তদন্তের স্বার্থে পিএমএলএ-র ১৭ নম্বর ধারায় মুম্বই ও দিল্লিতে গোষ্ঠী-সংযুক্ত ৩৫টিরও বেশি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। ৫০টির বেশি সংস্থাকে ঘিরে নথি খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং ২৫ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

অনিল আম্বানি
শেষ আপডেট: 25 February 2026 19:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যাঙ্ক জালিয়াতি সংক্রান্ত তদন্তে (Bank Fraud Case) বড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি (ED Investigation)। রিলায়েন্স গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান অনিল আম্বানির (Anil Ambani News) মুম্বইয়ের ১৭ তলা বিলাসবহুল আবাস ‘অ্যাবোড’ সংযুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। পালি হিল এলাকায় অবস্থিত ৬৬ মিটার উঁচু এই সম্পত্তির মূল্য ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭১৬.৮৩ কোটি টাকা (Anil Ambani Net Worth)।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA Act)-এর আওতায় অস্থায়ী সংযুক্তিকরণের নির্দেশ জারি হয়েছে। এই পদক্ষেপের পর মামলায় মোট সংযুক্ত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস (আরকম)-কে ঘিরে আর্থিক অনিয়ম ও ঋণ তছরুপের অভিযোগে বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ। সিবিআইয়ের দায়ের করা দুটি এফআইআরের ভিত্তিতে ইডি তদন্ত শুরু করে। অভিযোগে প্রতারণা, ঘুষ এবং জনসাধারণের তহবিল সরানোর প্রসঙ্গ রয়েছে, যা রিলায়েন্স অনিল আম্বানি গ্রুপের অন্তর্গত সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে উত্থাপিত।
তদন্তের স্বার্থে পিএমএলএ-র ১৭ নম্বর ধারায় মুম্বই ও দিল্লিতে গোষ্ঠী-সংযুক্ত ৩৫টিরও বেশি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। ৫০টির বেশি সংস্থাকে ঘিরে নথি খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং ২৫ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ একটি সুসংগঠিত পদ্ধতিতে অন্যত্র সরানো হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শেল সংস্থার মাধ্যমে অর্থ ঘোরানো, অনুমোদনের আগেই ঋণ বিতরণ, এবং যথাযথ যাচাই ছাড়াই ঋণ মঞ্জুরির অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঋণ বিতরণের ঠিক আগে ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রোমোটার-সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানে অর্থ লেনদেন হয়েছিল কিনা, তাও তদন্তাধীন।
এদিকে রিলায়েন্স হোম ফিন্যান্স লিমিটেডের ঋণ বিতরণেও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে কর্পোরেট ঋণ যেখানে ছিল ৩ হাজার ৭৪২.৬০ কোটি টাকা, পরের বছর তা বেড়ে ৮ হাজার ৬৭০.৮০ কোটিতে পৌঁছয়। এই বৃদ্ধির সঙ্গে বৃহত্তর ঋণ তছরুপের যোগ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই আরকম ও অনিল আম্বানিকে আরবিআই নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘ফ্রড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিষয়টি সিবিআইয়ের কাছেও জানানো হয়েছে। আরকম বর্তমানে দেউলিয়া প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে।
তবে রিলায়েন্স পাওয়ার ও রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার স্পষ্ট জানিয়েছে, আরকম বা রিলায়েন্স হোম ফিন্যান্সের সঙ্গে তাদের কোনও আর্থিক বা ব্যবসায়িক যোগ নেই।
‘অ্যাবোড’ সংযুক্তির মাধ্যমে দেশের অন্যতম বহুল আলোচিত কর্পোরেট তদন্তে নতুন অধ্যায় শুরু হল বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত যত এগোবে, আর্থিক লেনদেনের জটিল স্তরগুলি ততই স্পষ্ট হবে।