করোনা ও সীমান্ত দ্বন্দ্বের পর অবশেষে ফের স্বাভাবিক হচ্ছে ভারত-চিন আকাশপথ। ২৬ অক্টোবর থেকে কলকাতা থেকে সরাসরি গুয়াংজু ফ্লাইট চালু করবে ইন্ডিগো।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 October 2025 17:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন করে খুলতে চলেছে ভারত-চিন আকাশপথ। কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের ঘোষণা অনুযায়ী, এ মাসের শেষ দিক থেকে ভারত ও মূল ভূখণ্ড চিনের মধ্যে ফের চালু হতে চলেছে সরাসরি বিমান পরিষেবা।
আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইন্ডিগো জানিয়েছে, আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে কলকাতা থেকে গুয়াংজু পর্যন্ত দৈনিক ফ্লাইট চালানো হবে। এর পরে দিল্লি থেকেও গুয়াংজুর জন্য সরাসরি ফ্লাইট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এ বছর শেষ হওয়ার আগেই এয়ার ইন্ডিয়াও দিল্লি-সাংহাইয়ের মধ্যে সরাসরি বিমান চালুর পরিকল্পনা করছে। তবে সংস্থার তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা হয়নি। করোনা অতিমারির আগে ভারত ও মূল ভূখণ্ড চিনের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালাত ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়াই।
২০২০ সালের গোড়ার দিকে যখন কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ায় বন্ধ হয়ে যায় সরাসরি যোগাযোগ। পরে বিশ্বজুড়ে বিমান পরিষেবা প্রায় স্বাভাবিক হলেও, লাদাখ সীমান্ত সংঘাত ও পরবর্তী সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির জেরে এতদিন এদেশ থেকে সরাসরি পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি। ফলে যাত্রীদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হাব হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছিল, যার ফলে বাড়ছিল খরচ ও যাত্রাসময়।
অসমারিক বিমান পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, ভারত ও চিনের মধ্যে সরাসরি বিমান চালুর জন্য প্রবল চাহিদা রয়েছে। দুই দেশের এয়ারলাইনই তাই দীর্ঘদিন ধরেই পরিষেবা ফের শুরুর চেষ্টা চালাচ্ছিল।
ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্স বলেন, 'চিনে সরাসরি বিমান চালুর এই পদক্ষেপ আমাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করবে। ব্যবসা, বাণিজ্য ও পর্যটন—সব ক্ষেত্রেই এর সুবিধা মিলবে।' কলকাতা-গুয়াংজু রুটের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে আজ অর্থাৎ ৩ অক্টোবর থেকে।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, আগামী শীতকালীন সূচি অনুযায়ী (২৬ অক্টোবর থেকে) নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ভারত-চিন সরাসরি বিমান পরিষেবা ফের চালু করা যাবে। গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলছিল। চলতি বছরেই দিল্লি সফরে এসে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই জানিয়েছিলেন, সরাসরি বিমান পরিষেবা দ্রুত শুরু করা হবে। সেই সঙ্গে ভিসা সরলীকরণ নিয়েও দুই দেশ একমত হয়। বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রির জানুয়ারির চিন সফরেও এই বিষয়ে আলোচনা হয় এবং নীতিগত সম্মতি মেলে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দুই দেশের মধ্যে মাসে ৫৩৯টি সরাসরি ফ্লাইট চলত, যার মধ্যে ৭০ শতাংশই চালাত চিনা এয়ারলাইনগুলি। তবে এবার ফের চালু হলে ভারতীয় এয়ারলাইনও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এয়ার ইন্ডিয়া এখন বেসরকারি হাতে চলে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক রুটে বিস্তারের পরিকল্পনা নিয়েছে। ইন্ডিগোও ঘরোয়া বাজারের বাইরে আন্তর্জাতিক রুটে জোর দিচ্ছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, ফের শুরু হলে ভারত-চিন আকাশপথের প্রতিযোগিতা আগের মতো একপেশে থাকবে না।