নিজেকে ‘ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে গরিব পরিবারের মেয়েদের ‘সেবা’ করতেন। এবার ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশে জালে ভুয়ো চিকিৎসক।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 25 June 2025 16:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজেকে ‘ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে গরিব পরিবারের মেয়েদের ‘সেবা’ করেন। এবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠল ওই ভুয়ো ডাক্তারের বিরুদ্ধে। ওড়িশার গঞ্জাম জেলার বৈধ্যনাথপুরের ঘটনা। মূল অভিযুক্ত-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন ওই ডাক্তারের সহকারী আর অপরজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী।
ঘটনার শুরু ২০ জুন। অভিযোগ, গ্রামেরই এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এক মহিলাকে ওই চিকিৎসক সম্পর্কে বলেন। মহিলাকে জানানো হয়, বাবানি শঙ্কর দাস নামে এক চিকিৎসক গরিব ও প্রান্তিক পরিবারের মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা ও নার্সিং পড়ার সুযোগ দিচ্ছেন। যা শুনে ওই মহিলা তাঁর ১৭ বছরের কিশোরী নিয়ে একদিন পৌঁছন 'বাজপেয়ী আরোগ্যধাম' (Vajpayee Arogyadam) নামের ক্লিনিকে। সেখানেই এই বাবানি শঙ্কর দাস কাজ করেন। মহিলার সঙ্গে তাঁর ছোট মেয়েও ছিল।
বাবানি দাসের সঙ্গে দেখা হয় তাঁদের। দাস আশ্বাস দেন, মেয়েটিকে তিনি নার্সিং পড়াবেন, খাওয়া-দাওয়া ও থাকার ব্যবস্থাও করবেন। অভাবী মা এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি। তাই তিন দিন আগে মেয়েকে সেখানেই রেখে আসেন।
প্রথম দু’দিন কোনও অসুবিধা হয়নি। কিন্তু ২৩ জুন, রবিবার, সন্ধে ৭টা নাগাদ বাবানি দাস তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে উপস্থিত ছিল তাঁর ২১ বছরের সহকারী প্রিয়াঙ্কা সাহু। অভিযোগ, প্রিয়াঙ্কা ওই কিশোরীকে একটি গ্লাসে জল দেন। তা খাওয়ার পরই মেয়েটি অসুস্থবোধ করতে থাকে।
অভিযোগ, এরপর অচেতন অবস্থায় মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন ভুয়ো চিকিৎসক। কিছুক্ষণ পরে কোনও রকমে সেখান থেকে পালিয়ে নিজের মাসির বাড়িতে পৌঁছয় সে। রাত ১১টা নাগাদ তার মাসি ওই ঘটনা জানিয়ে বৈধ্যনাথপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এরপরই পুলিশ মামলা রুজু করে পকসো আইনে তদন্ত শুরু করে। কিশোরীর মেডিক্যাল পরীক্ষার পাশাপাশি ফরেনসিক টিম পৌঁছে যায় অভিযুক্তের ক্লিনিক ও বাড়িতে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাবানি শঙ্কর দাসের ডাক্তারি ডিগ্রি নকল এবং তিনি নিজেকে হোমিওপ্যাথ ডাক্তার বলে পরিচয় দিতেন। পুলিশ বাবানি শঙ্কর দাস, তাঁর সহকারী প্রিয়াঙ্কা সাহু এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে গ্রেফতার করে। এখনও পর্যন্ত তদন্ত চলছে।
আরও কোনও নাবালিকা এই 'ফাঁদে' পড়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।