এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়ে জাল ডিগ্রি তৈরি করা এবং তা বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়া।

ছবি - গুগল
শেষ আপডেট: 6 November 2025 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুয়ো ডিগ্রির কারবার রুখতে এবার মাঠে নেমে পড়ল কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বৃহস্পতিবার সংস্থাটি ব্যাপক তল্লাশি চালায় উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি ও হরিয়ানা জুড়ে। হাপুরের মনাড ইউনিভার্সিটি (Monad University)-কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বিশাল ভুয়ো ডিগ্রি চক্রের সঙ্গে অর্থ পাচারের যোগ রয়েছে, এই সন্দেহেই শুরু হয় অভিযান (Fake degree racket)।
ইডির লখনউ জোনাল অফিসের নেতৃত্বে এই তল্লাশি শুরু হয়েছে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে। সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, মনাড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাল ডিগ্রি ও সার্টিফিকেট বিক্রির অভিযোগে যে তদন্ত চলছে, তার সূত্র ধরেই এই অভিযান শুরু হয় (ED raids)।
১৬টি জায়গায় অভিযান
ইডি জানায়, বৃহস্পতিবার মোট ১৬টি সন্দেহজনক জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাপুরে মনাড বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস, মীরাট, ও উন্নাওয়ের সরস্বতী মেডিক্যাল কলেজ। পাশাপাশি দিল্লি, ফরিদাবাদ, গুরুগ্রাম ও সোনিপতেও তল্লাশি চালায় ইডি।
কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই জাল ডিগ্রি নেটওয়ার্কের জালে পা দিয়েছেন সারা দেশের একাধিক রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা। কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে এই জালিয়াতি চক্রে, আর সেই অর্থ পাচার হয়েছে একাধিক ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে।
রাজনীতির সঙ্গেও যোগ রয়েছে
এই মামলার মূল অভিযুক্ত বিজেন্দ্র সিং ওরফে বিজেন্দ্র হুডা বর্তমানে জেলবন্দি। তিনি শুধু একজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নন, রাজনৈতিকভাবেও পরিচিত মুখ। হুডা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজনৌর আসন থেকে বহুজান সমাজ পার্টির (BSP) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং প্রায় ২.১৮ লক্ষ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন বিজেন্দ্র হুডা নিজেই। তিনিই বিভিন্ন রাজ্যে নকল ডিগ্রি বিক্রির নেটওয়ার্ক চালাতেন এবং সেই টাকায় তৈরি করতেন ফ্রন্ট কোম্পানি, যার মাধ্যমে অর্থ পাচার হতো।
এর আগেই উত্তরপ্রদেশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) তাঁকে গ্রেফতার করেছিল এই একই মামলায়। বর্তমানে ইডি সেই তদন্তের সূত্র ধরে আর্থিক লেনদেন ও পাচার সংক্রান্ত প্রমাণ খুঁজছে।
মনাড বিশ্ববিদ্যালয় ও সরস্বতী মেডিক্যাল কলেজ ছাড়াও যেসব জায়গায় তল্লাশি হয়েছে, সেগুলো মূলত মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যুক্ত। অনেকেই ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন এবং পুলিশের চার্জশিটেও তাঁদের নাম রয়েছে।
ইডি আধিকারিকদের মতে, এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়ে জাল ডিগ্রি তৈরি করা এবং তা বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। তদন্তকারীরা এখন সেই অর্থ কোন পথে ঘুরে কোন সংস্থা বা ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছে, তার খোঁজে শুরু করেছেন এই তদন্ত অভিযান।