প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তি তাঁর প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে পিঠে নিয়ে হাঁটু ও হাতে ভর দিয়ে সরকারি দফতরে এলেন তাঁদের বাড়ির সামনে রাস্তা তৈরির দাবিপত্র নিয়ে।

বহু লোক মোবাইলে ছবি তুললেন, অথছ কেউ সাহায্যে এগিয়ে এলেন না।
শেষ আপডেট: 24 July 2025 18:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোখে জল এনে দেওয়া দৃশ্যের সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশের আজমগড় জেলাশাসকের অফিস। প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তি তাঁর প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে পিঠে নিয়ে হাঁটু ও হাতে ভর দিয়ে সরকারি দফতরে এলেন তাঁদের বাড়ির সামনে রাস্তা তৈরির দাবিপত্র নিয়ে। দুঃসহ গরমে যখন চাঁদি ফেটে যাচ্ছে, তখন খালি পায়ে একটুকরো কাপড়ের উপর চার হাত-পা রেখে স্ত্রীকে পিঠের উপর শোওয়ানো অবস্থায় এলেন জেলাশাসকের অফিসে। তাই দেখে অনেকে দূর থেকে আহাতুতু করলেন, বহু লোক মোবাইলে ছবি তুললেন, অথছ কেউ সাহায্যে এগিয়ে এলেন না। এমনকী সরকারি কর্মীরাও তাঁদের সাহায্যের হাত না বাড়িয়ে দেওয়ায় প্রবল ধিক্কারে সরব হয়েছে নেটপাড়া।
আজমগড়ের জাহানাগঞ্জ থানা এলাকার কুঞ্জি গ্রামের বাসিন্দা অশোক। তাঁর বাড়ির সামনে যাতায়াতের জন্য কোনও রাস্তা নেই। বারবার স্থানীয় পঞ্চায়েত, প্রশাসনে জানিয়েও কোনও ফল হয়নি। এরপরেই তিনি মনস্থির করেন যে, নিজে প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও আরেক প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে পিঠে করে জেলাশাসকের দরবারে দাবিপত্র নিয়ে যাবেন। তাতে যদি কাজের কাজ কিছু হয়।
কথায় কথায় অশোক জানান, গ্রামের রাস্তা থেকে তাঁর বাড়ি যাওয়ার কোনও রাস্তা নেই। ফলে বর্ষার সময় জলকাদা পেরিয়ে তাঁদের যাতায়াত করতে হয়। সাধারণ মানুষ হলে তাও কথা ছিল, কিন্তু তাঁরা দুজনেই বিশেষভাবে সক্ষম বলে সেই যাত্রাপথ সাংঘাতিক কষ্টসাধ্য বলে দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি। দম্পতি বলেন, এখন ওই এলাকায় জমির পুনর্বিন্যাসের কাজ চলছে। সে কারণে এখন যদি একটা রাস্তা বের করার চেষ্টা হয়, তাহলে বিশেষ উপকৃত হবেন।
घिसट-घिसटकर चलता लोकतंत्र..
हाथ-पैरों से लाचार पत्नी को कंधे पर लादकर घिसटते हुआ कलेक्टर साहब के दफ्तर पहुंचे युवक का वीडियो पूरे सिस्टम की कड़वी तस्वीर दिखा रहा है.. युवक आजमगढ़ का है.. उसका नाम अशोक कुमार है.. युवक और उसकी पत्नी दिव्यांग हैं..
दिव्यांग दंपति जहानागंज थाना… pic.twitter.com/3aLptFSUdF
— Vivek K. Tripathi (@meevkt) July 23, 2025
তিনি আরও জেলাশাসকের দফতরে এই প্রথমবার তিনি আসেননি। এর আগেও এসেছেন, কিন্ত কোনও সাড়া মেলেনি। তাঁর এই মর্মান্তিক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরেই টনক নড়েছে প্রশাসনের। এক আধিকারিক জানান, জমি পুনর্বিন্যাসের কাজের মধ্যে যদি আইনে থাকে, তাহলে সম্ভব হলে তাঁর বাড়ির দরজা পর্যন্ত একটি সরু পথ করে দেওয়া হবে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই দিব্যাঙ্গ দম্পতির জন্য রাস্তা তৈরি করে দেওয়ার জোরাল দাবি উঠেছে। একজন লিখেছেন, এদেশে রাস্তা সবসময় প্রাসাদে গিয়ে মেশে। অথচ একজন শুধু সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকতে একটি পথের জন্য ভিক্ষা করে বেড়াচ্ছেন।
সাংবাদিক পীযূষ রাই এক আপডেটে শেয়ার করেছেন। তাতে জানা গিয়েছে, এই দম্পতির একটি তিনচাকার সাইকেল রয়েছে। যেটির চার্জ ফুরিয়ে গিয়েছিল। এদিকে, জেলাশাসকের অফিসে এ ধরনের নাগরিকদের ব্যবহারের জন্য কোনও হুইলচেয়ারও নেই। ফলে দফতরের সিঁড়ি ভেঙে উপরে ওঠা চত্বরে পৌঁছতে অশোকের এছাড়া কোনও উপায় ছিল না।