সোশ্যাল মিডিয়ায় ইন্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষের বার্তা, দেশে পেট্রল ও ডিজেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, কোনও ঘাটতি নেই। তাঁদের পোস্টে বলা হয়েছে, গুজবে কান না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ব্যবহার চালিয়ে যেতে হবে।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 27 March 2026 20:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ার যুদ্ধের (Middle East War) আবহে ‘এনার্জি লকডাউন’ (Energy Lockdown) কি হবে? এই নিয়ে এখন ধন্দ। গোটা দেশের মানুষের মনে প্রশ্ন, গ্যাসের জোগান ঠিক মতো রয়েছে কিনা। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ইতিমধ্যে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গ্যাসের পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়ান অয়েল (Indian Oil) কর্তৃপক্ষও বিবৃতি দিয়েছে। ভুয়ো খবর না বিশ্বাস করার বার্তা তাঁদের।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইন্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষের বার্তা, দেশে পেট্রল ও ডিজেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, কোনও ঘাটতি নেই। তাঁদের পোস্টে বলা হয়েছে, গুজবে কান না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ব্যবহার চালিয়ে যেতে হবে। আতঙ্কে অতিরিক্ত মজুত করা বা অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি কেনার প্রবণতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।
একই সঙ্গে কড়া সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। বোতল, ড্রাম বা খোলা পাত্রে পেট্রল-ডিজেল মজুত বা বহন না করার অনুরোধ করা হয়েছে। এতে গুরুতর অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তাঁদের পরামর্শ, শুধুমাত্র অনুমোদিত পেট্রল পাম্প থেকেই সরাসরি গাড়িতে জ্বালানি ভরতে হবে এবং সমস্ত নিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে হবে।
পাশাপাশি নাগরিকদের কাছে আবেদন করা হয়েছে, শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের তথ্যের ওপর ভরসা রাখুন এবং দায়িত্বশীল আচরণ করুন। কারণ, আতঙ্ক নয় - সচেতনতা ও সংযমই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
Please do not be misled by rumours. Fuel supplies remain normal, and there is no shortage.
Avoid storing or transporting petrol/diesel in bottles, drums, or loose containers, as this poses serious fire hazards.
Always refuel directly into your vehicle at authorized fuel stations,… pic.twitter.com/c4cf5PyGjl— Indian Oil Corp Ltd (@IndianOilcl) March 26, 2026
প্রসঙ্গত, শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জরুরি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে পেট্রোল, ডিজেল এবং এভিয়েশন টার্বাইন ফুয়েল (ATF)-এর কোনও আকাল হবে না।
আমজনতাকে স্বস্তি দিতে একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তিনি -
শুল্ক হ্রাস: পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক কমানো হয়েছে। এমনকি ডিজেলকে আপাতত পুরোপুরি শুল্কমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পেট্রোলের ক্ষেত্রে অন্তঃশুল্ক লিটার প্রতি ১৩ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৩ টাকা করা হয়েছে।
রফতানিতে রাশ: যে সব রিফাইনারি বিদেশ থেকে কাঁচামাল এনে ভারতে পরিশোধন করে বাইরে রফতানি করে, তাদের ওপর বাড়তি শুল্ক চাপানো হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই— দেশের জ্বালানি যেন দেশের বাজারেই পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে মদত: HPCL, BPCL বা IOC-র মতো তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে যাতে তারা বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে কোনও সমস্যার মুখে না পড়ে।
সবথেকে বড় কথা, আমজনতাকে স্বস্তি দিয়ে নির্মলা সীতারামন জানান, ‘লকডাউন’ নিয়ে যে খবর ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, কোভিডের মতো কোনও লকডাউন জারি করার পরিকল্পনা সরকারের নেই।