কুর্নুল দুর্ঘটনায় সামনে এল ভয়াবহ তথ্য। জানা গিয়েছে, চালকের জাল নথি ছিল এবং বাইকে থাকা যুবকরা ছিলেন মদ্যপ অবস্থায়। দুর্ঘটনার আগেই মৃত্যু হয় বাইক চালকের। তাহলে কীভাবে হল এই দুর্ঘটনা?

বাঁদিকে বাইক চালক ও ডানদিকে বাসের চালক
শেষ আপডেট: 26 October 2025 18:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুর্নুলের চিন্না টেকুরু এলাকার হাইওয়েতে শুক্রবার ভোররাতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। তদন্তে উঠে এসেছে একের পর এক গাফিলতির ছবি, বাস ড্রাইভারের জাল শংসাপত্র, মদ্যপ বাইক চালকের বেপরোয়া গতি এবং বাস কোম্পানির নিয়মভঙ্গ, সব মিলিয়ে এই ভয়ঙ্কর পরিণতি।
কি হয়েছিল সেই ভোরে?
সেদিন দুটি বাইকে দু’জন যুবক মদ্যপ অবস্থায় ধাবায় গেছিলেন খেতে, সেখান থেকে ফেরার সময় একটি বাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা মারে। বাইকের চালক শিব শঙ্কর ঘটনাস্থলেই মারা যান, পেছনে থাকা আরেকজন পড়েছিলেন পাশে ঝোপে, তিনি পরে জানান, বাইকটা পড়ে গেলে তিনি বন্ধুকে তুলে ডিভাইডারে রাখেন, বাইকটা সরাতে পারেননি। এরপর আরও দুটি বাস বাইকটি এড়িয়ে যায়।
বাসের গাফিলতি ও ফাঁকফোকর
তল্লাশিতে জানা যায়, ড্রাইভার মিরিয়ালা লক্ষ্মাইয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ঘটনার পর। তিনি ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়লেও, ভুয়ো ক্লাস টেনের সার্টিফিকেট দেখিয়ে হেভি ভেহিকেলের লাইসেন্স করিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাশ না হলে এই লাইসেন্স পাওয়ার কথা নয়। সব নিয়ম ভেঙে মিলেছে লাইসেন্স।
শুধু তাই নয়, বাস কোম্পানিও যাত্রীবাহী বাসে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মোবাইল ফোন-সহ লাভজনক কার্গো পাচার করছিল। সেই বাসের লাগেজ কম্পার্টমেন্টে থাকা ২০০টিরও বেশি স্মার্টফোনের ব্যাটারি একের পর এক ফেটে যাওয়ায়, আগুনের তীব্রতা বেড়ে যায়।
নিয়ম লঙ্ঘন চলছেই
এই ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে, ভারতে ড্রাইভিং টেস্ট ছাড়া লাইসেন্স দেওয়া, শিক্ষা সংক্রান্ত নকল তথ্য দিয়ে ড্রাইভারদের মূল্যায়ন, বা জনগণকে তথ্য না দিয়েই যাত্রীবাহী বাসে পণ্য পরিবহন করা কতটা ভয়াবহ হতে পারে। মদ্যপ অবস্থায় চালানো গাড়িই সারা দেশের পথ দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। ২০২৩-এ মাতাল চালকদের কারণে প্রায় ১,৪৪২ জনের মৃত্যু হয়। ২৪-এর পরিসংখ্যানও ভয়ানক।
এবারের কুর্নুলের ঘটনা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরও কড়াকড়ি নজরদারি প্রয়োজন। নিয়ম ও ব্যবস্থা একদম সঠিকভাবে না মানলে সাধারণ যাত্রীদের ঝুঁকি এত সহজে কমবে না।