পায়ে গুলি লেগে গুরুতর জখম হন দুর্গেশও। প্রাণ বাঁচাতে কোনওরকমে ছুটে গিয়ে বাথরুমে গিয়ে লুকিয়ে পড়েন কৃষ্ণকান্ত। চন্দনের মৃত্যু নিশ্চিত হতেই ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।

পাটনা হাসপাতাল গুলিকাণ্ড
শেষ আপডেট: 21 July 2025 12:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাটনায় হাসপাতালে ঢুকে গ্যাংস্টারকে গুলি (Patna Hospital Firing) করে খুনের ঘটনায় সামনে এল এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান। জামিনে ছাড়া পেয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন চন্দন মিশ্র। তাঁকে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তৌসিফ খান-সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাটনার বেসরকারি হাসপাতালের ২০৯ নম্বর ঘরে ভর্তি ছিলেন চন্দন মিশ্র (Chandan Mishra)। ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দুর্গেশ পাঠক এবং কৃষ্ণকান্ত পাণ্ডে। দুর্গেশ জানান, সেদিন পাঁচজন দুষ্কৃতী আচমকাই ঘরে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। চন্দনের গায়ে একাধিক গুলি লাগে।
পায়ে গুলি লেগে গুরুতর জখম হন দুর্গেশও। প্রাণ বাঁচাতে কোনওরকমে ছুটে গিয়ে বাথরুমে গিয়ে লুকিয়ে পড়েন কৃষ্ণকান্ত। চন্দনের মৃত্যু নিশ্চিত হতেই ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা। দুর্গেশের অভিযোগ, তিনি আহত অবস্থায় চিৎকার করে সাহায্য চেয়েছিলেন কিন্তু কেউ ১৫ মিনিটের আগে এসে পৌঁছয়নি।
নিহতের বাবা শ্রীকান্ত মিশ্র দাবি করেছেন, ১৬ জুলাই বিকেলেই চন্দনের ছুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অজানা কারণে তা পিছিয়ে ১৭ তারিখ করা হয়। তাঁর আশঙ্কা, এটা একটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে।
তদন্ত শুরু হলে জানা যায় অভিযুক্তরা বিহার (Bihar Hospital Murder Case) থেকে সড়কপথে কলকাতায় এসে গা ঢাকা দিয়েছে। এরপর গাড়ির নম্বরের সাহায্যে বিহার ও কলকাতা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে শনিবার আনন্দপুরের গেস্ট হাউস থেকে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মূল অভিযুক্ত তৌসিফ খান, তার ভাই নিশু খান-সহ আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, নিশুর বাড়িতেই এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
জানা গেছে, চন্দনের সঙ্গে তৌসিফের পুরনো শত্রুতা ছিল। গত বছর দু’জনের মধ্যে সংঘর্ষে তৌসিফ গুলিবিদ্ধ হয় এবং মেরুদণ্ডে গুরুতর চোট পেয়েছিল। সেই শত্রুতার জেরেই এই খুন বলে মনে করছে পুলিশ। মোট ৯ জন এই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। কেউ অস্ত্র জুগিয়েছে, কেউ নজরদারি করেছে, আবার কেউ খুনিদের হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে।