এই সমস্ত দুর্ঘটনাগুলিই একবার নয়, বারবার প্রশ্ন তোলে—ভারতের আকাশপথ কি সত্যিই সুরক্ষিত?

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 12 June 2025 18:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টেক অফের পর আমদাবাদে ভেঙে পড়ল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। ২৩০ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু সদস্যের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে ঘটনাস্থলে। তথ্য বলছে, গত তিন দশকে দেশের সবচেয়ে বড় বিমান দুর্ঘটনা এটি। আর এরপরই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভারতে অতীতের ভয়াবহ কয়েকটি বিমান দুর্ঘটনার কথা।
ভারতের ইতিহাসে ভয়ঙ্করতম কিছু বিমান দুর্ঘটনা-
১. আমদাবাদ এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনা (১২ জুন, ২০২৫)
টেক-অফের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার AI171 ফ্লাইট। বিমানবন্দরের রানওয়ে ২৩ থেকে ১টা ৩৯ মিনিটে উড়েছিল বিমানটি। ‘মে ডে’ বার্তা পাঠিয়েও এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের তরফে কোনও সাড়া মেলেনি বলে জানিয়েছে ডিজিসিএ। ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ছে বিশাল বোয়িং বিমানটি। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া।

২. দিল্লিতে বিমান দুর্ঘটনা (১২ নভেম্বর, ১৯৯৬)
১৯৯৬ সালে সৌদি এয়ারলাইনস ও কাজাখস্তান এয়ারলাইন্সের দু'টি বিমানের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল দিল্লির আকাশে। মৃত্যু হয়েছিল ৩৪৯ জন যাত্রীর। কাজাখ পাইলট নির্ধারিত উচ্চতা না মেনে নীচে নেমে আসে, ফলে ঘটে ভয়াবহ সংঘর্ষ। মাঝ আকাশে এটিই বিশ্বের অন্যতম বড় দুর্ঘটনা।

৩. কোঝিকোড় এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ক্র্যাশ (৭ আগস্ট, ২০২০)
বন্দে ভারত মিশনের অন্তর্গত এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ফ্লাইট ১৩৪৪ কোঝিকোড়ের টেবিলটপ রানওয়েতে অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। রানওয়ে পেরিয়ে খাত বরাবর নীচে নেমে যায়। প্রশিক্ষিত পাইলট থআকা সত্ত্বেও এমন দুর্ঘটনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। মৃত্যু হয় ২১ জনের, আহত হন ৭৫ জনেরও বেশি। দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল পাইলটের সামান্য ভুল এবং প্রতিকূল আবহাওয়া।

৪. ম্যাঙ্গালোরে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ফ্লাইট ৮১২ দুর্ঘটনা (২২ মে, ২০১০)
দুবাই থেকে আসা বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানটি ম্যাঙ্গালোরে অবতরণের সময়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ি ঢালে পড়ে যায়। ১৬৬ জনের মধ্যে ১৫৮ জনের মৃত্যু হয়। এটিই এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ইতিহাসে প্রথম মারাত্মক দুর্ঘটনা।
৫. পটনা এয়ার ক্র্যাশ (১৭ জুলাই, ২০০০)
অ্যালায়েন্স এয়ারের ফ্লাইট ৭৪১২ পাটনা বিমানবন্দরে নামার সময় নাকের দিক থেকে ভেঙে পড়ে। বিমানটি আবাসিক এলাকায় পড়ে, ৬০ জন নিহত হন। ক্রুদের ভুল সিদ্ধান্ত ও মানচিত্রগত ত্রুটিই ছিল মূল কারণ।
৬. বেঙ্গালুরু এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ৬০৫ দুর্ঘটনা (১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০)
এয়ারবাস A320 বিমানটি অবতরণকালে রানওয়ে না ধরে গলফ কোর্সে ভেঙে পড়ে, ৯২ জন নিহত হন। বিমানের স্বয়ংক্রিয় মোডের ভুল ব্যবহারের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল।
৭. আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ১১৩ দুর্ঘটনা (১৯ অক্টোবর, ১৯৮৮)
মুম্বই থেকে আসা বোয়িং ৭৩৭-২০০ বিমানটি আমদাবাদ বিমানবন্দরে নামার সময় খারাপ আবহাওয়ার কারণে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়ে। ১৩৩ জন মারা যান। এটি ভারতের অন্যতম মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
এই সমস্ত দুর্ঘটনাগুলিই একবার নয়, বারবার প্রশ্ন তোলে—ভারতের আকাশপথ কি সত্যিই সুরক্ষিত? প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক, যদি নিয়ন্ত্রণ ও সতর্কতার অভাব থাকে, তাহলে আবারও ফিরে আসতে পারে এমনই বিভীষিকাময় দিন। আমদাবাদের ঘটনাও সেই ভয়কে আরও জোরালো করে তুলল, তা বলা বাহুল্য।