ব্রিফিং চলাকালীন পর্যবেক্ষকদের নির্বাচনী তালিকা প্রস্তুত, ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া, নির্বাচনী ব্যয়ের উপর নজরদারি, তথ্যপ্রযুক্তি ও মিডিয়া সংক্রান্ত বিধিনিষেধসহ একাধিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহারের একটি সরাসরি প্রদর্শনীও দেখানো হয়, যাতে সরেজমিনে কাজ করার সময় কোনও বিভ্রান্তি না থাকে।

জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 6 February 2026 15:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Elections) আগে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক (Central Observers Briefing Meeting) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করল নির্বাচন কমিশন। অসম, কেরল, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নিযুক্ত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের ব্রিফিং পর্ব শুক্রবার শেষ হয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) উদ্যোগে এই ব্রিফিং আয়োজন করা হয়েছিল দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট (IIIDEM)-এ।
নির্বাচন কমিশন (ECI) সূত্রে জানানো হয়েছে, ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি, দু’দিন ধরে তিনটি পর্যায়ে এই ব্রিফিং বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মোট ১ হাজার ৪৪৪ জন আধিকারিক এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ৭১৪ জন জেনারেল অবজার্ভার, ২৩৩ জন পুলিশ অবজার্ভার এবং ৪৯৭ জন ব্যয় সংক্রান্ত পর্যবেক্ষক। ভোট পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে তাঁদের বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়।
ব্রিফিং চলাকালীন পর্যবেক্ষকদের নির্বাচনী তালিকা প্রস্তুত, ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া, নির্বাচনী ব্যয়ের উপর নজরদারি, তথ্যপ্রযুক্তি ও মিডিয়া সংক্রান্ত বিধিনিষেধসহ একাধিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহারের একটি সরাসরি প্রদর্শনীও দেখানো হয়, যাতে সরেজমিনে কাজ করার সময় কোনও বিভ্রান্তি না থাকে।
ব্রিফিংয়ের শেষ দিনে পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ড. সুখবীর সিং সান্ধু এবং ড. বিবেক যোশী। এই বৈঠকে পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে একটি প্রশ্নোত্তর পর্বও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার উত্তর দেন কমিশনের শীর্ষ কর্তারা।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে জানান, ভারতের নির্বাচন সংবিধান ও আইনের নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয়। কমিশনের নির্দেশিকা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনও সুযোগ নেই বলেও তিনি পর্যবেক্ষকদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, গত এক বছরে কমিশন যে নতুন উদ্যোগগুলি নিয়েছে, তার পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য আরও কিছু নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই সমস্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে কার্যকর করার দায়িত্ব পর্যবেক্ষকদের উপরই বর্তায়। ভোট যাতে সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
উল্লেখ্য, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ২০বি ধারার অধীনে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের নিয়োগ করে। মাঠপর্যায়ে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু ও কার্যকর করতে কমিশনকে সহায়তা করাই তাঁদের মূল দায়িত্ব।
এই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত দেখা গেছিল নির্বাচন কমিশনের। পশ্চিমবঙ্গের ২৫ জন সিনিয়র অফিসারকে কেন্দ্রীয় অবজারভার হিসেবে নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করে কমিশন। ওই তালিকায় রয়েছেন রাজ্যের বর্তমান স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা-সহ (JP Meena) ১৫ জন আইএএস এবং ১০ জন আইপিএস আধিকারিক। এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে নবান্ন কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছিল।
রাজ্যের যুক্তি ছিল, ভোটের মুখে শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের বাইরে পাঠানো হলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে কেন্দ্রীয় অবজারভারের দায়িত্বে পাঠানো হলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হতে পারে। সেই কারণেই বিকল্প নাম প্রস্তাব করে মোট ১৭ জন আধিকারিককে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আর্জি জানানো হয়।
কিন্তু নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, এমন কোনও আর্জি তাঁরা মানছে না। যাঁদের নামে এই আবেদন জমা পড়েছিল, তাঁদের নির্ধারিত দিন ও সময়ে বৈঠকে অংশগ্রহণ করতেই হবে। পাশাপাশি আরও নির্দেশ দেওয়া হয়, সংশ্লিষ্ট এই সিদ্ধান্ত দ্রুত সকল আধিকারিকের নজরে আনা বাধ্যতামূলক।