ধস থেকে বেঁচে যাওয়া গ্রামবাসীরা বর্তমানে পাশের ত্রিয়ম্বলা গ্রামের নয়না দেবী মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানেই বিগত এক সপ্তাহ ধরে কোনওরকমে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। অনেকে মানসিক চাপে ভুগছেন, কারও রক্তচাপ বেড়েছে।

কুকুরের সজাগ চিৎকারে প্রাণ বাঁচল গ্রামবাসীদের
শেষ আপডেট: 8 July 2025 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অঝোর বর্ষণে বিধ্বস্ত হিমাচল প্রদেশ (Himachal Pradesh)। একের পর এক ভূমিধস (Landslide), হড়পা বান, মেঘ ভাঙা বৃষ্টি- সেই পরিস্থিতিতে মান্ডি জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে মাঝরাতে এক কুকুরের তীব্র চিৎকারে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। সারমেয়র সজাগ ভূমিকায় মৃত্যুর মুখ থেকে প্রাণে বাঁচলেন অন্তত ৬৭ জন।
ঘটনাটি মান্ডি (Mandi) জেলার ধর্মপুর এলাকার সিয়াথি গ্রামের। দিনটি ছিল ৩০ জুন। সময় ঠিক রাত বারোটা পেরিয়েছে। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে গ্রামের এক বাড়ির দোতলায় ঘুমিয়ে থাকা কুকুরটি হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে। বাড়ির মালিক নরেন্দ্র জানান, 'ওর ডাকেই আমার ঘুম ভাঙে। গিয়ে দেখি দেওয়ালে ফাটল ধরেছে, ঘরের মধ্যে জল ঢুকছে। সঙ্গে সঙ্গে ওকে নিয়ে নীচে যাই আর সবার ঘুম ভাঙাই।'
নরেন্দ্র এরপর গোটা গ্রামে ছুটে গিয়ে একে একে ২০টি পরিবারের সবাইকে সতর্ক করেন। অন্তর ৬৭ জন দ্রুত ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে বিপর্যয়, ভয়ানক ভূমিধসে গ্রাম তছনছ হয়ে যায়। অন্তত ১২টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় ধসের নিচে। এখন গ্রামে মাত্র কয়েকটি বাড়ি কোনওক্রমে টিকে রয়েছে।
ধস থেকে বেঁচে যাওয়া গ্রামবাসীরা বর্তমানে পাশের ত্রিয়ম্বলা গ্রামের নয়না দেবী মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানেই বিগত এক সপ্তাহ ধরে কোনওরকমে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। অনেকে মানসিক চাপে ভুগছেন, কারও রক্তচাপ বেড়েছে। প্রশাসনের তরফে আপাতত মাথাপিছু ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে। আশপাশের গ্রাম থেকেও কিছু ত্রাণসামগ্রী এসে পৌঁছেছে।
হিমাচল প্রদেশে বর্ষা শুরু হওয়ার পর (২০ জুন থেকে) এখনও পর্যন্ত ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জন মারা গিয়েছেন দুর্যোগে (ভূমিধস, হড়পা বান, মেঘ ভাঙা বৃষ্টি)। বাকি ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে দুর্ঘটনায়।
রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের (SDMA) তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া বর্ষায় এখনও পর্যন্ত হিমাচলে মৃত্যু হয়েছে ৭৮ জনের। এর মধ্যে ৫০ জন দুর্যোগজনিত ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, বাকিরা সড়ক দুর্ঘটনায়। এখন পর্যন্ত রাজ্যে ২৩টি হড়পা বান, ১৯টি মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং ১৬টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মান্ডি জেলা। এখানে প্রায় ১৫৬টি রাস্তা সহ রাজ্যের মোট ২৮০টি পথ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই হিমাচলের ১০টি জেলায় ফের দুর্যোগের সতর্কতা জারি করেছে।