নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিতর্কিত Special Intensive Revision (SIR) কর্মসূচির অধীনে এই তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। তবে তালিকা প্রকাশের আগেই দেশজুড়ে, বিশেষত সংসদে, উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়েছে ভোটারদের গণহারে বাদ পড়ার আশঙ্কা নিয়ে।

রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 1 August 2025 16:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার বিকেল ৩টেতে প্রকাশিত হতে চলেছে বিহারের খসড়া ভোটার (Bihar Voter List) তালিকা। নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিতর্কিত Special Intensive Revision (SIR) কর্মসূচির অধীনে এই তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। তবে তালিকা প্রকাশের আগেই দেশজুড়ে, বিশেষত সংসদে, উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়েছে ভোটারদের গণহারে বাদ পড়ার আশঙ্কা নিয়ে।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর আশঙ্কা আরও বেড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এই সংশোধন প্রক্রিয়া একেবারেই অস্বচ্ছ, এবং এর মাধ্যমে বৃহৎ সংখ্যক প্রকৃত ভোটারদেরও তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) বক্তব্য, “আমাদের কাছে প্রমাণ আছে যে নির্বাচন কমিশন ভোট চুরিতে জড়িত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, নির্বাচন কমিশনে যাঁরা এই কাজে জড়িত— ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না।”
লোকসভার বিরোধী দলনেতার হুঁশিয়ারি, “আপনারা ভারতের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। এটা সরাসরি দেশদ্রোহ। আপনারা অবসরপ্রাপ্ত হলেও, আমরা আপনাদের খুঁজে বার করব।” তিনি আরও বলেন, বিহারে যে হারে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, তা গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত।
সূত্রের খবর, বিহারের ২৪৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটিতে ৯০,৮১৭টি বুথের জন্য পৃথক খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ৩৮টি জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা আজ এই তালিকা রাজনৈতিক দলগুলির হাতে তুলে দেবেন, তার পর তা সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে।
চলতি বছরের ২৪ জুন, বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। এর ফলে রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়, কারণ বিহারে শেষবার এমন নিবিড় সংশোধন হয়েছিল ২০০৩ সালে।
নির্বাচ কমিশনের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, বিহারের ৭.৮৯ কোটি বিদ্যমান ভোটারের মধ্যে ৭.২৩ কোটি ভোটারই নাম নথিভুক্তির ফর্ম জমা দিয়েছেন। তবে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে— প্রায় ৬৪ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে, কারণ সেই ভোটারদের কেউ মৃত, কেউ স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন, কেউ একাধিক স্থানে নাম নথিভুক্ত করেছেন, আবার কেউ একেবারেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।