Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: ভাগ্যিস আইপিএলে অবনমন নেই! নয়তো এতক্ষণে রেলিগেশন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিত কেকেআর TCS Scandal: যৌন হেনস্থা, ধর্মান্তরে চাপ! নাসিকের টিসিএসকাণ্ডে মালয়েশিয়া-যোগে আরও ঘনাল রহস্যক্যান্ডিডেটস জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে গুকেশের মুখোমুখি সিন্দারভ, ড্র করেও খেতাবের লড়াইয়ে বৈশালীIPL 2026: চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে হেরে টেবিলের তলানিতে কেকেআর! গুরুতর বদলের ইঙ্গিত রাহানের নববর্ষের 'শুভনন্দন'-এও মুখ্যমন্ত্রীর SIR তোপ! বাংলায় পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীরইরানের সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে‌ দেওয়া হয়েছে, দাবি আমেরিকার, চিন্তা ইরানি ল্যান্ডমাইনও Poila Baisakh: দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, নববর্ষে অগণিত ভক্তের ভিড়, পুজো দিতে লম্বা লাইনপয়লা বৈশাখেই কালবৈশাখীর দুর্যোগ! মাটি হতে পারে বেরনোর প্ল্যান, কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাসমেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মঘাতী মহিলা! বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে জোড়া মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য UCL: চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পিএসজি-আতলেতিকো, ছিটকে গেল বার্সা-লিভারপুল

নেলভিন ভাইয়ের বাক্সেই শেষশয্যা! ভুজ ভূমিকম্প বা বিমান দুর্ঘটনা, বিপর্যয়ের কফিন-কারিগর তিনি

শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ ফোন পান গুজরাতের ভদোদরার বাসিন্দা নেলভিন ভাই রাজবাদি। ফোনের ওপারে ছিলেন এয়ার ইন্ডিয়ার এক আধিকারিক। অনুরোধ—অবিলম্বে ১০০টি কফিন তৈরি করে পাঠাতে হবে আমদাবাদ সিভিল হাসপাতালে।

নেলভিন ভাইয়ের বাক্সেই শেষশয্যা! ভুজ ভূমিকম্প বা বিমান দুর্ঘটনা, বিপর্যয়ের কফিন-কারিগর তিনি

কফিন তৈরিতে ব্যাস্ত নেলভিন

শেষ আপডেট: 15 June 2025 12:41

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন এক নিঃশব্দ যুদ্ধ। একরাশ দুঃখ, একরাশ দায়িত্ব। আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার (Air India Plane Crash) পর শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ ফোন পান গুজরাতের ভদোদরার বাসিন্দা নেলভিন ভাই রাজবাদি (Nelvin Bhai Rajwadi)। ফোনের ওপারে ছিলেন এয়ার ইন্ডিয়ার এক আধিকারিক। অনুরোধ—অবিলম্বে ১০০টি কফিন তৈরি করে পাঠাতে হবে আমদাবাদ সিভিল হাসপাতালে।

নেলভিন থমকে যান। এত বড় অর্ডার একসঙ্গে আগে খুব কমই পেয়েছেন। শেষবার এমন হয়েছিল ২০০১ সালের ভয়াবহ ভুজ ভূমিকম্পের (bhuj earthquake) সময়।

'না' বলা যায় না
৬০ বছরের নেলভিন তখন ফতেহগঞ্জে শতবর্ষী মেথডিস্ট চার্চ কমপ্লেক্সে কফিন তৈরি করছিলেন। সঙ্গে ছিলেন পরিবারের সদস্য ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের আরও ১৫ জন। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে কাজ করতে করতেই নেলভিন জানান, “আমি কিছুতেই 'না' বলতে পারিনি। দেশের জন্যই তো এই কাজ। দুর্ঘটনায় কত শিশুর মৃত্যু হয়েছে।”  

রাতভর লড়াই
বিমান সংস্থার আধিকারিকের ফোন পাওয়ার মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে প্লাইউড, সাদা কাপড় আর কফিন তৈরির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোগাড় করে ফেলেন নেলভিনরা। শুক্রবার রাতেই শুরু হয়ে যায় কাজ। শনিবার রাত ১০টা নাগাদ প্রথম দফায় ৩৫টি কফিন ট্রাকে তুলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় আমদাবাদে। প্রতিটি কফিন বানাতে সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা।

এটাই তো আমার দেশসেবা
নেলভিন জানিয়েছেন, “আমরা সবাই একজোট হয়ে রাতভর কাজ করেছি। প্রশাসনকে সহযোগিতা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। আমরা গোটা ব্যাপারটাকেই দেশসেবার মতো করে দেখছি।”

যেখানে একটি কফিন বানাতে সাধারণত খরচ পড়ে ৬,০০০ টাকা, সেখানে বিমান দুর্ঘটনার মতো ভয়াবহ সময়ে নেলভিন তাঁর বানানো প্রতি কফিনের দাম রেখেছেন মাত্র ৩,০০০ টাকা।

নেলভিনের পুত্রবধূ ব্রিনা রাজবাদি জানিয়েছেন, “বিমান দুর্ঘটনার খবর শুনেই বুঝেছিলাম, বাবার কাছে (শ্বশুর) ফোন আসবে। আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না, কিন্তু দায়িত্ব নিয়েই কাজ শুরু করি।” নেলভিনের ছেলে অর্ণিশ, গোটা পরিবার ও চার্চের সকলে মিলে রাতভর কাজ চালিয়ে তৈরি করতে থাকেন একের পর এক কফিন।

স্মৃতিতে ভূমিকম্পের দিন

প্রায় দু’দশক আগের ঘটনা। তীব্র ভূমিকম্পে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল চারিদিক। সবমিলিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৩ হাজার থেকে ২০ হাজার মানুষ। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সেই ভয়াবহ, যন্ত্রণাময় স্মৃতিই যেন চাগাড় দিয়ে উঠেছে নেলভিনের মনে।

কাজ করতে করতেই তিনি জানিয়েছেন, “ভুজ ভূমিকম্পের সময়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে আমরা কফিন বানিয়েছিলাম। এবারও পরিস্থিতি ভয়াবহ। কিন্তু যত কঠিনই হোক, আমাদের কাজ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”

সঞ্জীব নামে নেলভিনের এক সহকর্মী বললেন, “কফিন বানানো কঠিন কাজ। কিন্তু সেটা কিছুই নয়, যতটা কঠিন মানসিক পরিস্থিতি তাঁদের, যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে ওড়ার মাত্র ৩৬ সেকেন্ডের মধ্যে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী এআই-১৭১ বিমান। ২৪২ জন যাত্রী ও কর্মীর মধ্যে বেঁচে ফিরেছেন মাত্র একজন। যিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিমানের ধাক্কায় উড়ে যায় স্থানীয় এক মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের হস্টেল। এখনও পর্যন্ত বহু মৃতদেহ এমনভাবে দগ্ধ যে শনাক্ত করতে হচ্ছে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে। যাঁদের শনাক্ত করা গিয়েছে, তাঁদের দেহ একে একে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 


```