তুরস্কের সরকারের ‘ডিরেক্টরেট অব কমিউনিকেশনস’-এর অধীনস্থ ডিসইনফর্মেশন কাউন্টারিং সেন্টার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে তুরস্ক-ভারত সম্পর্ককে কলুষিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

এয়ার ইন্ডিয়ার ধ্বংসাবশেষ
শেষ আপডেট: 15 June 2025 13:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় (Air India Plane Crash) তাদের কোনও রকম ভূমিকা নেই, জানিয়ে দিল তুরস্ক (Turkey)। আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক দাবিতে বলা হয়, বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার বোইং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটির রক্ষণাবেক্ষণ করেছিল তুরস্কের সংস্থা ‘টার্কিশ টেকনিক’। এবার সেই দাবি স্পষ্টভাবে খণ্ডন করল তুরস্ক সরকার।
তুরস্কের সরকারের ‘ডিরেক্টরেট অব কমিউনিকেশনস’-এর অধীনস্থ ডিসইনফর্মেশন কাউন্টারিং সেন্টার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে তুরস্ক-ভারত সম্পর্ককে কলুষিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
বৃহস্পতিবার আমদাবাদ (Ahmedabad Plane Crash) থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়া ১৭১ নম্বর বিমানটি উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনায় ২৪১ জন যাত্রী-ক্রু এবং মাটিতে থাকা আরও কয়েকজন প্রাণ হারান। মাত্র একজন যাত্রী প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। যিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই দুর্ঘটনার পরপরই একটি দাবি সামনে আসে, যেখানে বলা হয়—বোইং ৭৮৭-৮ বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণ নাকি করেছিল তুরস্কের টার্কিশ টেকনিক। যা নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা।
তুরস্কের সাফ দাবি, কোনও দিন এই ধরনের বিমান ছুঁয়েও দেখেনি টার্কিশ টেকনিক। বিবৃতিতে তুরস্ক জানায়, “এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে টার্কিশ টেকনিকের যে চুক্তি রয়েছে, তা শুধুমাত্র বি৭৭৭ সিরিজের বিমানের জন্য। বোইং ৭৮৭-৮ সেই চুক্তির আওতায় পড়ে না। এখনও পর্যন্ত ওই ধরনের কোনও বিমান রক্ষণাবেক্ষণ করেনি আমাদের সংস্থা।”
তুরস্ক আরও জানায়, তারা জানে কোন সংস্থা শেষবার এই বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণ করেছিল, কিন্তু "অনর্থক জল্পনা এড়াতে" তারা সেই তথ্য এখনও প্রকাশ করবে না।
পূর্বঘটনার প্রেক্ষিতে তুরস্ককে নিয়ে সতর্ক ভারত
এর আগে ১৫ মে, তুরস্কের সংস্থা ‘সেলেবি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’-এর নিরাপত্তা ছাড়পত্র ভারত সরকার বাতিল করে। কারণ, পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে তুরস্ক প্রকাশ্যে ভারতের 'অপারেশন সিন্দুর'-এর বিরোধিতা করেছিল। এমনকি, ৮ মে ভারতের দিকে যে ড্রোনগুলো ছোড়া হয়েছিল, তার অনেকগুলোই ছিল তুরস্কে তৈরি, যার মধ্যে অন্যতম Bayraktar TB2।
এই ঘটনা ঘিরে তখন ভারতজুড়ে তুরস্কের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়। বহু ভারতীয় পর্যটক তুরস্ক সফরের পরিকল্পনা বাতিল করেন।
এমন পরিস্থিতিতে তুরস্ক জানিয়েছে, ভারতের শোকে তারাও শোকাহত। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ভারতের পাশে আছি আমরা। তুরস্কের পক্ষ থেকে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি।”