হায়দরাবাদ, দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুতে আইপ্যাকের বিভিন্ন অফিসে তল্লাশি চলছে। সংস্থার অপর এক ডিরেক্টর।

শেষ আপডেট: 2 April 2026 15:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছুতেই জট কাটছে না আই-প্যাকের অন্দরে। জানুয়ারিতেই কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলায় কলকাতায় প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। এবার ফের একবার ইডি হানা। একই মামলায় হায়দরাবাদ, দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুতে আই-প্যাকের বিভিন্ন অফিসে তল্লাশি চলছে। জানা গিয়েছে, সংস্থার অপর এক ডিরেক্টরের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দেশের তিন শহরে ফের তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইডি। হায়দরাবাদ, দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুতে আই-প্যাকের বিভিন্ন অফিসে হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। পাশাপাশি, সংস্থার আরেক ডিরেক্টর ঋষি রাজ সিং-এর বেঙ্গালুরুর বাড়িতেও হানা দিয়েছে সংস্থা।
জানুয়ারি মাসে আই-প্যাকের আরেক ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের কলকাতার বাড়ি এবং অফিসে কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলায় তল্লাশি চালানো হয়। জানা গিয়েছে আজকের তল্লাশিও একই মামলায় করা হচ্ছে। ২০২১ সালের নির্বাচনের সময় থেকে বাংলার শাসকদল তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল তৈরির সঙ্গে যুক্ত এই সংস্থা। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে তারা। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার দাবি, কয়লা পাচারের প্রায় ১০ কোটি টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে আই-প্যাকের হাতে আসে। ২০২২ সালের গোয়া নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে কাজের জন্য তারা এই টাকা নেয় বলে জানা গিয়েছে।
গত জানুয়ারি মাসে, আই-প্যাকের কলকাতা অফিসে ইডি (Enforcement Directorate) হানা দেয় সাত সকালে। সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতেও পৌঁছান অফিসাররা। এই খবর কানে আসা মাত্রই তাঁর বাড়িতে পৌঁছান পুলিশ কমিশনার। সেখানে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)। জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকের সামনে ইডি হানা (I PAC ED Raid) নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, "নির্বাচনের জন্য আমাদের প্রার্থী তালিকা, নির্বাচনী কৌশল, হার্ড ডিস্ক-সহ দলের সব তথ্য হাতানোর জন্যই এই অভিযান।" তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'এটাই কি ইডি এবং অমিত শাহর ডিউটি?'
ইডি সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে এই মামলার তদন্তে ঝাড়খণ্ড (Jharkhand) এবং কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় কয়লা পাচার মামলায় অনুপ মাঝি ওরফে লালা (Anup Majhi alias Lala)-কে দিল্লিতে ডেকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। সেই জেরার সূত্র ধরেই প্রতীক জৈনের নাম উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের হাতে আসে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কিছু তথ্য, যা যাচাই করতেই ফের সক্রিয় হয় ইডি।