স্ত্রীকে অনেকদিন ধরেই সন্দেহ করছিলেন। অবশেষে কিছুতেই বিশ্বাস করতে না পেরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন ৪৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তি।

ফরিদাবাদে মর্মান্তিক কাণ্ড!
শেষ আপডেট: 11 June 2025 11:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রীকে অনেকদিন ধরেই সন্দেহ করছিলেন। অবশেষে কিছুতেই বিশ্বাস করতে না পেরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন ৪৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদাবাদে নিজের চার শিশুপুত্রকে নিয়ে রেললাইনে দাঁড়িয়ে পড়লেন তিনি। ছুটে এল এক্সপ্রেস ট্রেন। চোখের সামনে সন্তানরা চিৎকার করলেও তাঁদের ছাড়েননি বাবা। মুহূর্তেই থেমে গেল পাঁচটি প্রাণ।
মৃত ব্যক্তির নাম মনোজ মাহাতো। বিহারের বাসিন্দা এই ব্যক্তি সম্প্রতি পরিবার-সহ ফরিদাবাদে থাকছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই স্ত্রী প্রিয়া মাহাতোর সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল তাঁর। স্ত্রীর প্রতি অবিশ্বাস ছিল প্রবল। মঙ্গলবার সকালেও ওই একই বিষয়ে ঝামেলা হয়। তারপরই মনোজ বলেন, সন্তানদের পার্কে নিয়ে যাচ্ছেন।
চার পুত্র সন্তান—পবন (১০), কারু (৯), মুরলি (৫) ও ছোটু (৩)-কে নিয়ে বেরিয়ে যান তিনি। তবে পার্ক নয়, তাঁদের নিয়ে রওনা হন রেললাইনের দিকে। পথে ছেলেদের জন্য কেনেন চিপস ও সফট ড্রিঙ্কস। পরে রেললাইনের পাশে একটি উড়ালপুলের নিচে ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিট নাগাদ ট্রেন আসতে দেখা যায়। মনোজ তাঁর দু’জন ছেলেকে কাঁধে তোলেন, বাকিদের হাত ধরে রেললাইনে উঠে পড়েন। ট্রেন চালক সতর্কতা জানান, হর্ণ বাজান, কিন্তু মনোজ সেখান থেকে একটুও সরেননি। ছোট ছোট শিশুরা প্রাণপণে বাঁচার চেষ্টা করছিল, কিন্তু বাবা তাদের ছাড়েননি। সামনে এসে পড়ে গোল্ডেন টেম্পল এক্সপ্রেস। মুহূর্তে থেমে যায় পাঁচটি প্রাণ।
ঘটনার পরে রেল পুলিশ এসে দেহগুলি উদ্ধার করে। মনোজের পকেট থেকে পাওয়া যায় একটি চিরকুট, যেখানে লেখা ছিল স্ত্রীর ফোন নম্বর। পুলিশের অনুমান, স্ত্রীর অবিশ্বাসের জেরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন মনোজ। সম্ভবত সেই কারণেই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেন তিনি। দেহগুলি শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয় মনোজের স্ত্রী প্রিয়াকে।