আট দশকের পুরনো অধ্যায় শেষ করে সেবা তীর্থে শুরু হল নতুন পিএমও-র পথচলা। সাউথ ব্লকের ভবিষ্যৎ ব্যবহার ও প্রশাসনিক বদলের দিকেই এখন নজর।
.jpeg.webp)
রাইসিনা হিলসের ঐতিহাসিক নর্থ ও সাউথ ব্লক
শেষ আপডেট: 13 February 2026 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় আট দশক পর ব্রিটিশ আমলের সদর দফতর সাউথ ব্লক ছেড়ে নতুন ঠিকানায় গেল প্রধানমন্ত্রীর দফতর। শুক্রবার ‘সেবা তীর্থ’ (Seva Teerth) কমপ্লেক্স উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। এখানেই স্থায়ীভাবে বসবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO), ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েট (National Security Council Secretariat)।
সরকারের দাবি, এটি শুধু দফতর বদল নয়—‘সত্তা’ থেকে ‘সেবা’-র প্রতীকী রূপান্তর। দিনটিও বেছে নেওয়া হয়েছে তাৎপর্যপূর্ণভাবে—নয়াদিল্লিকে রাজধানী ঘোষণার ৯৫ বছর পূর্তিতে।
সাউথ ব্লক থেকে সেবা তীর্থ
রাইসিনা হিলসের ঐতিহাসিক নর্থ ও সাউথ ব্লক (North Block, South Block) দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রশাসনিক স্নায়ুকেন্দ্র ছিল। লুটিয়েন্স নকশায় নির্মিত এই ভবনগুলির বাহ্যিক ঐতিহ্য অক্ষত রাখা হবে। তবে ভিতরে আধুনিক পরিকাঠামো বসানো হবে বলে জানা যাচ্ছে।
‘সেবা তীর্থ’ কমপ্লেক্সে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, ডিজিটাল আর্কাইভ, আধুনিক অফিস কাঠামো—সব মিলিয়ে একবিংশ শতাব্দীর প্রশাসনিক কেন্দ্র গড়ে তোলার উপযুক্ত। এখান থেকেই এখন প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন কাজকর্ম চলবে। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রশাসনিক দক্ষতা ও নিরাপত্তা—দুই দিক থেকেই এই স্থানান্তর প্রয়োজনীয় ছিল।
বিশ্বের বৃহত্তম মিউজিয়ামের পথে
অফিসের জায়গা বদল হল। এবার কী হবে পুরনো ওই ব্লকের? নর্থ ও সাউথ ব্লককে রূপান্তর করা হবে ‘যুগে যুগীন ভারত জাতীয় জাদুঘর’ (Yuge Yugeen Bharat National Museum)-এ। প্রায় ১.৫৫ লক্ষ বর্গমিটারজুড়ে বিস্তৃত এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে আয়তনে ছাড়িয়ে যাবে ব্রিটিশ মিউজিয়াম (British Museum) ও লুভর (Louvre)।
‘যুগে যুগীন’ শব্দের অর্থ, চিরন্তন ভারত। বৈদিক যুগ থেকে ডিজিটাল যুগ পর্যন্ত ৫,০০০ বছরের সভ্যতার ইতিহাস তুলে ধরা হবে এখানে। প্রায় ৯৫০টি ঘর ও ৩০টি গ্যালারিতে প্রদর্শিত হবে ৮০,০০০ থেকে ১ লক্ষ নিদর্শন।
থিমভিত্তিক বিভাগে থাকবে—প্রাচীন জ্ঞানব্যবস্থা, সিন্ধু সভ্যতা, মৌর্য-গুপ্ত-চোল সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং আধুনিক ভারতের বিজ্ঞান ও মহাকাশ অগ্রগতি।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ভবিষ্যতের লক্ষ্য
বিশ্বমানের প্রদর্শনী ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে ফ্রান্স মিউজিয়াম ডেভেলপমেন্টের (France Muséums Developpement) সঙ্গে কারিগরি অংশীদারিত্ব হয়েছে। এই সংস্থা লুভর আবু ধাবি প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত ছিল।
২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম গ্যালারি খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিন বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে বছরে প্রায় এক কোটি দর্শনার্থীর আগমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক কেন্দ্রের স্থানান্তর আর সাংস্কৃতিক পুনর্গঠন—দুই মিলিয়ে রাজধানীর রাইসিনা হিল এখন নতুন অধ্যায়ের পথে। ‘সেবা’ থেকে ‘ঐতিহ্য’—এই রূপান্তর কতটা সফল হয়, তা সময়ই বলবে।