Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
গরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার

ওঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার খতম করে দিতে চাই না! 'বন্ধু মোদী'র প্রশংসা ট্রাম্পের, নাকি হুঁশিয়ারি?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) ‘মহান নেতা’ ও ‘বন্ধু’ বলে প্রশংসা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, (Donald Trump) রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের আশ্বাসে সন্তুষ্ট।

ওঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার খতম করে দিতে চাই না! 'বন্ধু মোদী'র প্রশংসা ট্রাম্পের, নাকি হুঁশিয়ারি?

ট্রাম্প ও মোদী।

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 16 October 2025 12:51

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নাকি প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ওয়াশিংটন থেকে এমনই খবর মিলেছে। জানা গেছে, মোদীকে তিনি “মহান নেতা” ও নিজের “বন্ধু” বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে রাজনীতি-বোদ্ধারা অনেকেই দাবি করছেন, নিছক এই প্রশংসার আড়ালে কড়া হুঁশিয়ারিও আছে। কারণ ট্রাম্প হেসে বলেছেন, “আমি মোদির রাজনৈতিক কেরিয়ার খতম করতে চাই না।”

এই কথাতেই স্পষ্ট, ভারত যদি তেল কেনা নিয়ে রাশিয়ার দিকেই ঝুঁকে থাকে, বা আমেরিকার কথা না শোনে, তাহলে ট্রাম্পও মোটেও হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। এমন কোনও বড় পদক্ষেপই করবেন, যা মোদীকে বিপদে ফেলে তথা ভারতের রাজনীতিকেও প্রভাবিত করে!

জানা গেছে, এদিন একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত তাঁকে আশ্বাস দিয়েছে— তারা রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “মোদী একজন মহান মানুষ। উনি ট্রাম্পকে ভালবাসেন।” এরপরই হেসে যোগ করেন, কেরিয়ার নষ্ট করতে না চাওয়ার কথাটা।

ট্রাম্পের কথায়, “আমি বহু বছর ধরে ভারতকে দেখছি। অসাধারণ দেশ। এক সময় প্রতি বছর একজন নতুন নেতা পেত ভারত, কিন্তু এখন আমার বন্ধু অনেক দিন ধরেই আছেন।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, মোদী তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ভারত আর রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না। তিনি বলেন, “ও নিশ্চিত করেছে যে রাশিয়া থেকে তেল কেনা আর হবে না। এটা একেবারে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করা যায় না, কিন্তু প্রক্রিয়াটা দ্রুত শেষ হবে।”

ট্রাম্পের মতে, এই সিদ্ধান্ত রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে। তাঁর ভাষায়, “এটা একটা বড় পদক্ষেপ। রাশিয়াকে চাপে ফেলতে এটা প্রয়োজন।”

ভারতের প্রতিক্রিয়া

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, ভারতের জ্বালানি নীতির মূল লক্ষ্য সব সময়ই ভারতীয়দের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা, কোনও বিদেশি চাপ নয়।

বুধবার এক বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়েশওয়াল বলেন, “ভারত একটি বড় তেল ও গ্যাস আমদানিকারী দেশ। অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতীয় উপভোক্তার স্বার্থ রক্ষাই আমাদের নিরবচ্ছিন্ন অগ্রাধিকার। আমাদের আমদানি নীতি এই লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “স্থিতিশীল দামের নিশ্চয়তা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ - এই দুই লক্ষ্যই আমাদের জ্বালানি নীতির ভিত্তি। সেই কারণে আমরা সবসময় জ্বালানির উৎসকে বৈচিত্র্যময় করতে চাই, বাজারের অবস্থার উপর নির্ভর করে।”

পাশাপাশি তাঁর এও বক্তব্য, “আমেরিকার ক্ষেত্রেও গত এক দশকে আমরা ধারাবাহিক ভাবে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি করেছি। বর্তমান প্রশাসনও ভারতের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা গভীর করার ইচ্ছা দেখিয়েছে। আলোচনা চলছে।”

আমেরিকার অসন্তোষ ও ইউক্রেন যুদ্ধ

বুধবার ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “যখন ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনছিল, আমরা তাতে খুশি হইনি। কারণ এতে রাশিয়া প্রেসিডেন্ট পুতিনের যুদ্ধকে আর্থিকভাবে টিকিয়ে রাখতে পারছিল।”

তিনি বলেন, “মোদী আমার বন্ধু, আমাদের সম্পর্ক ভাল, কিন্তু ও রাশিয়া থেকে তেল কিনছে— এটা পছন্দ হয়নি। এতে রাশিয়া ইউক্রেনে এই হাস্যকর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারছে, যেখানে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ মারা গেছেন।”

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, আমেরিকার উদ্দেশ্য একটাই— প্রেসিডেন্ট পুতিনকে চাপ দেওয়া যেন তিনি যুদ্ধ থামান। তিনি বলেন, “আমরা চাই তিনি ইউক্রেনীয় ও রাশিয়ান, দুই পক্ষেরই হত্যা বন্ধ করুন। এটা এমন এক যুদ্ধ যা এক সপ্তাহে শেষ হতে পারত, প্রায় চার বছর ধরে চলছে।” 

তিনি আরও জানান, ভারতের প্রতিশ্রুতির পর তিনি আশাবাদী, খুব শিগগিরই ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। তাঁর কথায়, “যখন যুদ্ধ শেষ হবে, তখন ওরা আবার বাণিজ্য শুরু করতে পারবে।” 

পটভূমি: রাশিয়ার তেল কেনায় ভারতের ভূমিকা

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও ইউরোপীয় চাহিদা কমে যাওয়ায় রাশিয়া তেল বিক্রি করে বড় ছাড়ে। সেই সময় ভারত, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে, রাশিয়া থেকে আমদানি বাড়িয়ে দেয়।

আগে যেখানে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি ছিল মোটের ১ শতাংশেরও কম, তা এখন প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে।

তবে এই ক্রয় নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়। ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের রাশিয়া তেল ক্রয়কে কারণ দেখিয়ে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে তোলে। রাশিয়া তেল কেনার জন্য অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও আরোপ করা হয়।

ভারত সেই পদক্ষেপকে “অন্যায্য, অযৌক্তিক ও অনৈতিক” বলেও বর্ণনা করেছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যতদিন চলবে, ততদিন ভারতের জন্য এই ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হবে। একদিকে সস্তা জ্বালানির প্রয়োজন, অন্যদিকে মার্কিন কূটনৈতিক চাপ, এর মাঝে ভারত কী করে, সেটাই এখন দেখার।


```