লাল বাহাদুর শাস্ত্রী কলেজের কাছে থাকা একটি সিসিটিভিতে ধরা পড়ে দুর্ঘটনার আগের সেই দৃশ্য।

শেষ আপডেট: 18 February 2026 19:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তে কি ঘটেছিল, সবটাই ধরা পড়ল সিসিটিভিতে (speeding SUV CCTV Delhi)। দিল্লির দ্বারকা এলাকায় (Dwarka Delhi road accident minor driver) ২৩ বছরের সাহিলের মৃত্যুর ঘটনায় সামনে এসেছে নতুন একটি ভিডিও, যেখানে দেখা যাচ্ছে ঘাতক ওই এসইউভি দুর্ঘটনার ঠিক আগে বেপরোয়া গতিতে ছুটছিল।
৩ ফেব্রুয়ারি, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী কলেজের কাছে থাকা একটি সিসিটিভিতে ধরা পড়ে দুর্ঘটনার আগের সেই দৃশ্য (juvenile driver crash India)।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি স্করপিও এসইউভি দ্রুত গতিতে রাস্তায় ছুটছে। এক পর্যায়ে কাছের একটি বাসের প্রায় গা ঘেঁষে সেটি বেরিয়ে যায় এবং গতির কারণে নিজের লেনও ঠিকভাবে ধরে রাখতে পারছিল না। তার ঠিক কয়েক সেকেন্ড পরই গাড়িটি রাস্তার উপর হঠাৎ সরে গিয়ে সাহিলের বাইকে সজোরে ধাক্কা মারে (Delhi road accident Dwarka crash)। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
সর্বভারতীয় এক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সকাল প্রায় ১১টা ৫৭ নাগাদ পিসিআর কল মারফত গুরুতর ওই দুর্ঘটনার খবর আসে পুলিশের কাছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি ও একটি বাইক দেখতে পায় পুলিশ। সাহিলকে সেখানেই মৃত ঘোষণা করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, দ্রুতগতির গাড়িটি প্রথমে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলকে ধাক্কা মারে, তারপর একটি দাঁড়ানো গাড়িতেও আঘাত করে।
পুলিশ জানায়, স্টিয়ারিং-এ ছিল এক অপ্রাপ্তবয়স্ক, যার ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। ঘটনাস্থলেই তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে পেশ করা হয় জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড (Juvenile Justice Board)-এর সামনে। সেখান থেকে তাকে একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
তবে ১০ ফেব্রুয়ারি বোর্ড পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে তাকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সব গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে যান্ত্রিক পরীক্ষা করা হয়েছে এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
অভিযুক্তের আইনজীবীর বক্তব্য
অভিযুক্তের আইনজীবী ঘটনাকে “অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত কিশোর ও তার পরিবার মানসিক চাপে রয়েছে। পরীক্ষার সময় এই দুর্ঘটনা তার জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করেনি। পরিবারই তাকে থানায় হাজির করেছিল। পাশাপাশি তিনি অনুরোধ করেন, বিষয়টি যেন ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এ পরিণত না হয়। তাঁর দাবি, পরিবার হুমকিমূলক ফোনও পেয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সাহিলের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আহত এক ট্যাক্সি চালকের বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত এখনও চলছে।
এক সংবাদমাধ্যমে অভিযুক্তের বাবা বলেন, তিনি অত্যন্ত দুঃখিত। সেই প্রসঙ্গে মৃত সাহিলের মা ইননা মাকানের প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র। তাঁর প্রশ্ন, “কিসের জন্য দুঃখিত? আমার জীবন শেষ করে দেওয়ার জন্য? আমি মিডিয়ায় কথা বলার পর দুঃখ প্রকাশ করছেন?” তাঁর কথায়, একটি ‘সরি’ তাঁর ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। ছেলের ছবির পাশে বসে তিনি বলেন, “আমার আর সকাল নেই, সন্ধে নেই। কাজে যাওয়ার কারণ নেই, ঘুম থেকে ওঠার কারণ নেই। ওর জায়গা কি কোনওদিন পূরণ হবে?”
ইননা মাকানের কাছে এই যুক্তি বা সাফল্যের খতিয়ান কোনও সান্ত্বনা নয়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, একটি ‘ভুল’ তাঁর সমগ্র পৃথিবীকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য - ন্যায়বিচার।