পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা যেহেতু বর্তমানে ব্রিটেনে (Gujrat Fake marriage UK visa fraud) রয়েছে, তাই বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ভাবে ব্রিটিশ হাই কমিশন এবং দূতাবাসকেও জানানো হচ্ছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 8 January 2026 21:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতের ভারুচ জেলায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ল এক অদ্ভুত ভিসা জালিয়াতির কাণ্ড (Gujarat visa fraud)। নকল বিয়ে, জাল ম্যারেজ সার্টিফিকেট (forged marriage divorce documents) থেকে শুরু করে বানানো হয়েছিল আদালতের ভুয়ো ডিভোর্স অর্ডার। সেই সবকিছুই ব্যবহার করা হয় এক মহিলাকে ব্রিটেনে পাঠানোর জন্য (Fake marriage UK visa fraud)। অবশেষে টাকার লেনদেন নিয়ে বচসা হওয়া থেকেই সামনে আসে এই প্রতারণার চক্র।
পালেজ থানার পুলিশ আধিকারিক আনন্দ চৌধুরীর বক্তব্য, গত বছরের অক্টোবরে অভিযোগ জানাতে এগিয়ে আসেন ভারুচ জেলার ভালন গ্রামের বাসিন্দা রিজ়ওয়ান মেদা। বর্তমানে তিনি ব্রিটেনে থাকেন। বন্ধু মিনহাজ ইয়াকুব উগ্রারধারের মাধ্যমে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি ব্যবহার করে তিনি পুলিশকে জানান এই প্রতারণার কথা (Gujarat immigration scam)।
পুলিশের দাবি, প্রথমে দুই পক্ষের টাকার অঙ্ক নিয়ে বিরোধ থেকেই সন্দেহ তৈরি হয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রিজ়ওয়ান মেদা-সহ কয়েকজন মিলে ভুয়ো বিয়ের কাগজপত্র এবং নকল আদালতের বিবাহবিচ্ছেদের আদেশ তৈরি করে পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়া সাজিয়েছিলেন।
কীভাবে সাজানো হয়েছিল ‘জাল বিয়ে’?
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় এই অপারেশন। রিজ়ওয়ান মেদা নকল বিবাহের নথি বানান, যেখানে জিমবাসার এলাকার তাসলিমাবানু কারভারিকে তাঁর ‘স্ত্রী’ হিসেবে দেখানো হয়। এই জাল বিয়ের কাগজপত্র দিয়েই ব্রিটেনের ডিপেন্ডেন্ট ভিসার আবেদন শুরু করেন তিনি। এ কাজে মধ্যস্থতার ভূমিকায় ছিলেন এক এজেন্ট, শোয়েব দাউদ ইখখারিয়া।
নথি দেখে ভিসাও মঞ্জুর হয়ে যায়। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী তাসলিমাবানু পাড়ি দেন ব্রিটেনে। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পরেই শুরু হয় বিবাদ।
ইনস্পেক্টর চৌধুরীর দাবি, ভিসা জোগাড় করা এবং নকল ডিভোর্স অর্ডার তৈরি করার জন্য তাসলিমাবানুর পরিবারের সঙ্গে রিজ়ওয়ানের চুক্তি হয়েছিল ৩.৫ লক্ষ টাকার। পরবর্তী সময়ে ওই টাকা নিয়ে মতবিরোধ শুরু হলে রিজ়ওয়ান পুলিশে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিজ়ওয়ান নাকি সত্যিই বিয়ে করে নিজের আসল স্ত্রীকে ব্রিটেনে আনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু টাকার লেনদেন না মেটায় তিনি পুলিশের শরণাপন্ন হন।
অন্যদিকে, রিজ়ওয়ানের সঙ্গে ‘আলাদা’ দেখানোর জন্য তাসলিমাবানুর ভাই ফয়জ়ল ভারুচের আইনজীবী সাজিদ কোটিয়াকে দিয়ে নকল ডিভোর্স অর্ডার বানান। অভিযোগ, এই জাল আদালতের নথিকে সত্যিকারের ডিভোর্স আদেশ হিসেবে দেখিয়ে ব্রিটেনে ‘বিচ্ছেদ’-এর প্রক্রিয়াও সারা হয়। তখন তাসলিমাবানু ব্রিটেনে ছিলেন তাঁর ভাই ফয়জ়লের সহায়তায়।
IPC-র একাধিক ধারায় মামলা, জানানো হচ্ছে ব্রিটিশ হাই কমিশনকেও
এই ঘটনায় রিজ়ওয়ান মেদা, তাসলিমাবানু, তাঁর ভাই ফয়জ়ল এবং আইনজীবী সাজিদ কোটয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৬৭ (মূল্যবান সিক্যুরিটির জালিয়াতি), ৪৬৮ (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি), ৪৭১ (জাল নথিকে সত্যি বলে ব্যবহার), ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ১৭৭ (ভুল তথ্য প্রদান) এবং ১১৪ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা যেহেতু বর্তমানে ব্রিটেনে রয়েছে, তাই বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ভাবে ব্রিটিশ হাই কমিশন এবং দূতাবাসকেও জানানো হচ্ছে।