Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

ডিজিটাল ইন্ডিয়াতে নেই মোবাইল পরিষেবাই, বেসরকারিদের পিছনে ফেলে হাল ধরছে বিএসএনএল

ডিজিটাল ইন্ডিয়াতেও বহু সাইলেন্স জোনে নেই মোবাইল নেটওয়ার্ক। বেসরকারি সংস্থারা পিছু হটলেও, বিএসএনএল এবার ১৯টি জায়গায় আনছে দেশীয় প্রযুক্তির ৪জি পরিষেবা।

ডিজিটাল ইন্ডিয়াতে নেই মোবাইল পরিষেবাই, বেসরকারিদের পিছনে ফেলে হাল ধরছে বিএসএনএল

পশ্চিম মেদিনীপুরের পিটুনিয়ায় তাঁদের ৪জি পরিষেবা নিয়ে প্রচার করছেন সংস্থাটির কর্মীরা

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 25 September 2025 00:22

দেবপ্রিয় সেনগুপ্ত

নৈঃশব্দ। মোবাইল ফোনের। এই ২০২৫ সালেও!

দেশে তিরিশ বছর আগে মোবাইল ফোনের পরিষেবা চালু হলেও এখনও পশ্চিমবঙ্গ সহ ডিজিটাল ইন্ডিয়া-র (Digital India) বহু জায়গাতেই পৌঁছয়নি এই প্রযুক্তি! একটা কারণ অবশ্য প্রাকৃতিক ভাবে কোনও এলাকা হয়ত প্রতিকূল। আর অন্যটা হল স্রেফ ব্যবসায়িক। সেই সব প্রান্তিক এলাকায় উপযুক্ত কাঠামো গড়ে পরিষেবা ব্যবসা চালানোর খরচ লাভজনক নয় বলে মূলত বেসরকারি সংস্থাগুলি সেই সব জায়গায় পা রাখতে চায় না। এরকমই এ রাজ্যের ১৯টি জায়গা সহ দেশের বেশ কিছু এলাকায় এ বারে ৪জি পরিষেবা চালু করতে চলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিএসএনএল। তা-ও একেবারে তাদের নতুন পরিষেবা ৪জি দিয়েই। তার মহড়াও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী সেদিন রাজ্যের এমন ১৯টি জায়গাতেও মোবাইল পরিষেবার (৪জি) উদ্বোধন করবেন।

ক্যালকাটা টেলিফোন্স শাখা প্রায় ১৮৭০টি এবং পশ্চিমবঙ্গ সার্কল ২০০০-এরও বেশি ৪জি টাওয়ার ইতিমধ্যেই বসিয়েছে। আগামী দিনে প্রয়োজন মতো আরও টাওয়ার চালু হওয়ার কথা।

আগামী ২৭ তারিখ, ওড়িশার বহরমপুর থেকে শনিবার দেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে ৪জি পরিষেবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বেসরকারি সংস্থাগুলি যখন ৫জি পরিষেবা নিয়ে দৌড় শুরু করে দিয়েছে, তখন গত প্রায় তিন-চার বছর ধরে বিএসএনএলের ৪জি প্রযুক্তি নিয়ে নানা টালবাহানার অভিযোগ উঠেছে। বছর দুয়েকের পরীক্ষামূলক পদক্ষেপের পরে অবশেষে কেন্দ্রীয় গবেষণা সংস্থা সি-ডট এবং টাটা গোষ্ঠীর সংস্থা টিসিএস এবং তেজস সম্পূর্ণ ভাবে দেশীয় ৪জি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির সব সার্কল বা শাখাতেই (কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গ) অল্প বিস্তর সেই পরিষেবা পরীক্ষামূলক ভাবে চালু হয়েছে।

কিন্তু দেশের সব নাগরিক এতটা ভাগ্যবান নন। যেখানে বেসরকারি সংস্থাগুলি ৪জি প্রযুক্তিতে (সবই বিদেশি প্রযুক্তি নির্ভর যন্ত্র) বিপুল গতির ইন্টারনেট দিয়ে আমজনতার হাতের মুঠোয় গোটা দুনিয়াকে হাজির করছে, তখনও দেশের অনেক জায়গাতেই এখনও মোবইল পরিষেবাই নেই। ইন্টারনেট তো দূরের কথা, কথা বলা বা এসএমএস করার সুবিধাও পান না সেখানকার বাসিন্দারা। সেগুলিকে বলা যেতে পারে সাইলেন্স জ়োন।

বিএসএনএল সূত্রের খবর, বৃহত্তর কলকাতায় (কেএমডিএ) সব রকম পরিষেবা দেয় সংস্থাটির ক্যালকাটা টেলিফোন্স সার্কল। তাদের অধীনে ওই রকম এলাকা কার্যত নেই। তবে রাজ্যের বাকি  অন্য শাখা পশ্চিমবঙ্গ সার্কলে এমন অনেক জায়গা ও গ্রাম রয়েছে। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী সেদিন রাজ্যের এমন ১৯টি জায়গাতেও মোবাইল পরিষেবা (৪জি) উদ্বোধন করবেন।

এমনিতে সেদিন ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে মোদীর অনুষ্ঠান প্রচার হবে বিএসএনএলের প্রতিটি সার্কলের চিহ্নিত করা তাদের বিভিন্ন দফতরে। তবে বেশিরভাগই হবে এক তরফা। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। কিন্তু এর মধ্যে পুরুলিয়ার বাগমুন্ডির সুসনিডি এবং জলপাইগুড়ির ডিচাভাঙার মাতিয়ালি গ্রামে উভয় তরফের যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকবে। অর্থাৎ, মোদী চাইলে সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা, মোবাইল গ্রাহক বা সংস্থার কর্তা-কর্মীরা, উভয় পক্ষই একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। সেই সব জায়গাগুলিতে এখন থেকেই ৪জি সিম বিক্রি করতে উদ্যোগী হচ্ছে বিএসএনএলের বিভিন্ন সার্কল। যেমন পশ্চিম মেদিনীপুরের পিটুনিয়া ১ এবং পিটুনিয়া ২ গ্রামে এর মধ্যেই সিম বিক্রি ও প্রচার চালিয়েছে সংস্থাটি। বাকি ১৮টিতেও পর্যায়ক্রমে তা শুরু হচ্ছে।

এমন সাইলেন্স জ়োনগুলিতেও যাতে সকলের কাছে টেলকম পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যায়, সে জন্য ১৯৯৯ সালে দেশের টেলিকম নীতিতে সে কথা বলা হয়। ২০০৩ সালে আইন সংশোধনের সময়ে এ জন্য বিশেষ তহবিল (USOF  বা Universal Service Obligation Fund)  গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়, যেটিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি টেলিকম সংস্থাগুলিরও অর্থ দেওয়া কথা। সাধ্যের মধ্যে সেই সব প্রান্তিক মানুষদের কাছে টেলিকম পরিষেবা পৌঁছনোর পরিকাঠামোর খরচের একাংশ এই তহবিল থেকে দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট টেলিকম সংস্থাকে। বিএসএনএলের পাশাপাশি বেসরকারি টেলিকম সংস্থাও এই প্রকল্প রূপায়ন করে ঠিকই কিন্তু সংশ্লিষ্ট মহলর অভিযোগ, বেসরকারি ক্ষেত্রের যতটা আগ্রহ দেখানো জরুরি, তারা ততটা উদ্যোগী হয় না। যদিও বেসরকারি সংস্থাগুলির পাল্টা দাবি, তারা এই নিয়ম মেনে যতটা কাজ করা দরকার ততচাই করে থাকে।

তবে এখনও যে দেশের বহু জায়গাতেই এই পরিষেবা পৌঁছয়নি, তা বিএসএনএলের (তারাও সব জায়গায় নেই) ৪জি পরিষেবা চালু করা থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে।


```