীর নাম কমল সিং জামওয়াল। ৬৩ বছর বয়সি এই ব্যক্তি জম্মুরই বাসিন্দা।
অভিযোগ, তিনি খুব কাছ থেকে বন্দুক তাক করে ফারুক আবদুল্লার দিকে দু’বার গুলি চালানোর চেষ্টা করেন। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় বড় বিপদ এড়ানো যায়। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দাবি করেছেন, তিনি নাকি গত প্রায় ২০ বছর ধরে ফারুক আবদুল্লাকে হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন।
ঘটনার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোন করে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন বলে জানান ফারুক আবদুল্লা। তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি আমার খোঁজ নিয়েছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। অবশ্যই একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।”
এই প্রসঙ্গে তিনি দেশে বাড়তে থাকা ঘৃণার পরিবেশের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সমাজে বিদ্বেষ বাড়ার কারণেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।
তাঁর কথায়, “এখন যে ঘৃণার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে এই ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। কোনও ধর্মই ঘৃণা শেখায় না, সব ধর্মই ভালবাসার কথা বলে।”
কীভাবে ঘটল হামলা?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিয়েবাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে যে অভিযুক্ত কমল পিছন দিক থেকে ফারুক আবদুল্লার কাছে এগিয়ে আসেন এবং একেবারে কাছ থেকে বন্দুক তাক করেন। এরপর তিনি গুলি চালানোর চেষ্টা করলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
তৎক্ষণাৎ আবদুল্লার নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে ধরে ফেলেন। ফলে বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অনুষ্ঠানে কেন গিয়েছিলেন দুই নেতা?
পুলিশ জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে ফারুক আবদুল্লার পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীরের উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরি-ও উপস্থিত ছিলেন। ন্যাশনাল কনফারেন্সের এক নেতার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানাতে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন।
জানা গিয়েছে, গুলি চালানোর ঘটনা ঘটার আগে দুই নেতা প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
এই হামলার ঘটনা ঘিরে জম্মু ও কাশ্মীরের মতো স্পর্শকাতর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
প্রসঙ্গত, ফারুক আবদুল্লা জেড প্লাস নিরাপত্তাপ্রাপ্ত নেতা। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এমন কোনও অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে পুরো এলাকা স্যানিটাইজ করা এবং কঠোর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা উচিত।
তদন্তের দাবি রাজনীতিতে
ঘটনার পরে সংসদেও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী নেতারা। কংগ্রেস সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়্গে প্রশ্ন তুলেছেন, “সরকারের উদ্দেশ্য কী? তারা কি চায় ফারুক আবদুল্লাকে হত্যা করা হোক?” তিনি এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
কী বললেন ওমর আবদুল্লা?
ফারুক আবদুল্লার ছেলে এবং জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা-ও ঘটনার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক্স-এ করা পোস্টে তিনি লেখেন, “এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। যা জানা গেছে, তা হল, একজন ব্যক্তি লোডেড পিস্তল নিয়ে প্রায় একেবারে কাছ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল এবং গুলি চালিয়েছিল। আমার বাবার নিরাপত্তা দলের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই হামলাটি ব্যর্থ হয়।”
তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে একজন ব্যক্তি জেড প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এত কাছে পৌঁছে যেতে পারলেন।