দেশের শীর্ষ আদালত বলেছে, বিয়ের সময় বাবা-মা যে যৌতুক-টাকাপয়সা, উপহার দিয়েছেন, তা কেবলমাত্র তাঁদের মেয়েকে নয়, বরকেও।

বিবাহ বিচ্ছেদ হলে বরকে বা স্বামীকে অবশ্যই সে সমস্ত পাইপয়সা বুঝিয়ে ফেরত দিতে হবে।
শেষ আপডেট: 4 December 2025 10:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে এখনও পুরুষতান্ত্রিকতার সহজাত প্রবৃত্তি প্রবহমান। একটি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় এই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। দেশের শীর্ষ আদালত বলেছে, বিয়ের সময় বাবা-মা যে যৌতুক-টাকাপয়সা, উপহার দিয়েছেন, তা কেবলমাত্র তাঁদের মেয়েকে নয়, বরকেও। তাই বিবাহ বিচ্ছেদ হলে বরকে বা স্বামীকে অবশ্যই সে সমস্ত পাইপয়সা বুঝিয়ে ফেরত দিতে হবে।
মুসলিম মহিলা (বিবাহ বিচ্ছেদকালীন অধিকার রক্ষা) আইন, ১৯৮৬-র ধারা প্রয়োগ করে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং এনকে সিংয়ের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। বেঞ্চ এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে খারিজ করে দিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট এর আগে রায়ে জানিয়েছিল যে, বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও স্বামী শ্বশুরবাড়ি থেকে পাওয়া যৌতুক-উপহার রেখে দিতে পারবে।
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের মত, ভারতের সংবিধান সকলের জন্য একই আশা-আকাঙ্ক্ষার পক্ষে। যাকে বলে সবদিক থেকে সমানাধিকার, সাম্য। স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে এই এক দৃষ্টিতে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আজও আমাদের দেশে তৈরি হয়নি। পুরুষতান্ত্রিকতা আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়ে গিয়েছে। তাই সমানাধিকারের আদর্শ আমরা ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছি।
আদালত পারে এই অসাম্যের দৃষ্টি দূর করে দিতে এবং অবশ্যই সামাজিক ন্যায়বিচার দিয়ে এর অবসান ঘটাতে পারে। এই বিচারে ১৯৮৬ সালের আইন প্রয়োগের সুযোগ ও উদ্দেশ্য দুইই সামনে এসে গিয়েছে। যে আইনে কোনও মুসলিম মহিলার বিবাহ বিচ্ছেদের শেষে তাঁর সম্মান ও আর্থিক সুরক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই একই আদর্শের সুর রয়েছে ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর ধারায়, যেখানে মহিলা অধিকারের কথা লিখে গিয়েছেন সংবিধান প্রণেতারা।
এই আইনের মূল সূত্রই হল- সকলের চেয়ে আগে রয়েছে সমানাধিকার, আত্মসম্মান রক্ষা এবং স্বশাসন বা নিজেকে নিজে পরিচালিত করার ক্ষমতা থাকা। বিশেষত ছোট শহর বা গ্রামাঞ্চলে থাকা মহিলাদের থাকাখাওয়ার বঞ্চনা ও সুযোগসুবিধার দিকে আলোকপাত করা হয়েছে এই আইনে। আসলে পুরুষতান্ত্রিক প্রবৃত্তি আজও আমাদের সমাজে গেঁথে রয়েছে, বলে মতপ্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
আদালত বলেছে, এই আইনের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে- একজন মহিলার বিয়ের আগে কিংবা পরে তাঁর বাপেরবাড়ি থেকে দেওয়া সমস্ত সম্পত্তি তাঁর নিজের। এমনকী বিয়ের পরেও তাঁর কোনও আত্মীয় বা বন্ধু যদি কোনও উপহার দিয়ে থাকেন, সেগুলির উপর অধিকারও তাঁর। আদালত নির্দিষ্ট করে জানিয়েছে, এছাড়াও স্বামী কিংবা স্বামীর কোনও বন্ধু অথবা স্বামীর আত্মীয়রা যে উপহার দিয়েছেন, সেগুলিও বিবাহ বিচ্ছিন্না মহিলার সম্পত্তি।
আদালত আরও জানিয়েছে, মুসলিম বিবাহের ক্ষেত্রে যে দেন-মোহর হয়, তাতে মহিলাকে যে সম্পত্তি দানের লেখাপত্র থাকে, তা শুধুমাত্র এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্যই করা হয়। ফলে সেখানে উল্লিখিত সমস্ত টাকাপয়াসা, গয়নাগাঁটি সবই ফেরত দিতে হবে বিচ্ছেদের সময়।