বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনেও ইমার্জেন্সি কোটা চালুর সিদ্ধান্ত জানাল ভারতীয় রেল। কোন যাত্রীরা এই নতুন নিয়মের সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বিস্তারিত নির্দেশিকা।

বন্দে ভারত স্লিপার
শেষ আপডেট: 15 February 2026 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন প্রজন্মের ট্রেন, নতুন নিয়ম। এবার বন্দে ভারত স্লিপার (Vande Bharat Sleeper) এবং অমৃত ভারত–২ (Amrit Bharat-II) ট্রেনেও চালু হচ্ছে ‘ইমার্জেন্সি কোটা’ (Emergency Quota)। যাত্রীদের জরুরি ভ্রমণের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল বোর্ড (Railway Board)।
৯ ফেব্রুয়ারি জোনাল রেলওয়েগুলিকে পাঠানো এক চিঠিতে রেল মন্ত্রক (Ministry of Railways) জানিয়েছে, আগের নির্দেশিকা পুনর্বিবেচনার পর এই কোটা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কী বদল হল নিয়মে?
এর আগে জানানো হয়েছিল, বন্দে ভারত স্লিপার ও অমৃত ভারত–২ ট্রেনে কেবল চার ধরনের সংরক্ষণ কোটা থাকবে—মহিলা (Ladies Quota), প্রতিবন্ধী (Persons with Disabilities – PwD), প্রবীণ নাগরিক (Senior Citizen) এবং ডিউটি পাস (Duty Pass)।
স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, এই ট্রেনগুলিতে অন্য কোনও কোটা, এমনকি আরএসি (RAC – Reservation Against Cancellation) সুবিধাও থাকবে না।
তবে নতুন পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলেছে। এখন থেকে এই দুই ধরনের ট্রেনেও ইমার্জেন্সি কোটা রাখা হবে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট শ্রেণির যাত্রীরা জরুরি প্রয়োজনে এই কোটার মাধ্যমে টিকিট পেতে পারেন।
তবে মনে রাখতে হবে, ইমার্জেন্সি কোটা সবার জন্য খোলা নয়। সাধারণত সরকারি কর্মী, জরুরি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি বা বিশেষ পরিস্থিতির যাত্রীদের ক্ষেত্রেই এই সুবিধা প্রযোজ্য হয়।
অমৃত ভারত–২ ট্রেনে ক'খানা বার্থ?
রেল বোর্ড জানিয়েছে, যেসব অমৃত ভারত–২ ট্রেনে সাত বা তার বেশি স্লিপার (SL) কোচ থাকবে, সেখানে প্রাথমিকভাবে ২৪টি বার্থ ইমার্জেন্সি কোটার জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
বর্তমানে ১২টি অমৃত ভারত–২ ট্রেন পরিষেবায় রয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন করে চালু হওয়া ট্রেনগুলিতেও এই নিয়ম কার্যকর হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে জরুরি ভ্রমণের প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সংখ্যক বার্থ সংরক্ষিত থাকবে। তবে সংখ্যা সীমিত হওয়ায় সবার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না।
হাওড়া–কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপারেও প্রযোজ্য?
দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি ১৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) উদ্বোধন করেন। ২২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু হয়। ট্রেনটি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া (Howrah) থেকে অসমের কামাখ্যা (Kamakhya) পর্যন্ত চলাচল করে।
এই ট্রেনেও নতুন নিয়ম অনুযায়ী ইমার্জেন্সি কোটা কার্যকর হবে। অর্থাৎ, অন্যান্য নির্ধারিত কোটার পাশাপাশি এখন জরুরি কোটার সুবিধাও যুক্ত হল।
সব মিলিয়ে রেলের এই সিদ্ধান্ত যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁদের হঠাৎ ভ্রমণের প্রয়োজন পড়ে, তাঁদের জন্য এটি স্বস্তির খবর। তবে কোটার সংখ্যা সীমিত এবং নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে আগের মতো পরিকল্পিত বুকিং করাই নিরাপদ পথ।