উড়ান দেরিতে ছাড়ায় এক কিডনি প্রতিস্থাপনের এক মুমূর্ষুকে জরুরি ভিত্তিতে আকাশপথে মুম্বইয়ের হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হয়েছে।

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 7 June 2025 16:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক পাইলটের একগুঁয়েমিতে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সাময়িক ‘যাত্রাভঙ্গ’ ঘটলেও তা এক মুমূর্ষু মহিলার ‘বিঘ্ননাশক’ হয়ে দাঁড়াল। উপমুখ্যমন্ত্রী শিন্ডে জলগাঁওয়ে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন শুক্রবার। অনুষ্ঠান সারতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। তাতে পাইলট রাতের অন্ধকারে অর্থাৎ চার্টার্ড ফ্লাইটের ওড়ার সময় পেরিয়ে যাওয়ায় উড়ান চালাতে অস্বীকার করেন।
কিন্তু, তাঁর সেই জেদের কারণে দেরি হলেও তা প্রাণ বাঁচাল এক কিডনি রোগিণীর। রাজ্যের শাসকদলের প্রভাবে নতুন করে অনুমতি বের করে ওই উড়ান রওনা দেয়। শনিবার শিন্ডের দফতর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উড়ান দেরিতে ছাড়ায় এক কিডনি প্রতিস্থাপনের এক মুমূর্ষুকে জরুরি ভিত্তিতে আকাশপথে মুম্বইয়ের হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর দুটি কিডনিই একেবারে বিকল হয়ে গিয়েছিল। সঠিক সময়ে অস্ত্রোপচার করা জরুরি ছিল।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মুক্তিনগরে সন্ত মুক্তাইয়ের পালকিযাত্রায় অংশ নিতে জলগাঁও গিয়েছিলেন শিন্ডে। আর তাতেই মুম্বই ফেরার সময়ে বিলম্ব ঘটে যায়। তিনি যখন বিমানবন্দরে আসেন, তখন সন্ধ্যা গড়িয়ে গিয়েছে। বিমানের পাইলট জানান, যাঁর ডিউটি খতম। আর রাতে চার্টার্ড বিমান চালানোর নিয়ম নেই।
যদিও পাইলটের বিমান চালাতে অস্বীকার করার কথা মানতে চাননি রাজ্যের জল সরবরাহ মন্ত্রী তথা শিবসেনা নেতা গুলাবরাও পাটিল। তিনি বলেন, পাইলট না করে দেননি। তাঁর ডিউটির সময় নিয়ে খানিকটা সমস্যা হয়েছিল। তাঁর ৯ ঘণ্টা কাজের মধ্যে ৮ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট কেটে গিয়েছিল। তাই তিনি জানান, অনুমতি ছাড়া তিনি উড়ান নিয়ে যেতে পারবেন না। এসব আইনি জটিলতা মিটিয়ে শিন্ডের বিমান প্রায় পৌনে ১০টা নাগাদ জলগাঁও থেকে ছাড়ে।
পাটিল আরও বলেছেন, তবে বিলম্বে লাভই বেশি হয়েছে। জলগাঁওয়ের এক রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য মধ্যরাতের মধ্যে মুম্বইয়ের হাসপাতালে পৌঁছনোর প্রয়োজন ছিল। হাসপাতালে পৌঁছতে দেরি হয়ে গেলে ওই রোগিণীর আর কিডনি প্রতিস্থাপন করা যেত না। কারণ, তাঁর পরিবার তাঁদের উড়ান ধরতে পারেননি। ফলে মৃত্যু তাঁর শিয়রে দাঁড়িয়েছিল। এই অবস্থায় শিন্ডে ওই রোগিণীকে তাঁর বিমানে তুলে নেন বলে দাবি দলের নেতার।
রোগিণীর পরিবারের লোকজন জলসম্পদ মন্ত্রী গিরিশ মহাজনের মাধ্যমে শিন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শীতল বোরাদে নামে ওই রোগিণীকে এয়ারলিফ্ট করার অনুরোধ জানান তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে শিন্ডে দলের দুই কর্মীকে বিমান থেকে নামিয়ে শীতল বোরাদের স্ট্রেচার রাখার জায়গা করিয়ে দেন। বোরাদের সঙ্গে তাঁর স্বামীকেও বিমানে নিয়ে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে তিনি মুম্বই বিমানবন্দরে বিশেষ অ্যাম্বুল্যান্স তৈরি রাখার নির্দেশও দেন।