Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
স্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়

ইডি নিশানায় গান্ধী পরিবার, নানা মামলায় চার্জশিটে নাম সনিয়া, রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, রবার্টের 

ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় মঙ্গলবার দিল্লির আদালতে ইডির পেশ করা চার্জশিটে কংগ্রেসের দুই প্রাক্তন সভাপতি সনিয়া (Sonia Gandhi) ও রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) নাম রয়েছে।

ইডি নিশানায় গান্ধী পরিবার, নানা মামলায় চার্জশিটে নাম সনিয়া, রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, রবার্টের 

ফাইল চিত্র

শেষ আপডেট: 16 April 2025 10:08

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ন্যাশনাল হেরাল্ড (Nation Herald) মামলায় মঙ্গলবার দিল্লির আদালতে ইডির (Enforcement Directorate) পেশ করা চার্জশিটে কংগ্রেসের দুই প্রাক্তন সভাপতি সনিয়া (Sonia Gandhi) ও রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) নাম রয়েছে। মঙ্গলবারই এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট গুরুগ্রামে (Gurugram) জমি কেলেঙ্কারির (Land Scam) মামলায় প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর (Priyanka Gandhi) স্বামী রবার্ট ভদ্রাকে (Robert Vodra) ছয়ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। বুধবারও তাঁকে তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সিটি। অন্যদিকে, ইয়েস ব্যাঙ্কের (Yes Bank) আর্থিক তছরুপের মামলায় গত বছরের শেষ দিকে মুম্বইয়ের আদালতে পেশ করা ইডির চার্জশিটে নাম রয়েছে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর।

সনিয়া, রাহুলের নাম চার্জশিটে উল্লেখ করার প্রতিবাদে কংগ্রেস বৃহস্পতিবার গোটা দেশে ইডি অফিস ঘেরাও-সহ প্রতিবাদের একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। চার্জশিটের কপি হাতে পাওয়ার পর আইনি পদক্ষেপ করবে দল, জানিয়েছেন এক প্রবীণ নেতা।

জওহরলাল নেহরু প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল হেরান্ড কাগজের সম্পত্তি লেনদেনের মামলায় ইডি দু বছর আগে সনিয়া ও রাহুল গান্ধীকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করে। দু’জনকেই ইডি দফতরে যেতে হয়েছিল। ন্যাশনাল হেরাল্ডের প্রতিষ্ঠাতা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড জার্নাল লিমিটেডকে ঋণভার মুক্ত করতে কংগ্রেস ওই সংস্থার যাবতীয় সম্পদ ইয়ং ইন্ডিয়া নামে তৃতীয় একটি সংস্থার হাতে অর্পণ করে। ওই সংস্থার ডিরেক্টর পদে আছেন সনিয়া ও রাহুল গান্ধী। তাঁদের নামে সংস্থার ৩৮ শতাংশ করে শেয়ার আছে। হস্তান্তরের সময় সনিয়া ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি। বাকি শেয়ার ছিল তিন কংগ্রেস নেতা সাম পিত্রোদা, মতিলাল ভোরা এবং অস্কার ফার্নান্ডেজের নামে। শেষের দু’জন বর্তমানে প্রয়াত।

বিজেপি নেতা সুব্রাহ্মন্যম স্বামী এই হাতবদল ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রথমে আয়কর দফতরে মামলা করেছিলেন। আয়কর দফতর আদালতকে বৃহত্তর তদন্তের আদেশ দিয়ে আর্জি জানালে ইডি তদন্ত শুরু করে। কংগ্রেসের অবশ্য বক্তব্য, অ্যাসোসিয়েটেড জার্নাল এবং ইয়ং ইন্ডিয়া কোনও কোম্পানি নয়। দুটোই ট্রাস্ট। সনিয়া, রাহুলরা অবৈতনিক অধিকর্তা। ব্যক্তিগতভাবে তাঁরা কোম্পানির এক পয়সারও মালিক নন।

বিজেপি নেতার অভিযোগ ছিল, সনিয়া, রাহুলরা চক্রান্ত করে ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে নিয়ে ন্যাশনাল হেরাল্ডের সম্পদ আত্মসাৎ করতে চেয়েছিলেন। ওই মামলায় সনিয়া ও রাহুলকে সশরীরে হাজিরা থেকে আদালত রেহাই দিয়েছে।

সনিয়ার জামাতা রবার্ট বহুদিন ধরেই জমি মামলায় ফেঁসে আছেন। হরিয়ানার বিজেপি সরকারের তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলার একটিতে আদালত তাঁকে রেহাই দিয়েছে। আর একটি জমি সংক্রান্ত মামলায় ইডি জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে মঙ্গলবার থেকে। বুধবার তাঁর ইডি অফিসে যাওয়ার কথা।

এদিকে, ইয়েস ব্যাংকের প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা তছরুপের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত তথা প্রতিষ্ঠাতা রানা কাপুরের বক্তব্য হিসাবে চার্জশিটে ইডি প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর নাম উল্লেখ করেছে। ২০২০-র মার্চ থেকে মহারাষ্ট্রের জেলে বন্দি রানা। ইডি তাঁকে বেআইনিভাবে অর্থ আদানপ্রদানের মামলায় গ্রেফতার করে। চার্জশিটও পেশ করেছে।

চার্জশিটে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি রানা কাপুরের বক্তব্য হিসাবে জানিয়েছে, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কাছ থেকে তাঁকে মকবুল ফিদা হুসেনের আঁকা ছবি দু-কোটি টাকায় কিনতে বাধ্য করা হয়েছিল। তাঁকে চাপ দিয়ে বলা হয়েছিল, সেটি না কিনলে তাঁর অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে। 

ইডি-র চার্জশিট অনুযায়ী রানা কাপুর তাদের বলেছেন, মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা মিলিন্দ দেওরা তাঁকে পরে জানান, ওই দু কোট টাকা নিউইয়র্কে সনিয়া গান্ধীর চিকিৎসার খরচ মেটাতে ব্যয় করা হয়। আর সনিয়ার রাজনৈতিক সচিব প্রয়াত আহমেদ প্যাটেল তাঁকে কথা দিয়েছিলেন, দুঃসময়ে গান্ধী পরিবারের পাশে থাকার পুরস্কার তিনি পাবেন। তাঁর নাম পদ্মবিভূষণের জন্য বিবেচনা করা হবে। 

চার্জশিট অনুযায়ী, হুসেনের শিল্পকর্ম প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কাছ থেকে দু-কোটি টাকায় কিনতে তাঁর উপর চাপ তৈরি করেছিলেন মিলিন্দের বাবা মুরলি দেওরা। এই ঘটনা ২০১০-এর। মুরলি তখন কেন্দ্রের ইউপিএ সরকারের পেট্রলিয়াম মন্ত্রী। দিল্লির লোধি রোডের বাংলায় ডেকে তাঁকে চাপ দেন মুরলি। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে একাধিক ফোন থেকে তাঁকে কল এবং মেসেজ করে চাপ দেওয়া হয়। 

ঘটনা হল, হুসেনের ছবি কিনতে মধ্যস্থতা এবং চাপ দেওয়ার অভিযোগ রানা কাপুর এমন দু’জনের নাম করেছেন যাঁরা এখন প্রয়াত। ওই মামলায় ইডি প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে তলব করতে পারে বলে খবর।


```