ভারতে স্যাটেলাইট-নির্ভর ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিয়েছে দেশের দুই শীর্ষস্থানীয় টেলিকম সংস্থা—এয়ারটেল ও রিলায়্যান্স জিও।

এলন মাস্ক এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 6 June 2025 18:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে এলন মাস্কের (Elon Musk) স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রকল্প 'স্টারলিঙ্ক' (Starlink) ভারত সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন পেল। সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থা মারফৎ এই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। তিন বছর আগে ভারতে পরিষেবা দেওয়ার অনুমতি চেয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের (Narendra Modi Govt) কাছে আবেদন করেছিলেন মাস্ক। অবশেষে সেই ছাড়পত্র পেয়ে এ দেশে বাণিজ্যিকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার পথে এগিয়ে গেল তাঁর সংস্থা 'স্টারলিঙ্ক'।
কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়া এই সংস্থাটি ২০২২ সালেই ভারতের বাজারে প্রবেশ করতে চেয়েছিল। তবে জাতীয় নিরাপত্তা-সহ একাধিক প্রশাসনিক প্রশ্নের জেরে সেই অনুমতি তখন দেয়নি ভারত সরকার। অবশেষে সমস্ত বাধা কাটিয়ে ভারত সরকারের থেকে ছাড়পত্র পেয়ে গেল 'স্টারলিঙ্ক'। যদিও এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার বা মাস্কের সংস্থার তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
ভারতে স্যাটেলাইট-নির্ভর ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিয়েছে দেশের দুই শীর্ষস্থানীয় টেলিকম সংস্থা—এয়ারটেল (Airtel) ও রিলায়্যান্স জিও (Jio)। এলন মাস্কের স্পেসএক্সে-র (Space X) অধীনস্থ স্টারলিঙ্কের সঙ্গে এই দুই সংস্থা আগেই শর্তসাপেক্ষে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। গত মার্চ মাসেই এয়ারটেল তাদের অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত করে স্পেসএক্সে-র সঙ্গে। পরে একই পথে হাঁটে মুকেশ আম্বানির জিও। তবে দুই ক্ষেত্রেই চুক্তির শর্ত ছিল স্পষ্ট—ভারত সরকারের অনুমোদন না মিললে পরিষেবা চালু হবে না।
সূত্রে খবর, সেই অনুমোদন মিলেছে। অতএব, দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছানোর সম্ভাবনা আরও বাস্তব রূপ নিতে চলেছে মাস্কের সংস্থার মাধ্যমে।
যদিও এখনও পর্যন্ত স্টারলিঙ্ক বা টেলিকম দফতরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এই ছাড়পত্র ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর ফলে দেশের প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ অঞ্চলে, যেখানে এখনও ইন্টারনেট পৌঁছয় না বা পরিষেবা খারাপ, সেখানেও সহজলভ্য হয়ে উঠতে পারে দ্রুতগতির ইন্টারনেট। অর্থাৎ, স্টারলিঙ্কের এই অগ্রগতি ভারতের ডিজিটাল ভবিষ্যতের পটচিত্র আমূল বদলে দিতে পারে।