সকাল প্রায় ৮টা ১০ মিনিটে বিমানটি মুম্বই (Mumbai Take Off) থেকে উড়ান নেয়। ৮টা ৩৪ মিনিটে কয়েক মুহূর্তের জন্য বিমানটি নজরদারি সিগন্যাল পাঠানো বন্ধ করে দেয়।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 28 January 2026 15:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar Death in Plane Crash) বুধবার সকালে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। মুম্বই থেকে বারামতী যাচ্ছিল তাঁর প্রাইভেট জেট বিমানটি। উড়ানের প্রায় ৩৫ মিনিট পরে বারামতীর কাছে পাহাড়ি এলাকায় ভেঙে পড়ে সেটি। সঙ্গে সঙ্গে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায় (Ajit Pawar Plane Crash)। বিমানে থাকা পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়, অজিত পওয়ার, তাঁর নিরাপত্তারক্ষী, এক কর্মী এবং দু'জন পাইলট।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, সকাল প্রায় ৮টা ১০ মিনিটে বিমানটি মুম্বই (Mumbai Take Off) থেকে উড়ান নেয়। ৮টা ৩৪ মিনিটে কয়েক মুহূর্তের জন্য বিমানটি নজরদারি সিগন্যাল পাঠানো বন্ধ করে দেয়। আবার সিগন্যাল ফিরে আসে, বিমানটি তখন লুপ নিচ্ছিল। ৮টা ৪৩ মিনিটে পুরোপুরি ‘সাইলেন্ট’ হয়ে যায়, ঠিক তখনই দুর্ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হচ্ছে। এই জায়গাটি বারামতী বিমানবন্দর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে।
অন্যদিকে আরেকটি তথ্য বলছে, বিমানটি শেষ মুহূর্তে প্রায় ১ কিলোমিটার উচ্চতায় ২৩৭ কিমি গতিতে উড়ছিল। এরপর হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর গতিপথে কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি বলেই প্রাথমিক অনুমান।
বিমানটি ছিল একটি Bombardier Learjet 45, যা ভিআইপি ও ব্যবসায়িক যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়। ১৬ বছর বয়সি এই বিমানটি পরিচালনা করত দিল্লিভিত্তিক সংস্থা VSR Ventures। সংস্থার দাবি, বিমানটি ১০০% নিরাপদ ছিল এবং পাইলটরাও ছিলেন যথেষ্ট অভিজ্ঞ। তাঁদের অনুমান, কম দৃশ্যমানতাই এর প্রধান কারণ হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে ডিজিসিএ তদন্ত।
এই দুর্ঘটনার পর VSR সংস্থা জানিয়েছে, নিহত দুই পাইলট, সুমিত কপূর ও সম্ভাবী পাঠক- দু’জনেই দক্ষ ছিলেন। সংস্থার এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “আমরা আমাদের পাইলট, আমাদের যাত্রী সবাইকে হারালাম। এটা আমাদের জন্য কঠিন সময়।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেও VSR-এর সঙ্গে যুক্ত আরেকটি Learjet বিমান মুম্বই বিমানবন্দরে অবতরণের (Mumbai Airport landing) সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। তখন প্রবল বৃষ্টি ও কম দৃশ্যমানতার কারণে বিমানটি রানওয়ে থেকে সরে গিয়ে ভেঙে পড়ে। সেই ঘটনায় কেউ মারা না গেলেও কয়েকজন আহত হয়েছিলেন।
এবারের বারামতীর দুর্ঘটনা (Baramati Plane Crash) নতুন করে বিমান নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে শুধু মহারাষ্ট্র নয় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর সহকর্মী, রাজনৈতিক নেতারা, এবং কর্মীরা চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি।
ডিজিসিএ (DGCA) খুব শিগগিরই ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে বিমানটির শেষ কয়েক মিনিটের সব তথ্য খতিয়ে দেখবে- কীভাবে উড়ানের মাঝেই হঠাৎ বিমানটি ‘নিঃশব্দ’ হয়ে গেল, তার আসল কারণ জানতেই এখন সকলের অপেক্ষা।