রাজস্থানের যোধপুরে যৌতুকের জন্য হয়রানির শিকার হয়ে এক স্কুল শিক্ষিকা তার তিন বছর বয়সী শিশুকন্যাকে নিয়ে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 25 August 2025 19:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের যোধপুরে যৌতুকের জন্য হয়রানির শিকার হয়ে এক স্কুল শিক্ষিকা তার তিন বছর বয়সী শিশুকন্যাকে নিয়ে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। শুক্রবার এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলেই শিশুকন্যা যশস্বীর মৃত্যু হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তার মা সঞ্জু বিষ্ণোইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শনিবার সকালে তিনিও মারা যান। পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে সঞ্জু তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করেছেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেলে সঞ্জু তার স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর তিনি একটি চেয়ারে বসে নিজের এবং মেয়ের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনাটি ঘটে ডাঙ্গিয়াওয়াস থানা এলাকার সারনাদা গ্রামে তাদের বাড়িতে। ঘটনার সময় তার স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির অন্য কোনো সদস্য বাড়িতে ছিলেন না।
প্রতিবেশীরা বাড়ি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে পুলিশ ও পরিবারকে খবর দেন। তবে তারা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন কিছুই করার ছিল না।
সঞ্জুর মৃত্যুর পর তার বাবা-মায়ের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দেহ নিয়ে বিবাদ শুরু হয়। পরে পোস্টমর্টেমের পর তার দেহ বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং মা ও মেয়ের একসঙ্গে সৎকার করা হয়।
সঞ্জুর বাবা-মা, যারা যোধপুরের ফিটকাসনি গ্রামের বাসিন্দা, তারা জামাই দিলীপ বিষ্ণোই, তার মা ও বাবার বিরুদ্ধে সঞ্জুকে হয়রানি এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। পুলিশে দায়ের করা অভিযোগে তার বাবা ওমারাম বিষ্ণোই জামাইয়ের বিরুদ্ধে হয়রানি ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা করেছেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (এফএসএল) সাহায্যে বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং তদন্তের সময় একটি সুইসাইড নোট পেয়েছে। সঞ্জুর মোবাইল ফোনটিও জব্দ করা হয়েছে।
ওই সুইসাইড নোটে সঞ্জু তার স্বামী, শাশুড়ি, শ্বশুর এবং ননদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করেছেন। তিনি গণপত সিং নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। পুলিশ ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। সূত্রের খবর, গণপত সিং এবং সঞ্জুর স্বামী দুজনে মিলে তাকে শারীরিক ভাবেও হয়রানি করত।