
মোদী-একনাথ
শেষ আপডেট: 12 June 2024 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটে যে রাজ্যগুলিতে বিজেপি তথা এনডিএ'র ফল এবার খারাপ হয়েছে মহারাষ্ট্র তার অন্যতম। রাজ্যের ৪৮টি আসনের অর্ধেকের বেশি জিতে নিয়েছে ইন্ডিয়া জোটের শরিকেরা। বড় ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান শরিক একনাথ শিন্ডের শিবসেনা, অজিত পাওয়ারের এনসিপি এবং বিজেপি।
ফল প্রকাশের পরদিনই প্রাথমিক পর্যালোচনা বৈঠকে বিপর্যয়ের দায় নিয়ে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফর্ড়ণবিশ। অন্যদিকে শিন্ডের শিবসেনা এবং অজিত পাওয়ারের এনসিপি'তে শুরু হয় ঘরোয়া বিবাদ। আসুন বণ্টন, প্রচারে সমন্বয়ের অভাব ইত্যাদি কারণ সামনে আসে।
তবে বুধবার শাসক শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। তাঁর মতে, ৪০০ এর বেশি আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণাই ভোট বিপর্যয়ের কারণ।
শিন্ডের ব্যাখ্যা, বিজেপির পক্ষ থেকে এনডিএ'র আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছিল ৪০০-র বেশি। কিন্তু কেন চারশো পারের কথা শাসক জোট বলছে তা মানুষের কাছে পষ্ট করা যায়নি।
এই সুযোগে বিরোধীরা মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে এনডিএ সরকার চারশোর বেশি আসন জয় করে ক্ষমতায় টিকে গেলে সংবিধান সংশোধন করে অনেক অধিকার কেড়ে নেবে। বিশেষ করে দলিত, আদিবাসীরা সংরক্ষণের সুবিধা হারাবেন। শিন্ডে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ আনলেও তার কথার মূল সুর হচ্ছে চারশো পারের ঘোষণাই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ।
শুধু শিন্ডে নন, রাজনৈতিক পণ্ডিতদের অনেকেই মনে করেন কেন নরেন্দ্র মোদী ৪০০র বেশি আসুন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিলেন তার কোন স্পষ্ট ব্যাখ্যা তিনি বা বিজেপি দেয়নি। তাতে বিরোধীদের সুবিধা হয়ে যায় এটা বোঝাতে যে বিজেপি ৪০০র বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় এলে ঘোর বিপদ। সাধারণ মানুষের মনে বিরোধীরা ভয় ধরাতে সক্ষম হয়।