উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর হাতে গ্রেফতারের পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 27 July 2025 13:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুয়ো দূতাবাস, ৩০০ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা, ১০ বছরে ১৬২টি বিদেশ সফর, একাধিক আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট— এই সব কিছু ঘিরে তৈরি হয়েছে অবাক করা কাহিনি। মূল চরিত্র হর্ষবর্ধন জৈন, যিনি ‘ভান্ডারা ব্যারন’ নামে পরিচিত। উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর হাতে গ্রেফতারের পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে।
গাজিয়াবাদের একটি ভাড়াবাড়িকে ২০১৭ সাল থেকে ‘গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়েস্টার্কটিকা’র দূতাবাস হিসেবে চালাচ্ছিলেন হর্ষবর্ধন জৈন। বাড়ির সামনে লাগানো ছিল ভারতের ও 'ওয়েস্টার্কটিকা'র পতাকা, সঙ্গে ছিল ‘Honorary Consul’ টাইটেল-সহ নামফলক। এখান থেকেই বিদেশে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু মানুষকে প্রতারিত করতেন তিনি। এই বাড়ির বাইরে প্রায়শই আয়োজিত হত ‘ভান্ডারা’ (কমিউনিটি ফিস্ট), যাতে দূতাবাস ভাবমূর্তি বজায় থাকে।
পুলিশের তল্লাশিতে হর্ষবর্ধন জৈনের সঙ্গে বিতর্কিত 'ধর্মগুরু' চন্দ্রস্বামী ও সৌদি অস্ত্র ব্যবসায়ী আদনান খাশোগির ছবিও পাওয়া গিয়েছে। চন্দ্রস্বামী ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের আধ্যাত্মিক উপদেষ্টা, যিনি পরে আর্থিক জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ডে অর্থসাহায্যের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তে উঠে এসেছে, চন্দ্রস্বামীই জৈনকে পরিচয় করিয়েছিলেন খাশোগি ও কুখ্যাত প্রতারক আহসান আলি সৈয়দের সঙ্গে।
জানা গিয়েছে, আহসান আলি সৈয়দের সঙ্গে মিলেই ২৫টি শেল কোম্পানি খুলে হর্ষবর্ধন জৈন টাকা পাচার করতেন। সৈয়দ, যিনি বর্তমানে তুর্কি নাগরিক, একটি সুইস সংস্থা চালাতেন, যা ঋণের ব্যবস্থার নামে কোটি কোটি টাকা আদায় করত। ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৩০০ কোটি টাকা) তছরুপ করে সুইজারল্যান্ড ছেড়ে পালান সৈয়দ। ২০২২ সালে তাঁর লন্ডনে গ্রেফতার করা হয়। এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন এই কেলেঙ্কারিতে জৈনের সরাসরি জড়িত থাকার মাত্রা কতটা।
হর্ষবর্ধন জৈনের গ্রেফতারের পর, ‘মাইক্রোনেশন’ ওয়েস্টার্কটিকা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে— জৈনকে ২০১৬ সালে অনুদানের বিনিময়ে ‘Honorary Consul to India’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল, কিন্তু কখনও রাষ্ট্রদূতের পদ বা ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তার বাড়িতে উদ্ধার হওয়া কূটনৈতিক নম্বর প্লেট, পাসপোর্ট ও সিল-সম্বলিত সামগ্রী অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছে। ওয়েস্টার্কটিকা তার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং তদন্তে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
২০০১ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর অফিসার ট্র্যাভিস ম্যাকহেনরি অ্যান্টার্কটিকায় ‘ওয়েস্টার্কটিকা’ নামক মাইক্রোনেশন ঘোষণা করেন এবং নিজেকে ‘গ্র্যান্ড ডিউক’ ঘোষণা করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি কোনও রাষ্ট্রের দ্বারা স্বীকৃত নয়। ‘দেশটির’ ৬.২ লক্ষ বর্গমাইল এলাকা থাকলেও কোনও বাসিন্দা নেই। এটি মূলত একটি পরিবেশসচেতন নন প্রফিট সংস্থা হিসেবে কাজ করে।
ঘটনার গভীরে যেতে চাইছে উত্তরপ্রদেশ এসটিএফ। গাজিয়াবাদের ভুয়ো দূতাবাস থেকে উদ্ধার হয়েছে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি (ভুয়ো কূটনৈতিক নম্বর প্লেটসহ), জাল নথিপত্র ও দামি ঘড়ির সংগ্রহ। হর্ষবর্ধন জৈনকে আরও হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে আদালতে।