Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

বিয়ের টোপ দিয়ে দেশ জুড়ে প্রতারণা! ভুয়ো ম্যাট্রিমনিয়াল কল সেন্টার ফাঁস গোয়ালিয়রে, আটক ২০ মহিলা

ভুয়ো ম্যাট্রিমনিয়াল প্ল্যাটফর্মে কেউ রেজিস্ট্রেশন করলেই কল সেন্টারের কর্মীরা নিজেদের সম্ভাব্য পাত্রী পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করত। আবেগঘন কথোপকথনের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জনের পর বিভিন্ন অজুহাতে টাকা চাওয়া হত।

বিয়ের টোপ দিয়ে দেশ জুড়ে প্রতারণা! ভুয়ো ম্যাট্রিমনিয়াল কল সেন্টার ফাঁস গোয়ালিয়রে, আটক ২০ মহিলা

ছবি - এআই

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 25 December 2025 17:12

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ে দেওয়ার নাম করে দেশ জুড়ে প্রতারণার চক্র (online marriage fraud)। গোয়ালিয়রে দু'টি ভুয়ো ম্যাট্রিমনিয়াল কল সেন্টার ফাঁস করল পুলিশ (Fake matrimonial call centre Gwalior)। জানা গিয়েছে, সেখানে বেছে বেছে টার্গেট করা হতো অবিবাহিত পুরুষদের। ইতিমধ্যেই ওই ভুয়ো ম্যাট্রিমনির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযান (police raid) চালিয়ে ২০ জন তরুণীকে আটক করা হয়েছে, পাশাপাশি কল সেন্টারের অপারেটর হিসেবে চিহ্নিত দুই মহিলাকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তবে এই চক্রের মূলচক্রী টাইলেশ্বর ওরফে দিনেশ প্যাটেল এখনও পলাতক।

গোয়ালিয়রের ক্রাইম ব্রাঞ্চ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কল সেন্টারগুলি নিজেদের ম্যাট্রিমনিয়াল ওয়েবসাইট হিসেবে পরিচয় দিত। সেখানে অবিবাহিত পুরুষদের রেজিস্ট্রেশন করিয়ে ধাপে ধাপে প্রতারণার ফাঁদ পাতা হত। ইন্টারনেট থেকে নামী মডেল ও সুন্দরী মহিলাদের ছবি নামিয়ে তৈরি করা হত ভুয়ো প্রোফাইল। এরপর ‘পারফেক্ট ম্যাচ’ ও দ্রুত বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু হত টাকা আদায়ের খেলা।

গোয়ালিয়রের পুলিশ সুপার (এসএসপি) ধর্মবীর সিং জানান, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ক্রাইম ব্রাঞ্চ, সাইবার সেল এবং থাটিপুর থানার পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়। প্রথম অভিযান চালানো হয় ময়ূর নগরের ময়ূর প্লাজার পিছনে একটি বাড়িতে। সেখানেই ধরা পড়ে ভুয়ো কল সেন্টার।

এই কল সেন্টারটি চলছিল টাইলেশ্বর প্যাটেলের বাড়ির দোতলায়। অভিযানে পুলিশ ল্যাপটপ, কম্পিউটার, রেজিস্টার, মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড উদ্ধার করে।

সেখানে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সি ১২ জন তরুণীকে কাজ করতে দেখা যায়। পুলিশের দাবি, এই তরুণীরাই ফোন ও চ্যাটের মাধ্যমে অবিবাহিত পুরুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফাঁদে ফেলত এবং তাঁদের টাকা পাঠাতে বাধ্য করত।

পুলিশ জানায়, এই কল সেন্টারটি চালাচ্ছিলেন রাখি গৌর (২৪) এবং এই সবটাই হতো টাইলেশ্বর প্যাটেলের নির্দেশে। তাঁকে এবং আরও ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। এই একটি জায়গা থেকেই মোট ১৩ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

দ্বিতীয় কল সেন্টারের হদিশ

প্রথম অভিযানের পরেই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, একই চক্রের আরেকটি কল সেন্টার গোয়ালিয়রের অন্য এলাকায় চলছে। এরপর দ্বিতীয় অভিযান চালানো হয় জ্যোতি নগরে দ্বারকাধীশ মন্দিরের উল্টোদিকে একটি বহুতলের তিনতলার ফ্ল্যাটে।

সেখানে ৭ জন তরুণীকে কাজ করতে দেখা যায়, যাঁদের সকলকেই আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এই কল সেন্টারটি চালাচ্ছিলেন সীতা ওরফে শীতল চৌহান (২৬)। তিনি দর্পণ কলোনির বাসিন্দা।

পলাতক মূলচক্রী

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, দুইটি কল সেন্টারই একই মূলচক্রীর দ্বারা পরিচালিত, তিনি হলেন টাইলেশ্বর প্যাটেল। বর্তমানে তিনি ফেরার এবং তাঁর খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার কাজও চলছে।

কীভাবে চলত প্রতারণা?

তদন্তে উঠে এসেছে, ভুয়ো ম্যাট্রিমনিয়াল প্ল্যাটফর্মে কেউ রেজিস্ট্রেশন করলেই কল সেন্টারের কর্মীরা নিজেদের সম্ভাব্য পাত্রী পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করত। আবেগঘন কথোপকথনের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জনের পর বিভিন্ন অজুহাতে টাকা চাওয়া হত।

কখনও বলা হতো রেজিস্ট্রেশন ফি, ভেরিফিকেশন চার্জ বা বিয়ে সংক্রান্ত খরচ। এরপর QR কোড পাঠিয়ে টাকা ট্রান্সফার করানো হত। একবার মোটা অঙ্কের টাকা হাতে এলেই অভিযুক্তরা ফোন বন্ধ করে দিত এবং সমস্ত যোগাযোগ ছিন্ন করত।

স্মার্টফোন নয়, দেওয়া হত সাধারণ মোবাইল

পুলিশ আরও জানায়, কল সেন্টারে কাজ করা মহিলাদের স্মার্টফোন দেওয়া হত না। তাঁদের হাতে দেওয়া হত সাধারণ কী-প্যাড মোবাইল। সেই ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ছিল না। সিম কার্ডগুলি ছিল অপারেটর বা মূলচক্রীর নামে। প্রতারণা শেষ হলেই নম্বর বন্ধ করে দেওয়া হত, যাতে ট্র্যাক করা না যায়।

কত বড় এই চক্র?

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই চক্র ইতিমধ্যেই ১,৫০০-র বেশি মানুষকে প্রতারণা করে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে কল সেন্টার থেকে উদ্ধার হওয়া নথি অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত ভুক্তভোগীর সংখ্যা ১০০-র বেশি। তদন্ত এগোলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে পুলিশ।

বর্তমানে ক্রাইম ব্রাঞ্চ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল নথি এবং লেনদেনের সমস্ত ট্রেইল খতিয়ে দেখছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও গ্রেফতারি হতে পারে, এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ।


```