
শেষ আপডেট: 8 March 2024 19:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইলেক্টোরাল বন্ড নিয়ে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার আর্জি আগামী ১১ মার্চ, সোমবার শুনবে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার জানিয়েছে, ওই দিন এসবিআইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আদালত অবমাননার মামলাও একই সঙ্গে শুনবে আদালত।
শীর্ষ আদালতের অবমাননার মামলাটি করেছে নির্বাচনী সংস্কারের কাজে যুক্ত সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্রেটিক রিফমর্স (এডিআর)। তাদের মামলার বিষয়, সুপ্রিম কোর্ট বলার পরও এসবিআই বন্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে গড়িমসি করছে।
সুপ্রিম কোর্টের গত মাসের রায় অনুযায়ী ১৩ মার্চ নির্বাচন কমিশনের ইলেক্টোরাল বন্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করার কথা। তার আগে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ওই সংক্রান্ত তথ্য কমিশনের কাছে জমা করার কথা ছিল ৬ মার্চ। তার দু’দিন আগে এসবিআই আদালতকে জানিয়েছে, ইলেক্টোরাল বন্ড সংক্রান্ত তথ্য জমা করতে চার মাস সময় লাগবে। জুনের শেষ সপ্তাহ নাগাদ তারা এই তথ্য দিতে পারবে।
প্রসঙ্গত, শীর্ষ আদালত গত মাসে ঐতিহাসিক রায়ে ইলেক্টোরাল বন্ড’কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে তা বাতিল করার পাশাপাশি এসবিআইকে বলেছে ২০১৯-এর এপ্রিল মাস পর্যন্ত কোন দল ইলেক্টোরাল বন্ড বাবদ কত টাকা পেয়েছে তা প্রকাশ করতে।
নরেন্দ্র মোদী সরকারের ওই বন্ড একমাত্র স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার নির্দিষ্ট কতগুলি শাখা থেকেই শুধু বিক্রির ব্যবস্থা ছিল। সেখানে গিয়ে ডিমান্ড ড্রাফ্ট বা চেক দিলে এসবিআইয়ের শাখা থেকে বন্ড দেওয়া হত। সেই বন্ড রাজনৈতিক দলের হাতে তুলে দিলে তারা তা ব্যাঙ্ক থেকে ভাঙিয়ে নিত।
প্রশ্ন হল, কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কত টাকার বন্ড কিনেছে এবং কোন দল সেই খাত থেকে কত টাকা পেয়েছে, এই তথ্য প্রকাশ করতে এসবিআই চার মাস সময় চাইছে কেন? কম্পিউটারের বোতাম টিপেই তো মুহূর্তে লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে দেওয়া সম্ভব?
ব্যাঙ্ক অবশ্য বলছে বিষয়টি মোটেই অত সহজ নয়। ইলেক্টোরাল বন্ড সংক্রান্ত কোনও তথ্যই এসবিআই কম্পিউটারে নথিভুক্ত করেনি। বন্ডের ক্রেতা এবং কোন দল তা পেয়েছে সেই তথ্য গোপন রাখতেই তারা এই সংক্রান্ত তথ্য কম্পিউটারে তোলেনি বলে ব্যাঙ্কের ব্যাখ্যা। তাদের বক্তব্য, দেশের যে ব্যাঙ্ক থেকে যিনি যত টাকার বন্ড কিনেছেন এবং যে দল যেখানে তা ভাঙিয়েছে, সব তথ্যই কাগজে লেখা এবং এই সংক্রান্ত যাবতীয় নথি ব্যাঙ্কের মুম্বইয়ের সদর দফতরে রাখা আছে।
এসবিআই জানিয়েছে, ২০১৯-এর এপ্রিল থেকে আদালতের রায়দান পর্যন্ত ২২, ২১৭টি বন্ড বিক্রি হয়েছে। একজন ব্যক্তি গড়ে দশটি বন্ড কিনে থাকলেও ২,২২২টি লেনদেন হয়েছে। এই লেনদেন সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যই কাগজে লেখা এবং এই সংক্রান্ত নথিপত্র ব্যাঙ্কের মুম্বইয়ের সদর দফতরে রাখা আছে। সেখান থেকে বিভিন্ন রাজ্যের এসবিআই শাখার কাছে জানতে চাইতে হবে কোন বন্ড কে কিনেছিল এবং তা কোন দলের তহবিলে জমা হয়েছে।
ব্যাঙ্কের এক আধিকারিক বলেন, ইলেক্টোরাল বন্ডে ক্রেতার নাম লেখা থাকে না। লেখা থাকে না প্রাপকের নামও। ফলে ওই বন্ড কেনার পর কেউ তা হারিয়ে ফেললে খুঁজে পাওয়ার পরও মালিকানা দাবি করা কঠিন। একমাত্র ব্যাঙ্কের যে শাখা থেকে কেনা হয়েছে, তারাই বলতে পারবে, কে ওই বন্ড কিনেছিলেন।
এসবিআইয়ের বক্তব্য, সারা দেশে তাদের একাধিক শাখা থেকে বন্ড বিক্রি এবং ভাঙানো সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করে মুম্বইয়ের সদর দফতরে জমা হওয়া তথ্যের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখার পর তবেই তারা বলতে পারবে কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কত টাকার বন্ড কিনেছেন এবং তা জমা হয়েছে কোন দলের তহবিলে। এখন দেখার এসবিআইয়ের এই সমস্যা শোনার পর শীর্ষ ব্যাঙ্ক কী বলে।