পেনশন প্রাপক যে বেঁচে রয়েছেন তার প্রমাণ দিতেই প্রতি বছর নভেম্বরে তাঁদের জমা দিতে হয় এই লাইফ সার্টিফিকেট। না হলে ডিসেম্বর থেকে পেনশন স্থগিত হয়ে যায় যতক্ষণ না তিনি সেই আবেদনপত্র জমা দিচ্ছেন।

মোবাইলের মাধ্যমেই জমা দিন লাইফ সার্টিফিকেট। ছবি: এআই।
শেষ আপডেট: 31 October 2025 19:49
নভেম্বর মাস পেনশন প্রাপকদের কাছে আলাদা ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ১ নভেম্বর থেকেই শুরু হয় তাঁদের লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া। কিন্তু বয়সজনিত বা অন্যান্য শারীরিক কারণে অনেকেই ব্যাঙ্কে যেতে পারেন না। এমনিতে যথাযথ প্রমাণ (যেমন ডাক্তারের সার্টিফিকেট) দিলে ব্যাঙ্কের শাখা থেকে কর্মী বাড়িতে এসে পেনশন ভোক্তাকে চাক্ষুষ করে লাইফ সার্টিফিকেটের আবেদন জমা নেন। তবে আধার ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁদের ঘরে বসেই সেই প্রমাণ দেওয়ার জন্য বিশেষ সুবিধা চালু হয়েছে।
এখন মোবাইলের জগৎ। তবে এই সুবিধা পেতে হলে আগেকার মতো যে কোনও (অর্থাৎ, ফিচার) মোবাইল ফোন হলে হবে না। দরকার পড়বে একটি স্মার্টফোনের। সেটি দিয়ে শুধুমাত্র একজন নন, একাধিক পেনশন গ্রাহকের লাইফ সার্টিফিকেটও ডিজিটালি জমা দেওয়া যাবে।
পেনশন প্রাপক যে বেঁচে রয়েছেন তার প্রমাণ দিতেই প্রতি বছর নভেম্বরে তাঁদের জমা দিতে হয় এই লাইফ সার্টিফিকেট। না হলে ডিসেম্বর থেকে পেনশন স্থগিত হয়ে যায় যতক্ষণ না তিনি সেই আবেদনপত্র জমা দিচ্ছেন। আধার এবং ব্যাঙ্কিং মহল সূত্রের খবর, যে সমস্ত পেনশন গ্রাহক ব্যাঙ্কের মাধ্যমে পেনশন পান, তাঁরা সকলেই এই ডিজিটাল পদ্ধতির সুযোগ নিতে পারবেন। অনেকেরই অফিস সংশ্লিষ্ট ট্রেজারির মাধ্যমে হয়। সব ট্রেজারি এখনও ওই আধার ও কেন্দ্রীয় পেনশন বিভাগের অ্যাপ-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দেয়নি। ফলে সেই সব পেনশন প্রাপকেরা এই ডিজিটাল ব্যবস্থার সুযোগ আপাতত পাবেন না।
আধার কর্তৃপক্ষ (UIDAI) সুত্রের খবর, কেন্দ্রের ডিপার্টমেন্ট অব পেনশন অ্যান্ড পেনশনার্স ওয়েলফেয়ার এমন একটি আধার ভিত্তিক জিডিটাল ব্যবস্থা গড়ার জন্য ইউআইডিএআই-কে বলেছিল। তারই ফলে পেনশন গ্রাহকের তৎক্ষণাৎ (live) মুখের ছবির ভিত্তিতে লাইফ সার্টিফিকেট ঘরে বসেই দেওয়ার ওই পরিকঠামো বা ব্যবস্থা তৈরি হয়।
এক বার দেখে নেওয়া যাক কী ভাবে এই প্রক্রিয়াটি করতে হবে।
আধার কর্তৃপক্ষের ভিডিওতে সবটা দেখে নিন।
ঘরে বসে স্মার্টফোন দিয়ে আধারের মাধ্যমে ব্যাঙ্কে ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেটের আবেদন জমা দিন। লাইন দিতে হবে না ব্যাঙ্কে। অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই সেরে ফেলতে পারেন কাজটি। ভিডিও সৌজন্যে: ইউডিএআই।#addharcard #digitalindia #digitalart #netbanking #thewallnews pic.twitter.com/HH7fXIwMR6
— The Wall (@TheWallTweets) October 31, 2025
প্রথমত, পেনশন প্রাপকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত (linked) থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রাপকের আধারের সঙ্গে তাঁর মোবাইল নম্বর অবশ্যই যুক্ত (linked) থাকতে হবে। সেটি অবশ্য স্মার্টফোন না হলেও চলবে। কারণ যে কোনও মোবাইল ফোনেই ওটিপি (OTP) আসে। এবং সেটি এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য এবং সঠিক প্রাপকেরই যাবতীয় তথ্য যে দেওয়া হচ্ছে তার প্রমাণের জন্য অবশ্যই দরকার হবে।
যে কোনও স্মার্টফোনের গুগল প্লে স্টোর থেকে প্রথমে ইউআইডিএ-রই AadhaarFaceRD অ্যাপ-টি নামাতে (ডাউনলোড) হবে। একই ভাবে প্লে স্টোর থেকে ন্যাশনাল ইনফরমেটিকস সেন্টারের (এনআইসি) JeevanPramaan অ্যাপ-টি নামান। এবারে ওই জীবনপ্রমাণ অ্যাপটি খুলে পর্দায় ভেসে ওঠা স্ক্রিনে আপনার আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল আইডি লিখুন। এরপর আপনার যে মোবাইল নম্বরের সঙ্গে আধার যুক্ত আছে, সেটিতে একটি ওটিপি আসবে। এখানে বলে রাখা ভাল যে, যদি আপনি আপনার সেই মোবাইল থেকেই এই প্রক্রিয়াটি করেন, তাহলে সেখানেই ওটপি-টি যাবে। আর যদি অন্য স্মার্টফোনের মাধ্যমে এই লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেন তাহলে আপনার আধার যুক্তি করা অন্য মোবাইলে ওটিপি যাবে।
এ বার ওটিপি-টি ওই স্মার্টফোনটিতে সাবমিট করা বা লেখার পরেই ফোনের পর্দায় সেল্ফি ক্যামেরা নিজে থেকেই খুলে যাবে। দেখবেন আপনার ছবি তোলার জন্য নির্দেশ (যেমন বলবে ব্লিঙ্ক করতে, অর্থাৎ, আপনি চোখটা একবার খোলা বন্ধ করলে বোঝা যাবে যে এটি আপনার সেই মুহূর্তের বা তাৎক্ষণিক ছবি। অর্থাৎ কেউ মৃত কোনও পেনশন প্রাপকের ছবি দিয়ে বেআইনি ভাবে পেনশন চালু জন্য এ ভাবে লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিয়ে প্রতারণা করতে পারবে না। বস্তুত, সঠিক লোকেরই ছবি তোলা হচ্ছে কিনা, ওটিপি ও তাঁর লাইভ ছবি তুলে যাচাই (ফেস অথেন্টিকেশন) করাই আধার কর্তৃপক্ষের এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। আঙুলের ছাপ অনেক ভাবে চুরি করে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ. কিন্তু এ ভাবে কারও লাইভ ছবি তুলে তথ্য যাচাইয়ের সেই আশঙ্কা প্রায় নেই বললেই চলে, দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।
এ ভাবে সঠিক ও জীবিত পেনশন প্রাপকের চেহারা যাচাই করার পরেই এ বারে আপনার পেনশন যাচাইয়ের নতুন একটি স্ক্রিন পর্দায় ভেসে উঠবে। সেখানে পেনশন প্রাপক, অর্থাৎ আপনার নাম, পেনশনের টাইপ বা ধরন, পিপিও (PPO) নম্বর, ব্যাঙ্কের পেনশনের অ্যাকাউন্ট নম্বর ইত্যাদি দিতে হবে। তারপর যে কোনও প্রক্রিয়া বা লেনদের করার জন্য যেমন সম্মতি দিতে হয়, দিতে হবে। তা দেওয়ার পরে আবার আপনার জীবিত থাকার প্রমাণ হিসেবে একই ভাবে চেহারার ছবি যাচাই করতে বলবে। তা সম্পূর্ণ হলেই ফোনে চলে আসবে আপনার ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট। ব্যাঙ্কে আর যেতেই হবে না। আপনি ঘরে বসেই পরিবারের অন্য পেনশন প্রাপকদেরও একই ভাবে ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকট জমা দিয়ে সেটি পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারবেন।
স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া সূত্রের দাবি, তাঁদের সব পেনশন গ্রাহকের ক্ষেত্রেই এই ব্যবস্থা চালু হযেছে। ব্যাঙ্কিং মহল সূত্রের খবর, অন্যান্য ব্যাঙ্কের পেনশন গ্রাহকেরাও ঘরে বসেই এই পরিষেবার সুবিধা নিতে পারবেন।
এখানে বলে রাখা ভাল যে, সম্মতি দেওয়ার কারণ হল, এটি হল আপনি কেন্দ্রীয় বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রককে আপনার ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেটের জন্য আপনারই আধার নম্বর, বায়োমেট্রিক তথ্য (যেমন ছবি) ইউআইডিআই-এর কাছ থেকে যাচাই করার জন্য অনুমতি দিচ্ছেন। সেখানে স্পষ্টই বলে দেওয়া আছে যে আপনার সেই সব তথ্য ওই মন্ত্রক বা এনআইসি কোনও ভাবে নিজেদের কাছে জমা রাখবে না। বস্তুত, এ ভাবে যে কোনও আধার তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রেই প্রক্রিয়াটি হল আধার তথ্য ভান্ডারের কাছে যে তথ্য যাবে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আধার তথ্য মিলছে কিনা, ইউআইডএআই শুধুমাত্র সেটি হ্যাঁ বা না-তে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে জানিয়ে দেবে। কিন্তু কোনও ভাবেই আদার তথ্য ভান্ডার থেকে আপনার কোনও তথ্য আসবে না।
সবশেষে বলি, বাজারে বিভিন্ন অ্যাপের মাধমে প্রতারণা বা জালিয়াতির অভিযোগ নিত্য শোনা যায়। তাই সঠিক অ্যাপ নামাচ্ছেন কিনা, এই লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার জন্য ব্যাঙ্কের আলাদা করে আদৌ কোনও অ্যাপ বা পরিষেবা রয়েছে কি না তা ভালো করে জেনে বা দেখে নেবেন। প্রয়োজন হলে ইউআইডিএআই-এর দফতর অথবা আপনার ব্যাঙ্কে ফোন করেও যোগাযোগ করে নিতে পারেন।
(ভিডিও ইউডিএআই সূত্রে পাওয়া।)