সিরাপ তৈরির আগে কাঁচামাল ও প্রস্তুত ওষুধের ব্যাচ টেস্টই হয়নি ঠিকমতো। এমনকী চার বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য নিষিদ্ধ ওই ওষুধ সহজলভ্য ছিল দোকানে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 9 October 2025 07:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশে (Madhya Pradesh) কাশির ওষুধ (Cough Syrup) খেয়ে একের পর এক শিশুর মৃত্যুতে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র। স্বাস্থ্য পরিষেবার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস' (DGHS) ইতিমধ্যে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে চিঠি দিয়ে নির্দেশ দিয়েছে - ওষুধ উৎপাদন, ব্যাচ পরীক্ষা নিয়ে কঠোর নজরদারি চালাতে হবে।
সম্প্রতি জানা গেছে, মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারায় 'কল্ডরিফ কফ সিরাপ'-এর মধ্যে ভয়ঙ্কর রাসায়নিক 'ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল' (DEG) মিশে ছিল অনুমোদিত সীমার প্রায় ৫০০ গুণ বেশি। সেই সিরাপ খেয়ে এতদিনে ২০ জন শিশুর মৃত্যু (Child Death) হয়েছে। আরও ৬ শিশু আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও চারটি মৃত্যু হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সিরাপ তৈরির আগে কাঁচামাল ও প্রস্তুত ওষুধের ব্যাচ টেস্টই হয়নি ঠিকমতো। এমনকী চার বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য নিষিদ্ধ ওই ওষুধ সহজলভ্য ছিল দোকানে। তামিলনাড়ুর ওই ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।
DGHS জানিয়েছে, ওষুধ উৎপাদনের নিয়ম ৭৪(সি) ও ৭৮(সি)(ii) অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যাচের কাঁচামাল ও প্রস্তুত ওষুধ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে চিঠিতে বলা হয়েছে - ওষুধ উৎপাদন শুরু হওয়ার আগে ও বাজারে ছাড়ার আগে প্রতিটি ব্যাচ কঠোরভাবে পরীক্ষা করতে হবে। কারখানা পরিদর্শনের সময় নজরদারি চালাতে হবে এবং কাঁচামাল কেবল অনুমোদিত বিক্রেতাদের থেকেই সংগ্রহ করতে হবে।
শিশুমৃত্যুর ঘটনার পর মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদ ছিন্দওয়ারা ও জবলপুরের দুই ড্রাগ ইন্সপেক্টরকে সাসপেন্ড করেছেন। এছাড়া, রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলারকে বদলি করা হয়েছে।
এদিকে, ওই সিরাপ প্রেসক্রাইব করার অভিযোগে স্থানীয় শিশু বিশেষজ্ঞ প্রবীণ সোনিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর পরিবারের ক্লিনিকও সিল করা হয়েছে। তবে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, ডাঃ সোনি দোষী নন, আসল দায় ওষুধ কোম্পানি ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার।
স্বাস্থ্য দফতর ইতিমধ্যেই ছ’টি রাজ্যে ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার রিস্ক-বেসড পরিদর্শন শুরু করেছে। ১৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল; এর মধ্যে ১০টির রিপোর্ট এসেছে যার মধ্যে— ৯টি মান অনুযায়ী রয়েছে, একটি ব্যাচ ত্রুটিপূর্ণ।
ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজ্য নিজেদের মতো পদক্ষেপ করছে। যেমন রাজস্থানে ঘরে ঘরে সমীক্ষা, সচেতনতা অভিযান ও বিশেষ কমিটি গঠন হয়েছে। শিশু ও গর্ভবতী নারীর জন্য ক্ষতিকর সিরাপে বিশেষ সতর্কতা-লেবেল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশে 'কল্ডরিফ সিরাপের' বিপজ্জনক ব্যাচ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রে 'SR-13' ব্যাচের বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই ভয়াবহ ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ও শোক। তবে কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী এখন সারা দেশে ওষুধ পরীক্ষায় নজরদারি আরও জোরদার হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক।