পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি এখনও তদন্তের আওতায় রয়েছে। মেয়েটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁর বয়ান নেওয়া হবে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 30 October 2025 17:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার ভয়াবহ 'অনার কিলিং'-এর অভিযোগে বিদ্ধ উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh)। বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জের (relationship with cousin)! তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন ২৪ বছরের ওই যুবক, জানতে পেরে তাঁকে বেঁধে পেটায় মেয়েটির পরিবারের লোকজন। মৃত্যু হয় তাঁর।
জানা গিয়েছে, মৃতের নাম রবি শ্রীবাস, তিনি বান্দা জেলার জাসপুরার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার দুপুরে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে হামিরপুরের (Hamirpur relationshio with cousin) মৌদহ এলাকার পার্চ গ্রামে যান রবি। কিন্তু বোন তথা প্রেমিকার পরিবারের সেই সম্পর্কে তীব্র আপত্তি ছিল। ঠিক সেই সময় প্রেমিকার কাকা পিন্টু তাঁদের বাড়িতে এসে রবিকে দেখতে পান। শুরু হয় তীব্র বচসা, এরপরই পিন্টু রবির উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, পিন্টু প্রথমে রবিকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন, তারপর পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে মিলে তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারধর করেন। গুরুতর জখম অবস্থায় রবিকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পরেই ঘটে আরেক মর্মান্তিক অধ্যায়। রবির মৃত্যুসংবাদ শুনে তাঁর প্রেমিকা, বয়স মাত্র ১৮, নিজেই গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। দ্রুত তাঁকে মৌদহ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রবি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। এমনকী তাঁরা এক বোতল সালফাস ট্যাবলেটের খালি কৌটোও দেখান। তবে দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে চিকিৎসকরা সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে মৃতের বাবা উমা শঙ্কর ওরফে কালীদীন পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন। হামিরপুর জেলার পুলিশ সুপার দীক্ষা শর্মা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে অশান্তি না ছড়ায়।
পুলিশ জানিয়েছে, রবি এবং ওই তরুণী খুব কাছের সম্পর্কে ভাইবোন। তাই তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক দুই পরিবারই মেনে নেয়নি। প্রায় ২০ বছর আগে রবির পরিবার পার্চ গ্রাম থেকে বান্দা চলে যায়।
এর আগেও তাঁরা একবার পালিয়ে গিয়েছিলেন। জুন মাসে মেয়েটির বিয়ের চার দিন আগে। পরে পুলিশি চাপে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়, এবং তারপর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়।
এবার নভেম্বরের ২ তারিখে মেয়েটির দ্বিতীয় বিয়ের দিন ঠিক হয়েছিল জালাউন জেলার কদৌরা এলাকায়। পুলিশের অনুমান, বুধবার রবি তাঁকে আবারও পালিয়ে যেতে রাজি করানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময়েই ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটনাটি।
রবি যাওয়ার আগে একটি ভিডিও রেকর্ড করেন, যেখানে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে মেয়েটির পরিবার আবারও জোর করে বিয়ে ঠিক করেছে।
অন্যদিকে মেয়েটির ঠাকুমা কাল্লি জানিয়েছেন, তাঁর নাতনি রবির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং নতুন বিয়েতে রাজি হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, রবি নাতনিকে জোর করে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, আর সেই সময়ই পিন্টুকে ছুরি মারে - এরপরই শুরু হয় সংঘর্ষ।
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি এখনও তদন্তের আওতায় রয়েছে। মেয়েটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁর বয়ান নেওয়া হবে।