শুরুটা ছিল সাধারণ পারিবারিক জমি বিবাদের। শেষটা রক্তাক্ত ষড়যন্ত্র। আর সেই ‘পারফেক্ট ক্রাইম’-এর মুখোশ খুলে দিল একটা ছেঁড়া কাগজ আর একটা স্নিফার ডগ।

শেষ আপডেট: 9 January 2026 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ভিন্দ জেলার গঙ্গেপুরা গ্রামের মানুষজন গত দু’মাস ধরে একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলেন, ৭০ বছরের বৃদ্ধ শিবনারায়ণ কৌরবকে মাঝরাতে ডেকে নিয়ে গিয়ে কে খুন করতে পারে? মাঠের আলের পাশে গলা কাটা দেহ পাওয়া গিয়েছিল তাঁর। কোনও প্রত্যক্ষদর্শী নেই, সন্দেহভাজন নেই। ছিল শুধু আতঙ্ক আর অন্ধকার (scraps revealed mysterious death case)।
তারপর হঠাৎই বদলে গেল তদন্তের মোড় - এক টুকরো ছেঁড়া কাগজই খুলে দিল খুনের জট।
পুলিশ এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে - মৃতের ভাইপো শিবরতন কৌরব, নাতি মহেন্দ্র কৌরব এবং গ্রামেরই বাসিন্দা বদাম সিং। তাঁদের জবানবন্দি থেকেই উদ্ধার হয়েছে খুনে ব্যবহৃত কুঠার এবং লোহার রড।
জমিজমার পুরনো দ্বন্দ্বেই রক্তপাত
এসডিপিও প্রবীণ ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, প্রায় ৫০ বিঘে (৩১ একর) পারিবারিক জমি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলছিল দ্বন্দ্ব। শিবনারায়ণের বোন সূরজা দেবীর মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী রামস্বরূপ গৌতম আদালতে মামলা করেন স্ত্রীর অংশ পাবার দাবিতে। সেই মামলায় সাক্ষী দেন শিবনারায়ণ।
এই সাক্ষ্যই তাঁর বিপদ ডেকে আনে। কারণ, ওই বিতর্কিত জমি আগে থেকেই দখল করে রেখেছিল তাঁর নাতি মহেন্দ্র এবং ভাইপো শিবরতন। শিবনারায়ণের সাক্ষ্য ‘বিপক্ষের’ পক্ষে যাওয়ায় রাগের মাথায় তাঁরা পরিকল্পনা করে এই খুনের।
খুনের রাত
১৪-১৫ নভেম্বরের রাতে ফসল পাহারা দিতে নিজের মাঠেই ঘুমোচ্ছিলেন শিবনারায়ণ। সেই সময় হামলা চালায় তিনজন। পুলিশের দাবি, বৃদ্ধের গলা কেটে খুন করে পালিয়ে যায় তারা।
সকালে গ্রামের মানুষ দেহ দেখতে পেয়ে আতঙ্কে ছুটে যায়। কিন্তু ক্লু বলতে মাঠে পড়ে থাকা একটা মুচড়ানো ছেঁড়া কাগজ। তাতে ছিল কিছু অস্পষ্ট নাম, যার কোনওটাই তখন গুরুত্ব পায়নি।
স্নিফার ডগের ঘ্রাণে মিলল প্রথম সূত্র
ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক টিম পৌঁছলে সেই কাগজটি তুলে নেয় তদন্তকারীরা। পরে স্নিফার ডগকে দেওয়া হয় কাগজের গন্ধ নিতে।
অবাক করে দিয়ে কুকুরটি সোজা দৌড়ে গেল বদাম সিংয়ের বাড়ির দিকে। স্থানীয়রাও তাঁর ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁকে আটক করে জেরা শুরু করে পুলিশ।
প্রথমে ঘোরতর অস্বীকার। পরে দীর্ঘ জেরার মুখে ভেঙে পড়ে বদাম সিং। তিনিই জানান পুরো ষড়যন্ত্রের হদিশ, শিবরতন আর মহেন্দ্রই পুরো পরিকল্পনার মূল কারিগর।
গ্রেফতার, স্বীকারোক্তি, উদ্ধার
বদাম সিংয়ের বয়ান অনুযায়ী পুলিশ গ্রেফতার করে ভাইপো শিবরতন এবং নাতি মহেন্দ্রকে। জেরায় দু’জনেই অপরাধ স্বীকার করে। তাঁদের দেখানো জায়গা থেকে উদ্ধার হয় কুঠার এবং লোহার রড।
তিনজনকেই আদালতে তোলা হয় এবং পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আলমপুর থানার তদন্তকারীরা বলছেন, পুরো ঘটনাটি পুনর্গঠন করার কাজ চলছে।
এক টুকরো কাগজে খুলল খুনের রহস্য
শুরুটা ছিল সাধারণ পারিবারিক জমি বিবাদের। শেষটা রক্তাক্ত ষড়যন্ত্র। আর সেই ‘পারফেক্ট ক্রাইম’-এর মুখোশ খুলে দিল একটা ছেঁড়া কাগজ আর একটা স্নিফার ডগ।