ট্রাম্প দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। ট্রাম্পের ভাষায়, মোদী আমাকে বলেছেন, আর রাশিয়া থেকে তেল কেনা হবে না।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 16 October 2025 12:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির পাল্টা জবাব দিল নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য - ভারতের জ্বালানি নীতির মূল লক্ষ্য সব সময়ই ভারতীয়দের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা, কোনও বিদেশি চাপ নয়।
বুধবার এক বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়েশওয়াল বলেন, “ভারত একটি বড় তেল ও গ্যাস আমদানিকারী দেশ। অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতীয় উপভোক্তার স্বার্থ রক্ষাই আমাদের নিরবচ্ছিন্ন অগ্রাধিকার। আমাদের আমদানি নীতি এই লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “স্থিতিশীল দামের নিশ্চয়তা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ - এই দুই লক্ষ্যই আমাদের জ্বালানি নীতির ভিত্তি। সেই কারণে আমরা সবসময় জ্বালানির উৎসকে বৈচিত্র্যময় করতে চাই, বাজারের অবস্থার উপর নির্ভর করে।”
পাশাপাশি তাঁর এও বক্তব্য, “আমেরিকার ক্ষেত্রেও গত এক দশকে আমরা ধারাবাহিক ভাবে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি করেছি। বর্তমান প্রশাসনও ভারতের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা গভীর করার ইচ্ছা দেখিয়েছে। আলোচনা চলছে।”
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। ট্রাম্পের ভাষায়, “মোদী আমাকে বলেছেন, আর রাশিয়া থেকে তেল কেনা হবে না। তিনি তা সঙ্গে সঙ্গে করতে পারবেন না, কিছুটা সময় লাগবে, কিন্তু প্রক্রিয়াটি খুব শিগগিরই শেষ হবে।”
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার উপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ বারবার ভারতের তেল কেনার সমালোচনা করেছে। কিন্তু বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বারবার স্পষ্ট করে বলেছেন, ভারত নিজের নাগরিকদের স্বার্থে সবচেয়ে সাশ্রয়ী চুক্তি করতে চায়, অন্যের ইঙ্গিতে নয়। তিনি পশ্চিমের ভণ্ডামির কথাও উল্লেখ করে বলেন, “ইউরোপের সমস্যাই যেন বিশ্বের সমস্যা, কিন্তু বিশ্বের সমস্যা ইউরোপের নয়— এই মানসিকতা বদলাতে হবে।”
ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে বিরোধীরাও কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেছে। লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, “মোদীজি ট্রাম্পকে ভয় পান। একদিকে তাঁকেই দায়িত্ব দিয়েছেন ঘোষণা করার - ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে, অন্যদিকে বারবার অপমান সত্ত্বেও ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।” এই আবহেই কড়া বার্তা দিল ভারত।