খলিলুর রহমান এবং হুমায়ুন কবির বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দিল্লিতে থাকবেন। মঙ্গলবার রাতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বাংলাদেশি অতিথিদের সম্মানে নৈশ ভোজের আয়োজন করেছেন।
.jpg.webp)
দিল্লি সফরে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী
শেষ আপডেট: 8 April 2026 09:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী খলিলুর রহমান (Khalilur Rahaman) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নয়া দিল্লি পৌঁছেছেন। তাঁর সঙ্গে এসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সব মিলিয়ে আড়াই দিনের সফরে ভারতের রাজধানীতে এসেছেন তাঁরা। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানান ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের এক অফিসার। উপস্থিত ছিলেন দিল্লিতে (Delhi) কর্মরত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এবং সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা দিল্লিতে পৌঁছানোর অব্যবহিত আগে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই সফরের কথা সরকারিভাবে ঘোষণা করে। যদিও দু'দেশের সংবাদমাধ্যমে গত দিন দশ যাবত এই সফর নিয়ে লেখালেখি, আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু সরকারিভাবে ভারত সরকার বাংলাদেশের দুই পদস্থ-কর্তার সফর নিয়ে কার্যত মুখ খোলেনি।
খলিলুর রহমান এবং হুমায়ুন কবির বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দিল্লিতে থাকবেন। মঙ্গলবার রাতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বাংলাদেশি অতিথিদের সম্মানে নৈশ ভোজের আয়োজন করেছেন।
বুধ ও বৃহস্পতিবার তাঁরা বৈঠক করবেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং জ্বালানি মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে। এই তিন বৈঠকের কোথাও সংবাদ মাধ্যমকে ছবি তোলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। খলিলুর রহমানের যে সফর সূচি ভারতের বিদেশ মন্ত্রক প্রকাশ করেছে তাতে স্পষ্ট করা আছে একমাত্র সরকারি চিত্রগ্রাহক বৈঠকের ছবি করতে পারবেন।
কূটনৈতিক মহলের খবর, বিদেশ মন্ত্রী খলিলুরের সফর নিয়ে ভারতকে আরও আগেই সরকারিভাবে ঘোষণা করার অনুরোধ করা হয়েছিল ঢাকার তরফে। কিন্তু ভারত সরকার তেমন কোন ঘোষণা মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত করেনি। নয়া দিল্লির তরফে কোন ঘোষণা না থাকায় বাংলাদেশ সরকারও মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সরকারিভাবে খলিলুরের সফর নিয়ে উচ্চবাচ্য করেনি। সে দেশের বিদেশ মন্ত্রী দিল্লির উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করার কিছু আগে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে এই সফরকে শুভেচ্ছা সফর এবং দিল্লিতে যাত্রা বিরতি বলে উল্লেখ করে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী ও সেদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টার দিল্লি থেকে মরিশাস যাওয়ার কথা ভারত মহাসাগর সংক্রান্ত সম্মেলনে অংশ নিতে। তার আগে আড়াই দিন তিনি দিল্লিতে ভারতের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে মিলিত হতে চান বলে ঢাকার তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছিল নয়া দিল্লিকে। তখনই বলা হয়েছিল শুভেচ্ছা সফরে আসতে চান খলিলুর রহমান। কারণ সম্প্রতিক অতীতে ভারতের দুজন প্রথমসারির কর্তা ঢাকা সফর করেছেন। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারত সরকারের তরফে শোক জানাতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর ঢাকা যান। প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা গিয়েছিলেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। বাংলাদেশের তরফে অনুরোধ করা হয়েছিল খলিলুর রহমানের সঙ্গে এস জয়শংকর এবং পীযূষ গয়ালের বৈঠকের ব্যবস্থা করতে।
বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে নয়া দিল্লির কর্তারা খলিলুরের সফরে সবুজ সংকেত দিলেও তা নিয়ে খুব বেশি আলোচনা চাননি। ওয়াকিবহাল মহলের খবর পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমের বিধানসভা নির্বাচনের কথা বিবেচনায় রেখে নয়া দিল্লি খলিলুরের সফরকে সরকারিভাবে খুব বেশি আলোচনায় আনতে চাইছে না। এই দুই রাজ্যেই দিল্লির শাসক দল বিজেপির অন্যতম ইস্যু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ। এই সময় বাংলাদেশের মন্ত্রীকে নিয়ে মাতামাতি চায়না নয়া দিল্লি। কারণ বিরোধীরা এই সফরকে বিজেপির বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে বলে শাসকদলের একাংশ মনে করছে। বিরোধীরা বলতে পারে একদিকে বিজেপি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের কথা বলছে, অন্যদিকে সেই দেশের মন্ত্রীদের খাতির করছে।