প্রাণঘাতী কোল্ডরিফ কফ সিরাপ-কাণ্ডে নড়েচড়ে বসল ইডি। তামিলনাড়ুর একাধিক ওষুধ নিয়ন্ত্রক আধিকারিক ও সংস্থার দফতরে চলছে তল্লাশি।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 13 October 2025 09:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোল্ডরিফ কফ সিরাপ-কাণ্ডে নয়া মোড়। ২২ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (Prevention of Money Laundering Act - PMLA) অনুযায়ী তদন্তে নেমেছে ইডি। সোমবার দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে তামিলনাড়ুর সিনিয়র ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসারদের বাড়ি এবং কোল্ডরিফ সিরাপ প্রস্তুতকারী সংস্থা স্রেসান ফার্মার অফিসও।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল কোম্পানির আর্থিক লেনদেন ও সম্ভাব্য দুর্নীতির নথি উদ্ধার করা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, কোল্ডরিফ সিরাপ তৈরি করা হয়েছে চেন্নাই-ভিত্তিক স্রেসান ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায়, যার মালিক ৭৩ বছর বয়সি জি. রঙ্গনাথনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রদেশে এই সিরাপ খেয়ে অন্তত ২২টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশই হালকা কাশি বা জ্বরের চিকিৎসায় এই ওষুধ খেয়েছিল। পরে দেখা যায়, সিরাপে ছিল প্রাণঘাতী রাসায়নিক ডাইইথিলিন গ্লাইকোল, যা মূলত অ্যান্টিফ্রিজ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই রাসায়নিকই শিশুদের কিডনি বিকল করে দেয় এবং পরে মৃত্যু হয়।
কেন্দ্রীয় ওষুধ মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (CDSCO) তদন্তে জানতে পারে, স্রেসান ফার্মা এবং তামিলনাড়ু ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (TNFDA)-এর মধ্যে একাধিক গাফিলতি ও অনিয়ম ছিল। ২০১১ সালে লাইসেন্স পাওয়ার পর থেকেও সংস্থাটির কারখানায় পরিকাঠামো ও মান নিয়ন্ত্রণের চরম অভাব ছিল, কিন্তু তবুও নিয়মিত উৎপাদন চলত কোনও বাধা ছাড়াই।
এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। একাধিক রাজ্য ইতিমধ্যেই সিরাপটি নিষিদ্ধ করেছে। কীভাবে একটি নিকৃষ্ট মানের ওষুধ বাজারে এল এবং কে বা কারা এর জন্য দায়ী, সেটাই এখন তদন্তের বিষয়।