রাহুল গান্ধীর ভোট চুরির অভিযোগকে ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলে নস্যাৎ করল নির্বাচন কমিশন। জানাল, কোনও সাধারণ নাগরিক অনলাইনে ভোট মুছে দিতে পারেন না।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 September 2025 14:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগকে 'ভুল এবং ভিত্তিহীন' বলে খারিজ করল নির্বাচন কমিশন (ECI)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাহুল যে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছেন, তাকে কমিশন সম্পূর্ণ নস্যাৎ করল এদিন।
কমিশনের দাবি, জনগণের কেউই অনলাইনে ভোট মুছতে পারেন না। রাহুল গান্ধী যে ধারণা দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ভুল। কোনও ভোট মুছে ফেলার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়।
কর্নাটকের উদাহরণে কমিশনের জবাব
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কর্নাটকের আলন্দ বিধানসভা আসনে ২০২৩ সালে কিছু ভোট মুছে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা হয়েছিল। সে সময় কমিশন নিজেই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। তথ্য অনুযায়ী, ওই আসনে ২০১৮ সালে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির শুভধ গুট্টেদার। আর ২০২৩ সালে জেতেন কংগ্রেসের বি আর পাতিল।
এর আগেই সাংবাদিক বৈঠকে তোপ দেগেছিলেন রাহুল গান্ধী। অভিযোগ করেছিলেন, সিইসি জ্ঞানেশ কুমার আসলে 'ভারতীয় গণতন্ত্র ধ্বংসকারীদের আড়াল করছেন।' তাঁর দাবি, ভোট কেটে দেওয়ার এক 'সুনিয়োজিত চক্রান্ত' চলছে এখানে। মূলত বিরোধী ভোটারদের নিশানা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছেন দলিত, ওবিসি, আদিবাসী এবং সংখ্যালঘুরা।
কংগ্রেস নেতা দাবি করেন, কর্নাটকের আলন্দ আসনে ৬,০১৮ ভোট প্রতারণামূলকভাবে মুছে দেওয়া হয়েছিল। এর জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল ছদ্মবেশ আর সফটওয়্যার-ভিত্তিক কারসাজি। তাঁর কথায়, 'একটার পর একটা ভোটে বিরোধী শিবিরের ভোটারদের বেছে বেছে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর শতভাগ প্রমাণ আমাদের হাতে আছে।'
তদন্তে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ইচ্ছাকৃতভাবে তদন্ত ঠেকাচ্ছে কমিশন। কর্নাটক সিআইডি ১৮ মাসে ১৮ বার কমিশনকে চিঠি দিয়েছে। চেয়েছে আইপি অ্যাড্রেস, ডিভাইস পোর্ট, ওটিপি ট্রেল, যা দিয়ে বোঝা যাবে কারা এই ভোট কেটে দেওয়ার কাজ করছে। কিন্তু কমিশন কিছুই দেয়নি বলে দাবি করেন রাহুল।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে ভোট মুছে দেওয়া হচ্ছিল। সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভোটারদের ছদ্মবেশে বাদ দেওয়ার আবেদন। এর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছিল কর্নাটকের বাইরের মোবাইল নম্বর। এমনকি বুথ তালিকায় প্রথম নামটি বেছে নিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোট বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল।
আগেও এই সব দাবি খারিজ করেছিল কমিশন। আবারও করল।