ঘটনাটি সামনে আসে শান্তিদেবী মহাওয়ার নামের এক বৃদ্ধা মারা যাওয়ার পর। তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জব্বলপুরের মার্বেল সিটি হাসপাতালের চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় তাঁর।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 25 May 2025 17:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘থ্রি ইডিয়টস’ (3 Idiots) (২০০৯) সিনেমার কথা মনে আছে নিশ্চয়? র্যাঞ্চোর নাম ভাঁড়িয়ে ফুনশুক ওয়াংড়ু-রুপী আমির খান ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ডিগ্রি এনেছিল। অনেকটা তেমনই ঘটনা বাস্তবেই ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে।
বন্ধুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের মার্কশিট সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ নথি ব্যবহার করে এক ব্যক্তি ডাক্তার সেজে (fake doctor) বছরের পর বছর ধরে রোগী দেখেছেন। অবশেষে তাঁর ভুয়ো চিকিৎসার বলি হলেন এক বৃদ্ধা, যাঁর মৃত্যুর পরই ফাঁস হল চাঞ্চল্যকর এই কেলেঙ্কারি (fake doctor scam)।
ঘটনাটি সামনে আসে শান্তিদেবী মহাওয়ার নামের এক বৃদ্ধা মারা যাওয়ার পর। তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জব্বলপুরের মার্বেল সিটি হাসপাতালের চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় তাঁর।
শান্তিদেবীর ছেলে, ভারতীয় রেলওয়ে কর্মচারী মনোজ কুমার মহাওয়ার, শুরুতে মায়ের মৃত্যুকে স্বাভাবিক ভেবেই মেনে নেন। তবে পরে যখন তিনি হাসপাতালের রিপোর্ট পরীক্ষা করেন, তখন চিকিৎসকের নাম দেখে সন্দেহ হয়।
রিপোর্টে চিকিৎসকের নাম লেখা ছিল ডা. বৃজরাজ ইউকেই। তিনি চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে চান, তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাতে টালবাহানা শুরু করে। তখন মনোজ নিজেই তদন্তে নামেন। তখন তিনি জানতে পারেন, যিনি চিকিৎসা করছিলেন তিনি আসলে ডা. বিজরার নন, বরং তার পরিচিত এক ব্যক্তি সত্যেন্দ্র সিং, যিনি ভুয়ো পরিচয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
বৃজরাজ ইউকেই আদতে একজন দিনমজুর। তিনিই একসময় নিজের মার্কশিট, জাতি শংসাপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র দিয়েছিলেন সত্যেন্দ্রকে, পড়াশোনায় সাহায্য করার উদ্দেশ্যে। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই সত্যেন্দ্র ভুয়ো নথিতে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয়ে ডাক্তারির পড়া শেষ করে এবং বছর বছর ধরে চিকিৎসা চালিয়ে যান বৃজরাজ ইউকেই নামেই।
ঘটনা জানার পর মনোজ ওমতি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ আধিকারিক জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বৃজরাজের নথিপত্র (fake certificate) ব্যবহার করেই সত্যেন্দ্র এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। অথচ আসল বৃজরাজ নিজে দিনমজুরি করেন, ডাক্তার নন।
অঞ্চলীয় স্বাস্থ্য অধিকর্তা জানান, এই ঘটনায় দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং মেডিক্যাল কাউন্সিলের মাধ্যমে নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি একটি গুরুতর চক্রান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
হাসপাতালের ডিরেক্টর ডা. সঞ্জয় নাগরাজ অবশ্য হাসপাতালের বিরুদ্ধে কোনও গাফিলতির অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘রোগীর ক্যানসার ছিল এবং অন্য জায়গা থেকেও চিকিৎসা চলছিল তাঁর। আমরা নথি যাচাই করেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলাম। আমাদের কোনও দোষ আছে বলে মনে করি না।’
প্রয়াত শান্তিদেবীর আত্মীয়ের কথায়, ‘আমরা জানি না উনি বাঁচতেন কিনা। কিন্তু ভাবলেই গা শিউরে ওঠে একজন ভুয়ো ডাক্তার মানুষের জীবন নিয়ে খেলছিল। হাসপাতাল আমাদের কিছুই জানায়নি।’