তদন্ত এখনও চলছে। ফলে এই মামলা ভারতে সেলিব্রিটি এন্ডোর্সমেন্ট ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ভবিষ্যতের উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে, বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

শেষ আপডেট: 19 December 2025 21:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবৈধ অনলাইন বেটিং চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বেটিং অ্যাপ মামলায় ইতিমধ্যেই ইডি বাজেয়াপ্ত করেছে মোট ৭.৯৩ কোটি টাকার সম্পত্তি (ED action betting app case), যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন একাধিক পরিচিত তারকা। টলিউডের মিমি চক্রবর্তী, অঙ্কুশ হাজরা তো বটেই, এই তালিকায় রয়েছেন বলিউড থেকে ক্রীড়াজগত। নাম জড়িয়েছে অভিনেত্রী উর্বশী রাউতেলা, অভিনেতা সোনু সুদ, নেহা শর্মা, প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিং ও রবিন উথাপ্পা-সহ আরও অনেকের (celebrity endorsement illegal betting)।
এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA), ২০০২-এর আওতায়।
কীভাবে শুরু তদন্ত?
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের দায়ের করা একাধিক এফআইআরের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ ছিল, বিদেশভিত্তিক অবৈধ বেটিং প্ল্যাটফর্ম ‘1xBet’ ভারতে বেআইনি অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ব্যবসা চালাচ্ছে।
ইডির দাবি, 1xBet-এর পাশাপাশি তার সারোগেট ব্র্যান্ড 1xBat এবং 1xbat Sporting Lines-ও দেশে অবৈধ বেটিং কার্যকলাপ চালানো ও প্রচারের সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিল।
ইডি-র জালে কোন কোন সেলিব্রিটি?
ইডি-র তদন্তে উঠে এসেছে, বলিউড অভিনেত্রী উর্বশী রাউতেলা ছাড়াও সোনু সুদ, নেহা শর্মা, মিমি চক্রবর্তী, অঙ্কুশ হাজরা, এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার যুবরাজ সিং ও রবিন উথাপ্পা - সকলেই বিদেশি বেটিং প্ল্যাটফর্মের প্রচারে যুক্ত ছিলেন।
ইডি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট তারকারা জেনে-বুঝেই বিদেশি সংস্থার সঙ্গে এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি করেন, যাতে সারোগেট ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে 1xBet-এর প্রচার করা যায়।
এই প্রচার চালানো হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, অনলাইন ভিডিও, প্রিন্ট বিজ্ঞাপন -এর মাধ্যমে, যদিও সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলির ভারতে ব্যবসা করার কোনও বৈধ অনুমোদন ছিল না।
টাকার পথ ও ‘প্রসিডস অফ ক্রাইম’
ইডি আধিকারিকদের দাবি, এন্ডোর্সমেন্ট বাবদ পাওয়া টাকা বিদেশি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ঘুরিয়ে আনা হয়েছিল এবং একাধিক স্তরের লেনদেনের মাধ্যমে টাকার উৎস আড়াল করা হয়।
তদন্তে এই অর্থকে ‘প্রসিডস অফ ক্রাইম’ (POC) হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইডি, যা সরাসরি অবৈধ বেটিং ব্যবসা থেকে এসেছে বলে অভিযোগ।
আগেও বাজেয়াপ্ত হয়েছে তারকাদের সম্পত্তি
এই মামলায় প্রথমবার তারকাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নয়। এর আগে, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর, একই তদন্তের অংশ হিসেবে ইডি শিখর ধাওয়ান ও সুরেশ রায়নার ১১.১৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল।
কড়া সতর্কবার্তা ইডি-র
ইডি ফের একবার স্পষ্ট করেছে, অবৈধ বেটিং ও জুয়ার প্ল্যাটফর্মগুলি দেশের অর্থনীতির পক্ষে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং এগুলি প্রায়শই মানি লন্ডারিং ও অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপে ব্যবহৃত হয়।
সংস্থার তরফে সাধারণ মানুষকে এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকে দূরে থাকার এবং সন্দেহজনক লেনদেন বা বিজ্ঞাপনের খবর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে, ইডি কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে যে - সেলিব্রিটি ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা যদি অবৈধ বেটিং বা জুয়ার প্ল্যাটফর্ম, এমনকি সারোগেট বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও প্রচার করেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্ত এখনও চলছে। ফলে এই মামলা ভারতে সেলিব্রিটি এন্ডোর্সমেন্ট ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ভবিষ্যতের উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে, বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।