তেলঙ্গানার সাঙ্গারেড্ডিতে প্রেমিকার বাড়িতে বিয়ের কথা বলতে গিয়ে খুন দ্বিতীয় বর্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র। সম্পর্ক মানতে না পেরে হামলা চালায় প্রেমিকার পরিবার।

শ্রবণ সাই
শেষ আপডেট: 11 December 2025 12:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তেলঙ্গানার (Telangana) সাঙ্গারেড্ডি জেলায় প্রেমিকার পরিবারের ডাকে বিয়ের (Marriage Discussion) কথা বলতেই গিয়েছিলেন দ্বিতীয় বর্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র জ্যোতি শ্রবণ সাই। অভিযোগ, সেখানেই তাঁকে নির্মমভাবে খুন করল ওই তরুণীর পরিবার (Brutal Attack)। ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে মারা হল (Murder) ২০ বছরের তরুণকে।
বহুদিন ধরেই সম্পর্কের বিরুদ্ধে ছিল তরুণীর পরিবার। কিন্তু হঠাৎই বিয়ের কথা বলতে ডেকে পাঠান তাঁরা। শুনে খুশিই হন শ্রবণ। পৌঁছে যান দ্রুত। কিন্তু সবটাই যে সাজানো ছিল, বুঝতে পারেননি।
তিনি সেন্ট পিটার্স ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে চলছিল পড়াশোনা। এর জন্য কুতবুল্লাপুরে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন গত বছর থেকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯ বছরের সৃজার সঙ্গে বেশ কয়েক মাস ধরে সম্পর্কে ছিলেন যুবক। আর সেই সম্পর্ককে মানতে পারেননি সৃজার বাড়ির লোকজন (Opposition from Family)। আগেও বহুবার ছেলেটিকে সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানাচ্ছেন আমিনপুর সার্কেল ইন্সপেক্টর নরেশ।
ঘটনার দিন সৃজার মা-বাবা বিয়ের কথা বলার নাম করে শ্রবণকে বাড়িতে ডেকে পাঠান। মনে করেছিলেন, আলোচনা হবে দুই পরিবারের মধ্যে। কিন্তু বাড়িতে পৌঁছনো মাত্রই আচমকা হামলা শুরু হয়। পুলিশের দাবি, সৃজার মা-সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য মিলে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে মারতে থাকেন ছেলেটিকে। মাথায় গুরুতর আঘাত, লাগে ও পাঁজরে চোট, সব মিলিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
তড়িঘড়ি তাঁকে কুকাটপল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই মৃত্যু হয়েছিল বলে জানানো হয়।
এর পরই আমিনপুর থানায় খুনের মামলা (Murder Case) রুজু করে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে ক্রিকেট ব্যাট, সংগ্রহ করা হয়েছে নমুনাও। দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে (Post-Mortem)। মোটিভ (Exact Motive) জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে পরিবারের সদস্যদের। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে গিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল কি না এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সম্পর্ক মেনে না নেওয়ার জেরে দীর্ঘদিন ধরেই চাপের মধ্যে ছিলেন শ্রবণ ও সৃজা। তবে পুলিশের বক্তব্য, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সৃজা ঘটনার সময় কোথায় ছিলেন। সৃজা ঠিক কী বলছেন, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।